মধুপুরের খবর

মধুপুর গড়ে গারো সম্প্রদায়ের জীবনগাথা-২ : প্রাকৃতিক শালবন ছিল বুনোখাদ্যের ভাণ্ডার 

মধুপুর গড়ের গারো সম্প্রদায়ের ভূমিজুড়ে এক সময় ছিল বুনোখাদ্যের সুবিশাল ভা-ার। এই খাদ্যই ছিল গোটা জনপদের জীবনধারণের মূলে। কিন্তু এখন আর সেদিন নেই। নানাভাবে প্রাকৃতিক বনকে ধ্বংস করায় বিলীন হয়ে গেছে অফুরন্ত খাদ্যসম্ভার। অবশিষ্ট যা আছে তাও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংস হচ্ছে।
খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, গারোরা যাকে থামান্দি বলে থাকেন তার অর্থ গারো আলু। গারোরাই শালবন থেকে সর্বপ্রথম এই আলুর সন্ধান পেয়েছিলেন। আর এজন্যই আলুর নাম গারো আলু। প্রাকৃতিক শালবনের মধুপুর, ঘাটাইল, শেরপুর, নেত্রকোনা, হালুয়াঘাটে এ আলু পাওয়া যেত। লালমাটির শালবনে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাত। এ আলু ছাড়াও বনের অভ্যন্তরে পাওয়া যেত বাহারি রকমের জানা ও নাম না জানা অনেক আলু। অরণ্যচারী আদিবাসী গারোরা বাস করতেন বনের আশপাশে। তাদের ছিল ছনের ছোট ঘর। মাচাং তুলে তারা থাকার জায়গা করতেন। ছাউনিতে বনের ছন আর বনের তারাই বাঁশ কিংবা ছোট ছোট সরু আকারের ছোট গাছ দিয়ে সুন্দরভাবে বানাতেন ঘর। খাবার সংকট হলেই গারো নারীরা (যাদের বাচ্চা আছে তারা) পিঠে বাচ্চা বেঁধে হাতে শাবল অথবা খন্তা, জুংগা ব্যাগ নিয়ে মনের আনন্দে মান্দি গান গাইতে গাইতে ঢুকে পড়তেন শালবনে। খুঁজে খুঁজে সন্ধান করতেন আলু। আধাবেলা আলু সংগ্রহ করলেই পরিবারের অন্নের জোগান হতো কয়েকদিনের।

প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে তাদের দেহমন থাকত সতেজ ও সুন্দর। খাদ্যের জন্যে তাদের ভাবতে হতো না। আলু শেষ হলেই আবার ছুটতেন বনে। এভাবে চলত তাদের খাবার জোগানের নিত্যদিনের পথচলা। বনের নিচু জায়গাকে স্থানীয়ভাবে বাইদ বলে অভিহিত করে থাকেন গারোরা। এইসব বাইদে ছিল প্রচুর ঝরণাধারা। ধান আবাদ ও খাবার পানি সংগ্রহ করতেন। হতো না তাদের পানিও জলের সংকট। তাদের উৎপাদিত ধানে চলে যেত সংসার। বনের সবজি ও লতাপাতায় হতো সবজি তরকারি। কিনতে হতো না শাক-সবজি। ছিল না বিষ কিংবা হরমোনের কারবার। ব্যবহার হতো না কীটনাশক। 
আলু সংগ্রহ বা তোলা এটা ছিল গারোদের সংস্কৃতির একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। মনের আনন্দে বা স্বাচ্ছন্দ্যে তারা তাদের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্য সংগ্রহ করতেন। আলু সিদ্ধ করে খেতেন। যা দারুণ সুস্বাদু ও মিষ্টি। পুষ্টিগুণে ছিল ভরপুর। তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ওয়ানগালায় ব্যবহার করতেন আলু। সালজং দেবতা বা শস্য দেবতাকে উৎসর্গ করতেন বনআলু। ধর্মীয় ও তাদের কৃষ্টি-কালচার-ঐতিহ্যে বনআলুর জুড়ি ছিল না। অতিথি কিংবা আত্মীয়-স্বজন এলে আপ্যায়নের জন্য সামনে দেয়া হতো তাদের নিজের শরীরের ঘামেঝরা সংগ্রহকৃত আলু। এখনও বিভিন্ন জাতের যৎসামান্য পাওয়া যায়। সেমিনার-সভাতে অতিথিদের আপ্যায়নেও দেয়া হয় বনআলু। অতিথিরা খেয়ে বেজায় খুশি হন।

বন এলাকার আদিবাসী গারোদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় মধুপুরের এই বনে ১০-১২ প্রজাতির আলু পাওয়া যেত। গাতি আলু, গারো আলু, পান আলু, গইজা আলু, দুধ আলু, শিমুল আলু, কাসাবা, ধারমচআলু। এসব আলু গারোদের সংস্কৃতি ও প্রিয় খাবারের মধ্যে অন্যতম।

অনেকেই আবার স্থানীয়ভাবে বিক্রি করে উপার্জন করতেন অর্থ। এই আলু দূরের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতেও পাঠানো হতো। বন ও আলুর বংশবিস্তার লাভের জন্য আলু সংগ্রহের পর গাছগুলো আবার মাটিতে পুঁতে দিতেন আদিবাসীরা। আবার গাছ বেড়ে উঠত। আলু গাছ শাল-গজারিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সঙ্গে লতার মতো জড়িয়ে থাকত। এ আলু ফাল্গুন-চৈত্রমাসে সবচেয়ে বেশি সংগ্রহ করা হতো। রোদে শুকিয়ে ঘরে তুলে রাখা হতো। বিপদে-আপদে কিংবা ঝড়বৃষ্টিতে দিনে খাওয়া হতো। তবে প্রাকৃতিক বন শেষ হওয়ায় এখন আর আগের মতো আলু পাওয়া যায় না।

শাক-সবজিও পাওয়া যেত প্রচুর পরিমাণে। কাইকলা গাছের পাতা শুটকি কিংবা ছোট মাছ দিয়ে রান্না করে খেত। খারপান লতা-পাতা পাওয়া যেত। ভর্তা করে খেতে সুস্বাদু। ভিটামিনও প্রচুর। লতাপাতা পাওয়া যেত। গাছের ফলেরও ছিল আধিক্য। আনাইগোটা নামের একটি ফল গাছ ছিল। গাছের ডালপালায় ব্যাপক পরিমাণে কাঁটাযুক্ত ছিল। বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ফলগুলো পেকে সাদা হয়ে থাকত। গারো আদিবাসীরা মনপ্রাণ উজাড় করে সংগ্রহ করে খেতেন। প্রাকৃতিকভাবে বাঙ্গি বা ফ্রুটি, কুমড়া, চালতা, তেওয়া, ডেফল, লাউ পাওয়া যেত। এছাড়াও তাদের সংস্কৃতির অংশ চু বা পানীয় তৈরির গাছগাছড়াও এ বন থেকে আহরণ করা হতো। আর এ পানীয় সামাজিক উৎসবে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে, অতিথি আপ্যায়নে, পূজাপার্বণে ব্যবহার করা হতো। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো মাশরুমের কোন অভাব ছিল না। মাশরুম গারোদের খাদ্য তালিকার মধ্যে জনপ্রিয় একটি। গড় এলাকায় হাওদা বিল, কামাইদাবিল, জুকাবিলসহ ক্ষীরনদী, বংশাই নদী ও বানার নদী রয়েছে। এছাড়াও বনের অভ্যন্তরে অনেক বাইদ ও বিল রয়েছে। এসব জলাশয় থেকে আদিবাসী গারো, কোচরা মাছ ও কুইচ্যা শিকার করতো। বিশেষ করে শীতকালে তারা মাছ ধরে ভালো করে ধুয়ে প্রক্রিয়াজাতের মতো করে পচিয়ে রেখে চ্যাপা (শুঁটকি) তৈরি করত। এ চ্যাপা খেতে অসাধারণ স্বাদ। আর অন্যান্য সময়ে মাছ ধরে খেত। এছাড়াও তাদের খাড়ি তৈরির শামুক বা চুচ্চুরু, কাকড়া আহরণ করতেন। ওটা নিজস্ব স্বকীয়তায় রান্না করে মজার সঙ্গে খেতেন। কিন্তু এখন বনের জলাশয় ও নদী ভরে যাওয়ার কারণে আগের মতো এসব খাদ্য পাওয়া যায় না।

বনে পাওয়া যেত খরগোশ। আমিষের উৎস হিসেবে খরগোশের মাংস ছিল অন্যতম। এছাড়াও আরও অনেক বন্যপ্রাণী ছিল যা এক সময় খেতেন আদিবাসীরা। বন মোরগ ও দেশীয় মুরগিও তারা খেতেন। যে সময় বিড়ি-সিগারেট ছিল না তখন ছিল পাতার বিড়ি। গাদিলা নামের এক ধরনের গাছের পাতা রোদে শুকিয়ে হাতে পেঁচিয়ে সুতা দিয়ে বেঁধে বানাতেন বিড়ি। একে বলা হতো গাদিলা পাতার বিড়ি। পরে স্থানীয় গারোসহ অন্যরা খেত এ পাতার বিড়ি। পাতার বিড়ি এখন আর গড় এলাকায় নেই। ভারতে এখনও এই পাতার বিড়ি পাওয়া যায়। এখন ওসব শুধুই গারো আদিবাসীদের স্মৃতি।

জানা গেছে, যখন মধুপুর বন ছিল অরণ্যে ঘেরা, প্রাকৃতিক মায়াময় ছায়াময়_ তখন এসব খাদ্যদ্রব্য, আলু ও অন্যান্য খাদ্যশস্য পাওয়া যেত। বিশেষ করে আশির দশকে প্রতিযোগিতা করে মধুপুর বনকে নিঃশেষ করতে নেমে উঠেন, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তি, বনবিভাগের অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং এলাকার কাঠচোররা। তখন থেকে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য মধুপুর বন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়। ৪৬ হাজার একরের বন এখন প্রায় ৭-১০ হাজার একরে এসে থেমেছে। বন উজাড়ের ফলে রাতারাতি বাড়তে থাকে বসতি, বাড়তে থাকে জবরদখল। চলে চাষাবাদ। এভাবে কয়েক বছর চলার পর শুরু হয় আরেক আগ্রাসী প্রক্রিয়া। বিদেশি প্রজাতির গাছ দ্বারা করা হয় সামাজিক বনায়ন। উজাড়কৃত বনভূমিতে বিদেশি প্রজাতির গাছ লাগানোয় স্থানীয় অংশীদাররা দেদার শেকড় ও মুথা তুলে ইটভাটায় দিয়ে শুরু করেন সামাজিক বনায়ন। নিশ্চিহ্ন হতে থাকে প্রাকৃতিক শালবনের স্মৃতিচিহ্ন। এভাবে বছরের পর বছর সামাজিক বনায়নে আদা-কচুর মতো কৃষি ফসল করতে গিয়ে একদিকে অংশীদাররা গড়েছেন অর্থনৈতিক ভিত্তি, অন্যদিকে মধুপুর চিরতরে হারাল তার ঐতিহ্য। বিদেশি প্রজাতির গাছ ভাবিয়ে তুলেছে প্রকৃতি ও পরিবেশকে। বিশাল অংশ থেকে বিদায় নিয়েছে বহু প্রজাতির আলু, সবজি, ফল-ফসল, গুল্মলতা-পাতা। এজন্য আদিবাসীরা হারাচ্ছে তাদের ঐতিহ্য, পাচ্ছে না প্রাকৃতিক খাবার।

আদিবাসী গারো নারী অঞ্জনা নকরেক বলেন, 'আমার বউ হিসেবে লালমাটির এ বন এলাকায় এসেছি প্রায় ২০ বছর ধরে। এসেও দেখলাম এ বনে নানা ধরনের আলু পাওয়া যেত। নানা ধরনের শাক-সবজি পাওয়া যেত। বন ধ্বংসের পর যখন রাতারাতি চাষাবাদ শুরু হলো তখন থেকে এসব আলু ও বন্য শাক-সবজি পাওয়া বন্ধ হতে লাগল। এখন কলা-আনারস চাষের ফলে আগের সেই সব খাদ্য আর পাওয়া যায় না। আদিবাসীরা তাদের প্রিয় খাবারগুলো সারাদিন বনে ঘুরেও আর সংগ্রহ করতে পারছে না।'

জলছত্র গ্রামের পপি (৪৫) বলেন, 'আমাদের বাড়ির চারপাশে আগে প্রচুর আলু পাওয়া যেত। আমরা বন থেকে আলু তুলে এনে খেতাম। একদিন আলু সংগ্রহ করলে কয়েক দিন খেতে পারতাম। আলুগুলো খেতেও ভারি স্বাদ ছিল। এখন বনও নেই আগের সেই আলুও নেই। প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর শাক ও সবজি পাওয়া যেত। আমরা হাট-বাজার থেকে বেশি সবজি কিনতাম না। বনের সংগ্রহকৃত সবজিই আমাদের খাবার হয়ে যেত। এজন্য আমাদের কোন চিন্তা করতে হতো না।'

জলছত্র গ্রামে কামিলুস নকরেক (৩২) জানায়, 'আদিবাসীদের জীবনের সঙ্গে বনআলুর এক নিবিড় সম্পর্ক জড়িত। আলু ছাড়া আদিবাসীদের জীবন পূর্ণাঙ্গ ভাবা যায় না। প্রতিক্ষেত্রেই আলুর প্রয়োজন। জুম চাষের সময় আগুনে পুড়িয়ে আলু খেয়ে জুম চাষ করতে হতো। মধুপুরে এখন সামাজিক বনায়নের দাপট বেশি। প্রাকৃতিক বন উজাড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিকভাবে গজিয়ে উঠা আলুও বিলুপ্তির পথে।'
লিখেছেনঃ হাবিবুর রহমানমধুপুর (টাঙ্গাইল)
দৈনিক সংবাদ। ১১ নভেম্বের, ২০১৩



ফড়িয়া দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি : আনারসের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না মধুপুরের কৃষক
টাঙ্গাইলের মধুপুরের জলছত্রসহ বাজারের দালাল-ফড়িয়া, ট্রাকশ্রমিক-মালিকসহ এক শ্রেণীর অতি মুনাফালোভী প্রতাপশালীরা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ায় নামমাত্র মূল্যে আনারস বিক্রি করে চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছে। লাভবান হচ্ছে সিন্ডিকেট সদস্যরা। প্রকাশ্য দিবালোকে এ ঘটনা ঘটলেও পুলিশ অবৈধ সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে আনারস চাষিরা অভিযোগ করেছেন। মধুপুর গড় এলাকার শোলাকুড়ি, অরণখোলা, আউশনারা ও আলোকদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ বছর প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে আনারস আবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে। চাষিরা জানান, আনারসের ফলনও হয়েছে ভালো। কিন্তু এলাকার এক শ্রেণীর প্রতাপশালী ফড়িয়া-দালাল এবং ট্রাক মালিক-শ্রমিকের সমন্বয়ে গড়ে উঠা একটি সিন্ডিকেট মধুপুরের জলছত্র, টেলকি, মোটের বাজার ও গারোবাজারসহ আনারস বাজার নিয়ন্ত্রণ করায় চাষিরা আনারসের উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছে না।
ফড়িয়া-দালালরা কাঁচামাল ব্যবসায়ী নামে সমিতি গঠন করে নামমাত্র মূল্যে চাষিদের কাছ থেকে আনারস কিনছে। খুলনা, সিলেট, দিনাজপুর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীদের ফড়িয়ারা আনারস কিনতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে আনারস না কিনে ফড়িয়াদের কাছ থেকে আনারস কিনছে। এতে চাষিরা আনারসের উপযুক্ত দাম না পেলেও মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়ারা বিপুল মুনাফা লুটছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন আনারস পরিবহনের জন্য বাইরের জেলা থেকে ভাড়া করা ট্রাক ব্যবহার করা হলে মধুপুরের ট্রাক মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদকে সাড়ে ৮০০ টাকা হারে প্রতিট্রাক চাঁদা দিতে হচ্ছে। আবার মধুপুরের ট্রাক ভাড়া করলে প্রতিট্রাক দুই থেকে তিন হাজার টাকা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। এ কারণে দূরবর্তী জেলার অনেক ব্যবসায়ী এ বছর আনারস কিনতে না আসায় আনারসের বাজার মন্দা। এতে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া মধুপুরের জলছত্রসহ বিভিন্ন আনারস বাজারে প্রতিট্রাক ২৫০ টাকা খাজনা, দালালদের বখশিশ বাবদ ৮০ টাকা, সু্ইপারদের ২০ টাকা করে দিতে হয়। মধুপুরের জলছত্র বাজারে আনারস বেচতে আসা চাষিরা জানান, আনারস উৎপাদন এবং বাজারে আনার পরিবহন ব্যয় মিলিয়ে গড়ে প্রতিটি আনারসের দাম পড়ে ১০ টাকা। কিন্তু ফড়িয়াদের কাছে আনারস বেচতে হয় গড়ে ৭ টাকা। এর ফলে গড়ে প্রতিটি আনারসে ৩ টাকা ক্ষতি দিয়েই চাষিদের আনারস বেচতে হয়। ফড়িয়ারা জানান, অন্য জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা এনে তারা আনারস কিনে দেন। এতে তাদের অনেক পরিশ্রম হয়। তাই ক্রয়কৃত আনারস প্রতিটি ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দরে তারা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। এটা তাদের পেশা। মধুপুরের ট্রাক শ্রমিক-মালিক সমিতির নেতারা জানান, ব্যবসায়িক দৃষ্টিতেই বাজার বুঝে তারা আনারস পরিবহনে এক একদিন একেক রকম ভাড়া নেন।
জেলা বার্তা পরিবেশক, টাঙ্গাইল, দৈনিক সংবাদ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩



 মধুপুরে ফলের দামে জীবন জীবিকা
ইদিলপুর গ্রামে বছরের বারো মাস মধু মাস। বছরের যে কোন ঋতুর যে কোন ফল পাওয়া যায় এখানে। আনারসকাঁঠাললিচুপেয়ারাআমকমলালেবুকলাপেঁপেবাঙ্গিকুলসহ (বরই) যে কোন ধরনের ফল পাওয়া যায় এখানে। এই গ্রামের কথা লিখেছেন- হাবিবুর রহমান. 
টাঙ্গাইলের মধুপুরে অবস্থিত একটি গ্রাম ইদিলপুর। বছরের যে কোন ঋতুতে মমখভানে রসে ভরা আনারস। কাঁঠাললিচুপেয়ারাআমকমলা লেবুকলাপেঁপেবাঙ্গিকুলসহ (বড়ই) যে কোন ধরনের ফল পাওয়া যায়। এ গ্রামের মাটি বাদামি লাল। পল্লী প্রকৃতির এ গ্রামটি ছায়ায় সুনিবিড়। সারাক্ষণ পাখির কলকাকলিতে মুখর। গারো আদিবাসী আর অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর লোকদের মিলে মিশে বসবাস। মিলেমিশে চাষাবাদ। আর এ গ্রামেই প্রথম আনারসের চাষ শুরু হয়। সে থেকেই সারাদেশে এর চাষাবাদ ছড়িয়ে পড়ে। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের একটি গ্রাম হচ্ছে ইদিলপুর। ইদিলপুর গ্রামকে স্থানীয়রা ফলের গ্রাম হিসেবে সমধিক চিনে। এ গ্রামের এক পাশে বাইদ আরেক পাশে লাল মাটির উঁচুনিচু টিলা। এ গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে ছোট্ট নালা। গ্রামের একপাশ থেকে আরেক পাশে পায়ে হেঁটে গেলে দেখা যাবে বিশাল আনারসের বাগান। বাগানের আইলের চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে হরেক প্রজাতির ফল ও বৃক্ষের সারি সারি গাছপালা। এসব গাছপালা কোনটা প্রাকৃতিকভাবে আবার কোনটা কৃষকের লাগানো গাছ। আনারসের পাশাপাশি এসব গাছ থেকে প্রতি বছর আসে কৃষকের বাড়তি আয়। ঘুচে যায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলা শ্রমজীবী মানুষের অন্নের জোগান। ফল খেয়ে কৃষক পরিবারের সদস্যদের পূরণ হচ্ছে পুষ্টির চাহিদা। মাটির ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বছরের যে কোন সময় শষ্য ঋতু অনুযায়ী চাষ করা যায় যে কোন ফসল। লাল মাটির গুণাগুণকে স্থানীয় কৃষকরা সৃষ্টিকর্তার অপার আশীর্বাদ মনে করে।

মধুপুর উপজেলার লাল মাটির উঁচুনিচু টিলা আর বাইদে ঘেরা এ গ্রাম। গ্রামের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত শুধু আনারসকলাকাঁঠালপেঁপে আর লিচু বাগান দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। আদিবাসী গারো আর বাঙালিরা এখানে প্রায় এক শতাব্দী ধরে শুধু ফলের আবাদ করেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সুলতানি আমলে আদিবাসী গারোরা প্রথমে জঙ্গল পরিষ্কার করে এখানে বসতি স্থাপন করে। ব্রিটিশ রাজত্বে বাঙালিরাও এ জনপদে গারোদের সঙ্গে বসবাস শুরু করে। জুম চাষের জমিতে বাঙ্গিবিচি কলাচিনি চাম্পাসিমলাই আলু আর ক্ষিরার আবাদ দিয়ে ফল চাষের হাতে খড়ি। শতাব্দী পরিক্রমায় ফল চাষের বিবর্তনে জায়গাজুড়ে নেয় কাঁঠালআনারসকলাপেঁপেকুল আর লিচু। এখন উচ্চ ফলনশীল জাতের বিভিন্ন ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। গ্রামের লোক সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। তার অর্ধেকই গারো। আদিবাসী গারো সমাজের নেতা শতবর্ষী জেভিযার চিশিম জানান১৯৪২ সালে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে চারা এনে এ গ্রামে প্রথম আনারস আবাদ শুরু করেন গারো কৃষক সনাতন মৃ। পরবর্তীতে আনারসের আবাদ মধুপুর গড় জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে শুধু মাত্র মধুপুর গড়ে প্রায় ৩০ হাজার একরে আনারসের আবাদ হয়। মধুপুর হতে এ আনারস পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়ে বৃহত্তর সিলেট ও উত্তরবঙ্গে। আর কাঁঠালতো মধুপুর গড়ের নিজস্ব ফল। পঞ্চাশের দশকে শুরু হয় লিচুর আবাদ। আর সর্বশেষ এসেছে কলা আর পেঁপে। এ গ্রামে এখন ৩ হাজার ৬০০ একরে ফলের আবাদ হয়। তবে সব ছাপিয়ে বাণিজ্যিক আবাদে উঠে এসেছে আনারসলিচু আর কলা। বর্তমানে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আদাকচু ও হলুদ চাষ। প্রতি বছর এ গ্রামে ৪০ থেকে ৪৫ কোটি টাকার ফল উৎপন্ন হয় বলে জানালেন ইদিলপুর আনারস চাষি সমবায় সমিতির সম্পাদক আলী আকবর ফকির। সভাপতি মফিজ উদ্দীন ফকির জানানএ গ্রামে এখন কোন অভাবী মানুষ নেই। গ্রামের ৯৮ ভাগ মানুষ শুধু ফলের আবাদ করে দারিদ্র্য বিমোচন করেছে। গ্রামের হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান আঙ্গুর জানানসারা বছরই এ গ্রামে ফল পাওয়া যায়। তবে মে হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ফলের ভরা মৌসুম। এ সময় সারা গ্রাম ফলের মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর থাকে। গ্রামের বিয়ে-সাদিসহ নানা অনুষ্ঠান এ সময়েই হয়। এ গ্রামের জেভিযার চিশিম একটানা ৭০ বছর ধরে আনারস আবাদ করেন। আজগর ম-ল ৫৫ বছরমোকছেদ ম-ল ৫২ বছর এবং নিভারানী রিছিল ৫০ বছর ধরে আনারস আবাদ করেন। এরা ফল আবাদে একেক জন পারদর্শী ও অভিজ্ঞ চাষি। আনারস চাষে তাদের জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা সকলকে বিস্মিত করে বলে জানান স্থানীয় কৃষিবিদরা। এ গ্রামের চাষিরা এক সময়ে আনারস চাষের জন্য মহাজনি ঋণের দ্বারস্ত হতো। এখন অবশ্য এ চিত্র পাল্টে গেছে। ১৯৭৭ সালে আনারস চাষিরা সবাই মিলে একটি সমবায় সমিতি গড়ে তোলে। চাষিরা সমিতির নাম দিয়েছেন ইদিলপুর আনারস চাষি বহুমুখী সমবায় সমিতি লি.। সমিতির মূলধন এখন প্রায় দেড় কোটি টাকা। অসময়ে চাষিরা এখান থেকেই ঋণ গ্রহণ এবং তা পরিশোধ করে। ফল চাষের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে মডেল হওয়ায় ইদিলপুর আনারস চাষি সমবায় সমিতি জাতীয়ভাবে দুই বার স্বর্ণপদক লাভ করে। ফল চাষিরা জানানএ গ্রামে ১টি হাইস্কুলএকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়একটি মাদ্রাসা২টি মিশনারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অনাথ শিশু পল্লী রয়েছে। আর এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে ফল চাষিদের উদ্যোগ আর প্রচেষ্টায়। বর্তমানে এ গ্রামে শিক্ষার হার ৮০%। ফলের আবাদে এ গ্রামের লোকেরা একটি সুদীর্ঘকালের ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছেন। অভার অনটন দূর করার পর এবার ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সমিতির সবাই মিলে মিশে কাজ করছেন। স্বাস্থ্যকর্মী সাহেরা বানু জানানফল চাষের পাশাপাশি এ গ্রামজুড়ে রয়েছে বৃক্ষলতা সুশোভিত গ্রামীণ বন। আবাসস্থল ও খাদ্যের সমাহার থাকায় নানা জাতের পশু-পাখি এ গ্রামে নিরাপদ আবাস গড়ে তুলেছে। গ্রামের কলেজ পড়ুয়া ছাত্র হেলাল উদ্দিন বলেনফল-ফলাদিকে গ্রামের লোকেরা লক্ষ্মী মনে করে। ফল এ গ্রামের নিরন্ন মানুষের ভাগ্য ফিরিয়েছে। দারিদ্রের অবসান ঘটিয়েছে। বিত্তহীন মানুষের মধ্যে সুখ আর স্বাচ্ছন্দ এনেছে। একটানা প্রায় এক শতাব্দী ধরে কোন জনপদের মানুষ শুধুমাত্র ফল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সরেজমিনে মধুপুর শহর থেকে ৭ কিমি. দূরে ইদিলপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়কাকরাইদ-হাঁটুভাঙ্গা পাকা সড়কের পাশে আনারস গাড়িতে তুলার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। একটু এগিয়ে মেঠো পথ ধরে যেতে থাকলে দেখা যায় সারি সারি আনারসের বাগান। মাঝে মাঝে দু'একটা বাড়ি আর দিগন্তজুড়ে ফসলের মাঠ। স্থানীয় কৃষকরা জানালেন এবার আনারসের দাম ভালো পেয়ে তারা বেজায় খুশি। তারা আরও জানালেনআবহাওয়া ও প্রকৃতি ভালো থাকার কারণে ক্রেতা ও পাইকারের কোন অভাব নেই। মধুপুরের আনারস গুণে ও মানে ভালো থাকায় দামও পাচ্ছে আশানুরুপ।

দৈনিক সংবাদ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ থেকে সংগ্রহীত 
মধুপুরের কাকরাইদ এ জিটিভির সবুজ বাংলা কৃষকের ঈদ আনন্দ উৎসব

তৃতীয়বারের মতো বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল জিটিভি দর্শকদের ঈদের আনন্দ আরও একটু বাড়িয়ে দেয়ার জন্য আয়োজন করেছে ‘সবুজ বাংলা কৃষকের ঈদ আনন্দ উৎসব’। কৃষকদের অংশগ্রহণে নাচ, গান ও মজার মজার গেমশো নিয়ে নির্মাণ হয়েছে এ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান। ১৯টি বিষয় দিয়ে সাজানো এ অনুষ্ঠানের ১০টি ব্যতিক্রমী গেম দিয়ে সাজানো হয়েছে, বাকি ৯টি বিষয় সাজানো হয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে, যেখানে পারফরমেন্স করেছেন কৃষাণ কৃষাণীরা।  অনুষ্ঠানে যে গেমগুলো রাখা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে ঘোড়া দৌড়, বাচ্চাদের ব্যাঙলাফ,
মেয়েদের চুলের বেনী বানানো ও হাতে নকশা করে মেহেদী পরা, নদীতে হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা, পালতোলা নৌকা বাইচ, ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতা, ৬০-ঊর্ধ্ব নানার পিঠে নাতিকে চড়িয়ে ঘোড়ার মতো দৌড়, ৩০ জন পুলিশের অংশগ্রহণে চিপস খেলা, ২০ জোড়া প্রবীণ কৃষাণ কৃষাণীকে নিয়ে  নৃত্য প্রতিযোগিতা এবং মেয়েদের দড়িলাফ। অনুষ্ঠানের কৃষকদের নিয়ে একটি ফ্যাশন শো’র আয়োজন করা হয়, যাতে আমাদের কৃষি জীবনের নানা উপকরণ দিয়ে মডেল হন স্থানীয় কৃষাণ-কৃষাণীরা। পুরো অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হয় ময়মনসিংহে। ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে ও আশপাশের নদীতে চলে ১০টি গেম এবং টাঙ্গাইলের মধুপুরের কাকরাইদ বন বিভাগের পাশের মাঠে ঘোড়া দৌড় অনুষ্ঠিত হয়। কৃষিবিদ মেহবুবা মোনার উপস্থাপনা ও ড. বায়েজিদ মোড়লের প্রযোজনায় বিশেষ এ অনুষ্ঠাটি জিটিভির ঈদ আয়োজনে প্রচার হবে।

উৎস ঃ মানবজমিন মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৩

মধুপুরে কৃষিমৎস্য প্রযুক্তি ও বনজ মেলার উদ্বোধন

মধুপুর (টাঙ্গাইল) উপজেলা সংবাদদাতা : মধুপুরে কৃষিপ্রাণিসম্পদ ও মৎস্য প্রযুক্তি এবং বনজ ও ফলদ বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। ৭ জুলাই উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও মোহাম্মদ হাবিব উল
¬াহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৩ দিনব্যাপী কৃষিপ্রাণিসম্পদ ও মৎস্য প্রযুক্তি এবং বনজ ও ফলদ বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টুঅন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনিমহিলা ভাইস চেয়ারম্যান যষ্টিনা নকরেকমধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছরোয়ার আলম খান আবুকৃষি কর্মকর্তা ড. মো. হযরত আলীপ্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হজরত আলীসহকারী বন সংরক্ষক রাজেশ চাকমামৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাশেদমধুপুর প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক গোলাম সামদানী প্রমুখ। 

উতসঃ ইনকিলাব, মঙ্গলবার০৯ জুলাই ২০১৩২৫ আষাঢ় ১৪২০২৯ শাবান ১৪৩৪



মধুপুরে নার্সারী করে স্বাবলম্বী আবু হানিফ

মধুপুর (টাংগাইল) থেকে  আমিনুল হক : দাও ফিরিয়ে সেই অরণ্যলও এ নগর। বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীতে এটা সম্ভব না হলেও একটু সবুজ শ্যামল আর ছায়াঘেরা পরিবেশে ব্যাকুলতা সবার মনেই আছে। আর সেই সবুজ শ্যামল ছায়ার তৃষ্ণা মেটাতে ও জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব থেকে পরিবেশকে মুক্ত করতে আবু হানিফ গড়েছেন বিভিন্ন প্রজাতির নার্সারী। নার্সারী করে পরিবেশ ও প্রকৃতির অকৃত্রিম বন্ধু হিসাবে এলাকায়  বেশ সুনাম করিয়েছেন। পরিবেশের জন্য তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরকবরস্থানঈদগাহ মাঠছাত্র-ছাত্রী ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করে থাকেন। এ জন্য তিনি পরিবেশের বন্ধু হিসাবে ২০০৯ সালে পেয়েছেন একটি মানবাধিকার পদক। সরজমিনে পিরোজপুর গ্রামে গিয়ে জানা যায়তার নার্সারী করে স্বাবলম্বী হওয়ার কাহিনীমো. আবু হানিফ ১৯৭২ সালে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ছায়াঘেরা সুনিবিড় অরণ্য অধ্যুষিত প্রকৃতির মায়ামমতা শোভাশিত অরনখোলা ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামে তার পৈতৃক বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করে। পিতার পরিবারে অভাবে নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থা থাকার কারণে লেখাপড়া করার সৌভাগ্য হয়নি। পিতার উপার্জনে ৬ সদস্যের পরিবারে অন্ন বস্ত্রের সংস্থান করা কষ্টসাধ্য হওয়ায় ৭বছর বয়সে হানিফকে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে দেন। এভাবে পিতার সাথে একটানা ১৫/১৬ বছর অন্যের বাড়িতে মাইনে নিয়ে কাজ করে পরিবারকে সাহায্য করেন। দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর একটানা কাজ করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন হানিফ। অন্যের কাজ করা আর ভাল লাগে না।
কিভাবে পরিশ্রম করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো যায় সে ভাবনা হানিফ দিশেহারা হয়ে পড়ে। কাজ করেন আর ভাবেন। কিন্তু ভাবনার কোন সুরাহা পান না। এভাবে কেটে যায় আর একটি বছর। যে গ্রামে কাজ করতেন সেই গ্রামের আবুল হোসেন সুন্দর একটি নার্সারী করেছেন। যাতায়াতের পথে নার্সারী দেখে হানিফের মনে স্বপ্ন জাগে সে নার্সারী করবে। রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবেন কিভাবে নার্সারী করা যায়। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ছুটে যেতেন আবুল হোসেনের নার্সারীতে। দেখতেন কিভাবে বীজ লাগান। পলিথিনে মাটি ভরেন। দেখে দেখে অনেকটা বুঝে উঠেন নার্সারী করা। তারপর আবুল হোসেনের সাথে কথা বলেন কিভাবে নার্সারী করা যায়। পরামর্শ ও বুদ্ধি দেন। বুঝিয়ে দেন নার্সারী করার খুঁটিনাটি। তার মনে অনেক আশা নিয়ে চলে আসেন নিজ বাড়িতে। বাড়িতে নিজের মাথা খাটিয়ে থাকার ঘরের চারপাশে শুরু করেন নার্সারী। প্রথমে ফলজ ও বনজ মিলিয়ে ৫ হাজার চারার বীজ রোপন করেন। গজিয়ে ওঠে গাছ। দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে হানিফ। রাত দিন পরিশ্রম করে তার হাতে গড়া ছোট আসমানির মত নার্সারী ভাল ভাবে যতœ নেয়ার ফলে গাছগুলো বেড়ে ওঠে। সে ওই বছর ভ্যান ও নিজের মাথায় করে ৫ হাজার চারা পিরোজপুর ও আশপাশের বাজারে বিক্রি করে খরচ বাদে ২০ হাজার টাকা লাভ গুনেন। লাভ পেয়ে নার্সারী করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পরেন। পরের বছর পার্শ্ববর্তী বাড়ির হামিদ আলীর কাছ থেকে ২৫ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন বর্ধিত কলেবরে। ১০/১৫ হাজার বিভিন্ন জাতের চারা উৎপাদন করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠে নার্সারীতে গিয়ে আপন মনে আনন্দের সাথে কাজ করে। এভাবে কেটে যায় ১টি বছর। সে বছর ৪৫ হাজার টাকার চারা বিক্রি করেন। এভাবে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে তার নার্সারী। নার্সারীর নাম দেন হানিফ নার্সারী। আরো জমি বাড়িয়ে নিয়ে নার্সারী পরিধি বাড়ান। এভাবে ১৩ বছরে ১৩ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন বিশাল আকারের নার্সারী। নার্সারী করে সে এখন লাখপতি। তার বাড়িতে এখন ইটের দালান। নার্সারী করা আয় দিয়ে ক্রয় করেছেন ৪ বিঘা ধানের জমি। লিজ নিয়েছেন ৬ বিঘা ইরি বোরো ধানের জমি। নার্সারীর জন্য ১৩ বিঘা। বর্তমানে নার্সারীতে গাছের সংখ্যা ৬ লাখ। তার নার্সারীতে বিভিন্ন প্রকার গাছের মধ্যে ফলজবনজ ও ঔষধী বৃক্ষ রয়েছে। এখন আর তার পিছনে তাকাতে হয় না। নার্সারী করে সে এখন লাখপতি। তার নার্সারীতে প্রতিদিন ১৬/১৭ জন শ্রমিক কাজ করে। সিলেটচট্টগ্রামটাংগাইলগাজীপুর ও রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাক ভর্তি করে যাচ্ছে তার নার্সারীর চারা। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে ২৫ বছর বয়সে বিয়ে করেন হানিফ। তার স্ত্রীর নাম কহিনুর বেগম। কহিনুর বেগম ৫ম শ্রেণী পাস। সংসারে ১ ছেলে ১ মেয়ে। বড় মেয়ে তানিয়া ১ম শ্রেণীতে পড়ে। তার বয়স ৭ বছর। ৬ মাসের ১ ছেলে হাছান মাহমুদ কবির। হানিফ শিক্ষিত না হলেও শিক্ষিত মানুষের মধ্যে যে মেধা জ্ঞান থাকে তার মধ্যে তা আছে। কোন কিছু বুঝতে তার অসুবিধা হয় না। এ কারণে তাকে নার্সারীর মালিকরা ভালবেসে বিভিন্ন পদ দিয়েছে। টাংগাইল জেলা নার্সারীর সহ-সভাপতিমধুপুর উপজেলা নার্সারীর সমিতির সহ-সভাপতি। ঢাকা কেন্দ্রীয় প¬ান নার্সারীর সদস্য। এছাড়াও মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ মধুপুর শাখার সদস্য সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করে থাকেন। তিনি বৃক্ষ রোপন তরান্বিত ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য প্রতি বছর বৃক্ষ মেলায় বিনামূল্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করেন। এছাড়াও তার গ্রামের মসজিদমন্দিরস্কুল সহ বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে চারা দিয়ে থাকেন। হানিফ শুধু নার্সারী করেননি। তিনি করেছেন ধানকলাসবজ্বি সহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষ। তার উৎসাহে আশপাশের কয়েক গ্রামে আরও ৩৪টি নার্সারী স্ব-উদ্যোগে করে দিয়েছেন। এ নার্সারীর প্রেমিককে এলাকার সবাই এখন সম্মানের চোখে দেখে। এক সময়ের হানিফ এখন হানিফ নার্সারী হিসেবে এলাকায় সমধিক পরিচিত। পরিবেশ নিয়ে ভাবেন তিনি। পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ রোপনের জন্য সবাইকে উৎসাহিত করেন। গাছ লাগিয়ে ভরবো দেশ-বদলে দিবো বাংলাদেশ সবাইকে এই স্লোগান শুনিয়ে বিনামূল্যে গাছ বিতরণ করেন। গাছ লাগিয়ে ভরবো দেশ এ আপ্রাণ ইচ্ছা ও মনোভাসনা নিয়ে সবাইকে গাছ লাগানোর ও গাছ ভবিষ্যতের অকৃত্রিম বন্ধু তা সবাইকে বুঝান।  হানিফ জানাননার্সারী আমার শুধু স্বাবলম্বী করেনিকরেছে আর্থসামাজিক অবস্থারও ইতিবাচক পরিবর্তন। আজ আর পিছনে তাকাতে হয় না। অনাহারে থাকতে হয় না। তিনি জানানসকালে ঘুম থেকে ওঠে যখন নার্সারীতে যাই ভোরের মিষ্টি রোদ এসে যখন গাছের কচি পাতায় পড়ে চিকচিক করে সে সবুজ দৃশ্য দেখতে আমার খুব ভাল লাগে। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেনএতো বড় নার্সারী করেছি কোন সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পাইনি। তিনি ভবিষ্যতে আরো বড় আকারের নার্সারী করতে চান। হানিফের নার্সারী ঘুরে দেখা যায়ঘৃনকাঞ্চনলজ্জাবতীগাদালিলটকনবাজনাজয়নাকাকডুমুরজগডুমুরপলাশআজুলিমহুয়ানামেশ্বরবাশকনিমনিশিন্তাবিপুল মারপসন্ধাতুরক চাত্তালরান্থচাত্তালপ্রড়মাচাত্তালকালচাত্তালহাতিশুড়অধ্যসন্ধাখেতচান্দনরক্তচন্দনশিমুলসোনালুহাড়মচকাউলটকুমলহিজলআমলকিজারুলঅর্জুনকদমবহেড়াহরিতকিআমআম্রপালিমলি¬কাহাঁড়িভাঙ্গাচোসাসুবর্ণরেখালকলানবাবশাহী বোম্বাইসুন্দরীনেংড়াফজলিগোরাপ ভোগক্ষীরসাপাতবারমাসি পালমালকাঁঠালজামজামরুলচাইলটাআতাহর বরইকমলামালটাআঙ্গুরলেবুপেয়ারাপামওয়েলডালিমআকাশমনিমেহগুনিলম্বুরেইনট্টি কড়সেগুনচাপালিশআসরবেতবাঁশদেবদারুগামারীগেওয়াবকাইনপাতাবাহারবাগান বিলাশগর্জনমেহেদীবট। এছাড়াও শতাধিক প্রজাতির বীজের সমাহারও রয়েছে তার নার্সারীতে।  ইতিমধ্যে কুড়াগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়রামজীবন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়পিরোজপুর ইয়াকুবিয়া ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদরাসানার্সারী উন্নয়ন সংস্থাজয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করে সরকারি ও বেসরকারিভাবে পেয়েছেন বিভিন্ন সম্মাননা ও সনদপত্র। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাকে প্রত্যয়ন পত্রও দিয়েছে। হানিফ জানানযেভাবে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে এর ফলে প্রকৃতি ও পরিবেশ বিপণœ হচ্ছে। বিপণেœর হাত থেকে পরিবেশকে বাঁচাতে পরিবেশবান্ধন বিভিন্ন গাছ তার নার্সারীতে উৎপাদন করছেন। তার আশা এ সব গাছ লাগিয়ে একদিন জলবায়ু পরিবর্তন রোধে এসব গাছ ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। তিনি আশপাশের জেলার বিভিন্ন নার্সারী ম্যান ও ব্যক্তিকে বিনামূল্যে চারা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। টিস্যু কালচার পদ্ধতিনতুন জাত উদ্ভাবনগ্যাপ্টিং বিভিন্ন কলম বিষয়ে কৃষি গবেষণা খামার ও ময়মনসিংহ হর্টি কালচার-কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। 
উতসঃ ইনকিলাব, সোমবার০৮ জুলাই ২০১৩২৪ আষাঢ় ১৪২০২৮ শাবান ১৪৩৪


মধুপুরে সাড়ে চার হাজার নলকূপ অকেজো

ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকহারে নেমে যাওয়ায় মধুপুর উপজেলায় সাড়ে চার হাজার নলকূপে পানি উঠছে না। ফলে খাবার পানির জন্য হাহাকার পড়েছে। নদী-নালাখাল-বিল ও জলাশয় পানিশূন্য হয়ে পড়ায় অনেক স্থানে গোছলগবাদিপশুর গা ধোয়ানো এবং প্রাত্যহিক কাজে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস জানায়একটানা ৫ মাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় খরাবস্থা বিরাজ করছে। তদুপরি বোরো সেচের জন্য গভীর নলকূপের মাধ্যমে অস্বাভাবিকহারে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করায় পানির স্তর নীচে নেমে গেছে । এজন্য হস্তচালিত অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না। মধুপুর পৌরশহরের অবস্থা আরো খারাপ। সেখানে মাষ্টার পাড়াবোয়ালীচাড়ালজানিটেকিপাড়াউত্তরা আবাসিক এলাকাসান্দারপাড়াগোপাল আঙ্গিনাটুইনাবাড়িনয়াপাড়াঘোষপল্লী ও চৌধুরি পাড়ায় দেড় মাস ধরে পানি সংকট চলছে। মোটরচালিত গভীর নলকূপ চলে এমন সব বাসায় পাড়াপড়শিরা পানির জন্য ভিড় করছে। খোদ পৌরশহরে পানির জন্য এমন হাহাকার আগে কখনো কেউ দেখেনি। প্রায় ৬ বছর আগে মধুপুর পৌরসভাকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে রুপান্তরিত করা হলেও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা চালু করা হয়নি।
জয়নুল আবেদিনগোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
উৎসঃ   দৈনিক ইত্তেফাক ঢাকারবিবার১৪ এপ্রিল ২০১৩৩১ চৈত্র ১৪১৯২ জমাদিউল সানি ১৪৩৪


বিএডিসির প্রক্রিয়াকেন্দ্রে শ্রমিক ধর্মঘট : মধুপুর খামারে কয়েক কোটি টাকার বীজ নষ্টের উপক্রম

উৎসব বোনাস, বেতন বৃদ্ধিসহ ৭ দফা দাবিতে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বিএডিসির মধুপুর বীজ উৎপাদন খামার ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের ৪ শতাধিক শ্রমিক একযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। গত বুধবার ছিল কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন। এর ফলে মধুপুর খামারের প্রায় ১৫০ বিঘা ক্ষেতের আমন ধান বীজ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের বোরো ধান ও গমসহ বিভিন্ন ফসলের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বীজ নষ্ট হওয়ার মুখে পড়েছে। 
বিএডিসির মধুপুর বীজ উৎপাদন খামার এবং বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র দেশের অন্যতম বৃহৎ বীজকেন্দ্র। জানা গেছে, খামারে তিন শতাধিক এবং বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করেন। বর্তমানে এই শ্রমিকদের মধ্যে যারা দক্ষ তাদের দৈনিক ২০০ টাকা এবং অদক্ষদের ১৮০ টাকা হারে মজুরি দেয়া হয়। শ্রমিকরা তাদের মজুরি বৃদ্ধি করার দাবি জানিয়েছেন। তারা শ্রমিকদের ৬০ দিনের বেতনের সমান ২টি উৎসব বোনাসও দাবি করেছেন। সেসঙ্গে তারা অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণসহ ১৬ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের ৮ মাসের বকেয়া বেতন প্রদানসহ কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোপূর্বে ৭ দফা দাবি পূরণের দাবি জানিয়েছেন। 
মধুপুর কৃষি খামার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শামছুল হক, বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে খামার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে শ্রমিকের কাজ করলেও শ্রমিদের নিয়োগপত্র না দিয়ে শুধু তালিকাভুক্ত করে দৈনিক ভিত্তিতে স্বল্প মজুরি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া উৎসব বোনাস বা অন্য কোন সুবিধা দেয়া হচ্ছে না। এ কারণে বাধ্য হয়ে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছেন। 
বিএডিসির মধুপুর বীজ উৎপাদন খামারের একটি সূত্র জানায়, শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে খামারে বর্তমানে যে ১৫০ বিঘা জমিতে আমন ধানের বীজ পেকে কাটার সময় হয়েছে তা ঝরে নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়া ভুট্টার আবাদ ব্যাহত হবে। প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের একটি সূত্র জানায়, শ্রমিক ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে বোরো ধান এবং গমসহ কয়েকটি ফসলের বিপুল পরিমাণ বীজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিএডিসির কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হবে। 
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিএডিসির মধুপুর বীজ উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক শহিদুল ইসলাম শ্রমিক ধর্মঘটের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, শ্রমিকদের ৭ দফা দাবির ব্যাপারে বিএডিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। মধুপুর বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক সুলতান গিয়াস উদ্দিন জানান, শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে বাইরের এলাকাগুলোর বীজ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে বেশির ভাগ বীজ অর্থাৎ ৫ হাজার ৬০০ টন বোরো বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এখন ২৫০ টন আপতকালীন বীজ বিতরণ প্রক্রিয়া শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে বন্ধ রয়েছে।

হারানো গৌরব ফিরে পাচ্ছে মধুপুর গড় : সাফল্য ধরে রাখতে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি জরুরি
দেশের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত লাল মাটির গড় মধুপুর বনাঞ্চল শাল-গজারিসহ দেশীয় প্রজাতির দুর্লভ বৃক্ষ এবং লতা-গুল্মে শোভিত হয়ে উঠছে। বন্যপ্রাণীসহ জীব বৈচিত্র্য আবার ফিরে আসছে প্রায় ধ্বংসের প্রান্তে পেঁৗছা এই বনে। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে ১৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১০ সালের এপ্রিল থেকে 'রেভিগেশন অফ মধুপুর ফরেস্ট থ্রো রিহ্যাবিলিটেশন অফ ফরেস্ট ডিপেনডেন্ট লোকাল অ্যান্ড এথনিক কমিউনিটিস' নামে বাস্তবভিত্তিক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় মাত্র দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই গোটা মধুপুর বনাঞ্চলের এই ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। গত ৩০ জুন এই প্রকল্পের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। মধুপুর বনাঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ এই বনাঞ্চলকে পুনরায় সমৃদ্ধ করার জন্য প্রকল্পটির কার্যক্রম অন্তত আরও তিন বছর বর্ধিত করার প্রয়োজন। কারণ গাছ কাটা, বনভূমি জবর-দখল এবং জীব বৈচিত্র্য ধ্বংসের যে অপসংস্কৃতি বনাঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে গড়ে উঠেছে তার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। এই পরিবর্তন ঘটিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে বনরক্ষার সংস্কৃতি গড়ে তোলার স্বার্থে প্রকল্পের সময়সীমা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। না হলে গত দুই বছর ৩ মাসে এই বনের যে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে তা ধরে রাখা যাবে না। সফল অর্জন নিষ্ফল হয়ে যাবে।
মধুপুর বনাঞ্চলের গারো ও কোচ আদিবাসীসহ সাধারণ অধিবাসীরা জানান, এক সময় শাল-গজারিসহ নানা প্রজাতির দেশীয় বৃক্ষ সম্পদে পূর্ণ মধুপুর বনাঞ্চল ছিল দেশের গর্ব। বাঘ, চিতাবাঘ, ময়ুর, হরিণ, অজগরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাস এই বনে অসীম সাহসী আদিবাসী গারো ও কোচ ছাড়া কোন বাঙালির বাস ছিল না। সময়ের বিবর্তনে পাকিস্তান আমলের শেষ দিকে বনের কিছু এলাকায় সামান্য কিছু বাঙালির বসবাস শুরু হয়। স্বাধীনতার পরও এই বনাঞ্চল ছিল বৃক্ষ সম্পদে সমৃদ্ধ। কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মর্মান্তিক হত্যাকা-ের পর সামরিক শাসকদের সময়ে ধীরে ধীরে পুরো মধুপুর বন নতুন বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা ছেঁয়ে যায়। এই সময় বন বিভাগীয় এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় নতুন বসতি স্থাপনকারীরা মূল্যবান গাছ কেটে সাবাড় এবং বনভূমি জবর-দখলে মেতে উঠে। সামরিক শাসকদের পরবর্তী শাসকদের আমলেও এই ধারা অব্যাহত থাকে। এর ফলে প্রায় বৃক্ষ শূন্য হয়ে যায় মধুপুর বনাঞ্চল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মধুপুর বনাঞ্চলকে শাল-গজারিসহ বৃক্ষ সম্পদে সমৃদ্ধ করে এই বনের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়। বনের গারো, কোচ ও অন্যান্য অধিবাসী এমনকি গাছ চোরদের সম্পৃক্ত করে সবার অংশগ্রহণে বন রক্ষার পরিকল্পনা নেয়া হয়। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের ১৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় ২০১০ সালের এপ্রিল মাস থেকে 'রেভিগেশন অফ মধুপুর ফরেস্ট থ্রো রিহ্যাবিলিটেশন অফ ফরেস্ট ডেপেনডেন্ট লোকাল অ্যান্ড এথনিক কমিউনিটিস' প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অসিত রঞ্জন পাল প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে প্রকল্প কার্যক্রমের সূচনা করেন। বন ধ্বংসের অপকর্ম থেকে বন রক্ষার জন্য বনাঞ্চলের ৫৭টি গ্রামের ৭০০ জন বননির্ভর এবং বন অপরাধীকে উৎপাদনমুখী, কারিগরি এবং বন সংরক্ষণ বিষয়ে ৬০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে এই ৭০০ জনকে কমিউনিটি ফরেস্ট ওয়ার্কার অর্থাৎ সিএফডবিস্নউ নিয়োগ করা হয়। তাদের ইউনিফর্ম দেয়া হয় এবং মাসিক সম্মানীরও ব্যবস্থা করা হয়। বন এলাকার ৫ হাজার পরিবারকে ১১ হাজার টাকা করে দেয়া হয় গবাদি পশু ক্রয়, উন্নত চুলা ব্যবহার, জৈব সার প্লান্ট তৈরি করার জন্য। সবজি বাগান তৈরির উদ্দেশে বসত বাড়িতে রোপণের জন্য ফলদ এবং বনজ প্রজাতির মোট ১০ লাখ গাছের চারা দেয়া হয় ৫ হাজার পরিবারকে। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় বনের গাছ চুরি, গাছ কাটা এবং বনভূমি জবর-দখল। প্রকল্প নেয়ার আগে বছরে মধুপুর বন থেকে গড়ে ৬ লাখ ৪০ হাজার গাছ চুরি হতো কিন্তু ২০১০ সালের এপ্রিল থেকে এ নাগাদ একটি গাছও চুরি হয়নি। এ সময় বন ধ্বংস করার জন্য চৈত্র বৈশাখ মাসে জঙ্গলে আগুন ধরানোর কোন ঘটনা ঘটেনি। শাল-গজারি, কাইকা, আজুলী, হরীতকী, আমলকি, বহেরা, জারুল, জয়না, পাইয়া, নিমসহ দেশি প্রজাতির বৃক্ষ সম্পদে মধুপুর বনাঞ্চল আবার ভরে উঠছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে সবুজের নয়ন জুড়ানো সৌন্দর্য। ইতিপূর্বে জবর-দখল করা ২ হাজার ৫২০ একর ভূমি পুনরায় উদ্ধার করে বন বিভাগ দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করায় বন আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। বনের ছায়া সুশীতল পরিবেশে বানর, হনুমান, বন মোরগ, হরিণসহ বন্যপ্রাণীরা বসবাসের সুযোগ পাওয়ায় জীব বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত দুই বছরে মধুপুর বনাঞ্চলের অভূতপূর্ব পরিবর্তনের ধারা ধরে রেখে সামনে এগিয়ে গেলে ঐতিহ্যবাহী এই বন পুরোপুরি তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে। কিন্তু গত জুনে বন রক্ষার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা ভর করেছে বন, প্রকৃতি এবং পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে। তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন এই প্রকল্পের মেয়াদ আরও অন্তত তিন বছর বৃদ্ধি করা হলে বন অপরাধীরা গাছ চুরি এবং বনভূমি জবর-দখলের অপসংস্কৃতি ভুলে যাবে। তাদের এবং বন এলাকার অন্যান্য অধিবাসী ও নতুন প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে বন রক্ষার স্বাভাবিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। স্বমহিমায় ফিরে আসবে মধুপুর বনাঞ্চল। মধুপুরের প্রখ্যাত আদিবাসী নেতা এবং অরনখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বেনেটিক মাং সাং বলেছেন মধুপুর বনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের নেয়া প্রকল্পের মেয়াদ আরও কমপক্ষে তিন বছর বাড়াতে হবে। মধুপুর ট্রাইবাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উইলিয়াম দাজেল ও সাধারণ সম্পাদক রণজিত নকরেক বলেছেন বন রক্ষার নতুন প্রকল্পের ইতিবাচক সুফলকে পূর্ণতায় পেঁৗছে দেয়ার জন্য এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে হবে। শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী, আদিবাসী নারী সংগঠন আচিক মিচিক সভাপতি মালতী নকরেক ও সম্পাদক সুলেখা ম্রং ও কোচ আদিবাসী সমিতি মধুপুর শাখার সম্পাদক গৌরাঙ্গ বর্মণও মধুপুর বন রক্ষা প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। বনাঞ্চলের সাধারণ আদিবাসী শোলাকুড়ির বাগাডোবার সংগ্রামী নারী সাবিত্রী হাগিদক, পেগামারীর ফলিনা চাম্বু গং, ভূটিয়ার জ্যোৎস্না চিরান, নিহার চিরান, ধরাটির রীতা আর্তিমা নকরেক, জলছত্রের জীবন সাংমা, আমলিতলার সবিমল সাংমাসহ আদিবাসীরাও জানান বন রক্ষা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতেই হবে। না হলে আবার বন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে এই বন এবং চিরতরে হারিয়ে যাবে মধুপুর বনের উদ্ধার করা হারানো গৌরব।
টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অসিত রঞ্জন পাল স্বীকার করেন মধুপুর বনের পূর্ব গৌরব ফিরিয়ে আনতে গত দুই বছরে নতুন প্রকল্প ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। সাফল্য ধরে রাখতে প্রকল্প কার্যক্রম অব্যাহত রাখা দরকার। তিনি জানান, ইতোমধ্যেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য লিখেছেন। তিনি জানান, এলাকার এমপি এবং খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজিনা সরেজমিন মধুপুর বন পরিদর্শন করে বন রক্ষা প্রকল্পকে বাস্তবসম্মত এবং এই প্রকল্পের সাফল্যের প্রশংসা করেছেন। -বিমান বিহারী দাস, টাঙ্গাইল
Source: http://www.sangbad.com.bd/?view=details&type=gold&data=Income&pub_no=1164&menu_id=16&news_type_id=1&val=108734

গারো ভাষা ও সংস্কৃতিসংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ 
মধুপুরে বেসরকারি সংস্থার কালচারাল সেন্টার, প্রশিক্ষণ পাচ্ছে নতুন প্রজন্ম। মধুপুরের বনাঞ্চলে গারো সম্প্রদায়ের বিলুপ্তপ্রায় ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় এগিয়ে এসেছে বেসরকারি সংস্থা সিবিএসডিপি। সংস্থাটি নিজস্ব উদ্যোগে গারো জনপদে তিনটি পৃথক কালচারাল সেন্টার স্থাপন করেছে। এসব কেন্দ্রে নিজেদের বিলুপ্তপ্রায় ভাষা, সংস্কৃতি, সঙ্গীত, নৃত্য, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঐতিহ্যবাহী, সামাজিক ও পারিবারিক রীতিনীতি এবং আচার-আচরণের ওপর প্রশিক্ষণ পাচ্ছে গারো জনগোষ্ঠীর নতুন প্রজন্মের সদস্যরা। জানা গেছে, মধুপুর বনাঞ্চলের গারোদের জীবনযাত্রা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দেশের অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী থেকে পৃথক। মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের রীতিনীতি ও সামাজিক বৈশিষ্ট্যই এর মূল কারণ। খৃিস্টধর্ম গ্রহণের পর মিশনারীদের সৌজন্যে গারোদের মধ্যে শিক্ষার হার বেড়েছে। বনভিত্তিক জীবন ছেড়ে শহুরে ও আধুনিক জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে তারা। এখানকার প্রায় দুই হাজার গারো তরুণী ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিউটি পার্লার এবং বিদেশি দূতাবাসে কাজ করে থাকে। পেশাগত কারণে গারো তরুণ-তরুণীদের খাবার-দাবার, পোশাক-পরিচ্ছদ, জীবন প্রণালী ও আচার-আচরণে বাঙ্গালিপনা রয়েছে। অনেকেই মূল শেকড় থেকে বিচ্যুত হয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠির ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে একাকার হয়ে যাচ্ছে। ফলে এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। সিবিএসডিপি’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক পল দিলীপ বিশ্বাস জানান, আমাদের সংস্থাটি দেড় যুগ ধরে আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছে। এর প্রধান দপ্তর মধুপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামে। সংস্থার আপ্রাণ চেষ্টায় গারো ভাষা চর্চা, সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি, সামাজিক রীতিনীতি সংরক্ষণ ও পুনঃপ্রচলনে অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে। তিনি জানান, মধুপুর বনাঞ্চলের গারো জনপদকে ইদিলপুর, ধরাটি ও থানারবাইদ এলাকায় বিভক্ত করে তিনটি পৃথক সাংস্কৃতিক জোন গঠন করা হয়েছে। এসব জোনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ নিজস্ব কালচারাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। প্রতি কেন্দ্রে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এরা আদিবাসী ভাষা, সংস্কৃতি, সঙ্গীত, নৃত্য পোশাক-পরিচ্ছদ, ঐতিহ্যবাহী, সামাজিক ও পারিবারিক রীতিনীতির উপর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এজন্য রয়েছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক। এদের একজন প্রিমরোজ প্রীতি হাজং। সম্প্রতি এশিয়ান মিউজিকের উপর প্রশিক্ষণ নিতে তিনি ফিলিপাইনে গিয়েছিলেন। দেশীয় ও আদিবাসী সঙ্গীতে উচ্চশিক্ষা নেয়ার পর তিনি নিজ সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কাজ করছেন।
প্রীতি হাজং জানান, কালচারাল সেন্টারে সঙ্গীত ও নৃত্যে প্রশিক্ষণ ছাড়াও সংস্থার পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণার্থী শিল্পীদের আদিবাসী পোশাক ও সঙ্গীত সরঞ্জাম বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। সবক’টি কালচারাল সেন্টারে স্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। রিহার্সেল দেয়ার জন্য রয়েছে আদিবাসী স্টাইলে দৃষ্টিনন্দন ছনের ঘর। প্রতিবছর গারোদের সর্ববৃহত্ সাংস্কৃতিক উত্সব ‘ওয়ানগালা’য় এসব শিল্পীরা অংশ নেন। ‘রংচুগালা’সহ একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সংস্থার শিল্পীরা পরিবেশন করেন ঐতিহ্যবাহীগারো গান ও নাচ। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় গারো নেতা ইউজিন নকরেক জানান, ‘সিবিএসডিপির সহায়তায় মধুপুর বনাঞ্চলের গারোরা তাদের হারিয়ে যাওয়া ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করেছে। বর্তমান প্রজন্ম নতুন করে পূর্বপুরুষের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। তারা এখন বুঝতে পারছে যে তারা গারো এবং এ পরিচয় সব সময়ই গর্বের।’ লেখক: জয়নাল আবেদীন, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা | শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১২, ২ অগ্রহায়ণ ১৪১৯
ঊতসঃhttp://new.ittefaq.com.bd/news/view/171387/2012-11-16/1

  শোলাকুড়ি বাজারে কৃষি ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন
মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি বাজারে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক শোলাকুড়ি শাখার উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে শোলাকুড়ি হাই স্কুল মাঠে গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।
বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সালাম, জিএম পীযুশ চন্দ্র ভাওয়াল, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান, মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক আজিজুল হক লুলু প্রমুখ। ব্যাংক চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি জনপদের আনারস, কলা, কাঁঠাল, আদা, হলুদ ও সবজি চাষীদের আর্থিক সহযোগিতা দেয়ার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষি ব্যাংকের এ শাখা খোলা হলো। - ইত্তেফাক, লেখক: গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা | বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১২, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪১৯ রেফারেসঃ http://new.ittefaq.com.bd/news/view/170543/2012-11-15/5


লেখা আহ্বান 
অতি আনন্দদের সাথে জানানো যাইতেছে যে, আসছে বিজয় দিবসকে সামনে রেখে 'আলোকিত মধুপুর' ফেইসবুক গ্রুপের উদ্যোগে একটি ম্যাগাজিন বের করবে। আগ্রহী সকলকে নিম্নোক্ত ঠিকানাতে যোগাযোগ করে লেখা পাঠাতে অনুরুধ করা যাচ্ছে!
ঠিকানাঃ সম্মাদক, আলোকিত মধুপুর। 
এমেইলঃ alokito.sahityo@gmail.com 
ওয়েব লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/alokito.sahityo 
মোবাইল ফনেঃ 01911244464, 01717054833

গল্প, প্রবন্ধ, ইতিহাস সর্বোচ্চ ২৫০০ শব্দের মধ্যে আর কবিতা সর্বোচ্চ ২০০ শব্দ। লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ৫ই ডিসেম্বর রাত ১২। লেখা পাঠানো সংক্রান্ত কোন ঝামেলা হলে যেকোন সময় ফোন করতে পারেনঃ

উল্লেখঃ আলোকিত মধুপুর উচ্চ শিক্ষা বৃত্তি প্রকল্প স্নাতক/সম্মান শ্রেণীতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদান ও সমাজের কল্যাণ আমাদের মূল লক্ষ্য।

মধুপুরে তারিকুলের উদ্ভাবন
পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়ে আধুনিক পাম্প
 মধুপুরে তারিকুলের উদ্ভাবন পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়ে আধুনিক পাম্প এক সময়ের শ্যালো মেকার তারিকুল ইসলামের জীবনচিত্র পাল্টে গেছে। দেশের মধ্যে প্রথম ৪টি আধুনিক পাম্প টিউবওয়েল উদ্ভাবন করে খুঁজে পেয়েছেন সুখের ঠিকানা। জীবন সংগ্রামে এক সময় হিমশিম খেয়ে বসে পড়েছিলেন। শুরু করেন শ্যালো মেশিনের মেকানিকের কাজ। ৫ বছর মেশিনের কাজ করে এলাকাজুড়ে সুনাম অর্জন করেন শ্যালো মেকার হিসেবে। এ কাজ করার পাশাপাশি তিনি চিন্তা করতে থাকেন নতুন কিছু তৈরি করার। ভাবতে ভাবতে মাথায় বুদ্ধি আসে নতুন রূপে দেশীয় মেশিনের যন্ত্রপাতি দিয়ে টিউবওয়েল তৈরি করার। পুরনো শ্যালো মেশিনের যন্ত্রপাতিগুলো ফেলে না দিয়ে কাজে লাগানো। তারপর বাড়িতে বসেই শুরু করেন পুরনো শ্যালো মেশিনের যন্ত্রপাতি ক্রয় করা। শ্যালো মেশিনের পুরনো লায়নার, রিকশসা-ভ্যানের পুরনো এক্সএল, বেয়ারিং, পুরনো লোহার পাইপ, মেশিনের ওয়ারস্যালন প্রভৃতি সংগ্রহ করেন। লায়নার দিয়ে টিউবয়েলের বডি, রিকশার এক্সেল দিয়ে হাতল, পাইপ দিয়ে টিউবয়েলের গোড়ার অংশ এয়ারগ্যালন দিয়ে উপরের অংশ তৈরি করে ঝালাই দিয়ে বেয়ারিং লাগিয়ে তৈরি করেন টিউবওয়েল। প্রথমে নিজের বাড়িতে লাগান এ টিউবওয়েল। এ টিউবওয়েলে পানি উঠে বেশি, শব্দ কম, খরচ কম, দেখতে ভালো দেখার কারণে আশপাশের গ্রামের মানুষেরা দেখতে আসতে শুরু করে। ধীরে ধীরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে টিউবওয়েলের খবর। নিজের পরিবার ও এলাকার মানুষের উৎসাহ বেড়ে যায়। প্রতিবেশী তারেকের তৈরি টিউবওয়েল পছন্দ করে। চারদিকে বাড়তে থাকে টিউবওয়েলের চাহিদা। এভাবে ৬ মাসে টিউবওয়েল তৈরির কাজে সুনাম কুড়াতে থাকেন তারেক। তার একটি টিউবওয়েলের নাম রাখেন তারেক পাম্প। এভাবে ডায়বেটিস পাম্প, ফায়ার সার্ভিস পাম্প, সাধারণ পাম্প। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস পাম্প বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। যে এলাকায় বিদ্যুৎ নেই সে এলাকায় ইটের বিল্ডিংয়ের ১০০ ফুট উঁচু পর্যন্ত এ টিউবওয়েলের মাধ্যমে পানি স্প্রে করে ভিজানো যায়। হাটবাজার, বাড়িঘর, দোকান-পাটসহ কোথাও আগুন লাগলে এ পাম্পের সাহায্যে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা ছাড়াই অতি সহজে পাইপের মাধ্যমে অগি্ন নির্বাপক করা যায়। এতে যে এলাকায় রাস্তাঘাট খারাপ সে এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গাড়ি নিয়ে যেতে পারে না এবং পানির উৎস খুঁজে পাওয়া কঠিন হয় সে এলাকায় তারেকের তৈরিকৃত ফায়ার সার্ভিস পাম্প ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে। এ পাম্প বিভিন্ন হাটবাজার ও বসতবাড়িতে সাশ্রয়ী মূল্যে স্থাপন করে গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি আগুন নিভানোর কাজে ব্যবহার করছে।
তারেকের এ তিনটি পাম্প টিউবওয়েল তৈরির ওয়ার্কসপের নাম দিয়েছেন হাসান ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ। তার ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপে ২ জন কর্মচারীকে মাসিক বেতন হিসেবে কাজ করে। প্রথমে এলাকায় পাম্প টিউবওয়েলগুলো বিক্রি হলেও এখন আশপাশের জেলাগুলোতেও বাড়ছে তারেকের টিউবওয়েলের চাহিদা। তারেক (৪২) জানায়, আমার সঙ্গে অনেকেই যোগাযোগ করতে চায়। কিন্তু মোবাইল নম্বর জানা না থাকায় যোগাযোগ করতে পারে না। মোবাইল নম্বর_ ০১৯৩৫-৩৮৫০৭৪। আমার সাধ আছে, সাধ্যের অভাব। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে টিউবওয়েল তৈরির উপকরণ ক্রয় করতে পারছি না। সরকারি ও বেসরকারি কাজে যদি আমার পাম্পগুলো একটু বেশি পরিমাণে বিক্রি করতে পারতাম তাহলে আমার এগিয়ে যেতে সহজ হতো। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে তার তৈরি টিউবওয়েলগুলো নেয়ার দাবি জানায়। তিনি জানান সরকারি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বলে তিনি আরও নতুন করে গবেষণা করতে পারবেন। তৈরি করতে পারবেন মানসম্মত টিউবওয়েল।
টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর শহর থেকে ১০ কি.মি. উত্তরে অরণখোলা ও মির্জাবাড়ি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ভবানীটেকি গ্রামে ১৯৭৫ সালে তারেক জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আ. ছামাদ। মাতার নাম জহুরা বেগম। ৬ ভাই ১ বোনের মধ্যে তারেক সবার ছোট। গতকাল সরেজমিন ভবানীটেকি গ্রামে গেলে জানা যায়, তারেকের পাম্প টিউবওয়েল তৈরির মজার কাহিনী। ১৯৮৮ সালে তারেক পুরনো শ্যালো মেশিনের ব্যবসা করতেন। পুরনো নষ্ট মেশিন কিনে তা মেরামত করে বিক্রি করতেন। এতে যে আয় হতো তা দিয়ে তার সংসার চলত না। এভাবে কিছু দিন ব্যবসা করার পর তারেক চিন্তা করে বের করেন বন এলাকার মানুষের জন্য পানীয় জলের আধুনিক পাম্প টিউবওয়েল তৈরির। তার পাম্প তৈরি দেখে প্রথমে এলাকার মানুষ তাকে অবহেলার চোখে দেখত। রাত দিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রথমে তৈরি করেন সাধারণ টিউবওয়েল (তারেক পাম্প)। এ পাম্প দিয়ে বেশি পরিমাণে পানি, সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্য থাকা ও টিউবওয়েল চাপতে শক্তি কম লাগায় এর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে যায়। তারপর ২০০২ সালে তার নিজ গ্রাম ভবানীটেকি চৌরাস্তা মোড়ে খুলে বসেন ছোট আকারের ওয়ার্কসপ। এরপর তৈরি করেন ২ পা দিয়ে চেপে পানি ওঠানোর আধুনিক টিউবওয়েল। তার নাম দেন ডায়াবেটিকস পাম্প টিউবওয়েল। যাদের ডায়াবেটিক আছে তাদের জন্য এ টিউবওয়েল ব্যাপক উপকারী। তারেক জানায়, এ টিউবওয়েল প্রতিদিন ১০-২৫ মিনিট চেপে পানি উঠালে গৃস্থালির পানির চাহিদা মিটবে এবং ডায়াবেটিক অনেকটা আয়ত্বে আসবে। এ পাম্প থেকে প্রতি মিনিটে ৩০-৪০ লিটার পানি উঠানো সম্ভব। এ টিউবয়েলের দাম ১০ হাজার টাকা। এভাবে ১ বছরের মধ্যে মাথা খাটিয়ে বের করেন যে এলাকায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই সে এলাকার বিল্ডিংয়ের ছাদের ট্যাংকিতে পানি উঠানোর জন্য তৈরি করেন ফায়ার সার্ভিস পাম্প। যত বেশি প্রেসার দিয়ে ফায়ার সার্ভিস পাম্পটি চাপা হবে তত বেশি উপরে পানি উঠবে। টিউবওয়েলের মুখে রাবারের পাইপ লাগিয়ে হাতলে প্রেসার দিতে থাকলে ১০০-২০০ ফুট উপরে পানি উঠানো সম্ভব বলে তারেক জানান। এ তিনটি টিউবওয়েলেই ১০০ ফুট গভীর থেকে পানি উঠানো যায়। স্থান উঁচু হলেও কোন সমস্যা নেই। পাম্প টিউবওয়েল তৈরির জন্য অক্সফাম সহায়তায় মধুপুর জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ ও মধুপুর গড় ক্যাম্পেইন গ্রুপ আয়োজিত 'গ্রামীণ জীবন যাত্রা মেলা-২০১২'-তে শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবক হিসেবে কৃষি সম্মাননা পেয়েছেন। মধুপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি জানান, প্রত্যন্ত এলাকার বেকার যুবক তারেক সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। এতে উৎসাহিত হয়ে আরও প্রযুক্তিভাবে কম দামে উন্নতমানের টিউবওয়েল তৈরি করতে পারবে। -হাবিবুর রহমান, মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রথম পাতা :: সংবাদ http://www.thedailysangbad.com:

  মধুপুরে পাম্প টিউবওয়েলের উদ্ভাবক তারিকুল 
 এক সময়ের দিনমজুর হতদরিদ্র ও বেকার তারিকুল ইসলামের জীবনচিত্র এখন পাল্টে গেছে। দেশের মধ্যে প্রথম ৩ ধরনের আধুনিক পাম্প টিউবয়েল উদ্ভাবন করে খুঁজে পেয়েছেন সুখের ঠিকানা। প্রথমে তিনি শুরু করেন শ্যালো মেশিনের মেকানিক্যালের কাজ। প্রায় ৫ বছর মেশিনের কাজ করে এলাকাজুড়ে সুনাম অর্জন করেন শ্যালো মেকার হিসেবে। এ কাজ করার পাশাপাশি তারেক চিন্তা করতে থাকেন নতুন কিছু তৈর ি করার। তারপর ১৯৮৮ সালে বাড়িতে বসেই শুরু করেন পুরোনো শ্যালো মেশিনের যন্ত্রপাতির ক্রয় করা। শ্যালো মেশিনের পুরোনো লায়নার, রিক্সা-ভ্যানের পুরোনো এক্সএল, বেয়ারিং, পুরোনো লোহার পাইপ, মেশিনের ওয়ারস্যালন প্রভৃতি সংগ্রহ করেন। লায়নার দিয়ে টিউবয়েলের বডি, রিকশার এক্সেল দিয়ে হাতল, পাইপ দিয়ে টিউবয়েলের গোড়ার অংশ এয়ারগ্যালন দিয়ে উপরের অংশ তৈরি করে ঝালাই দিয়ে বেয়ারিং লাগিয়ে তৈরি করেন টিউবয়েল। খবর বাসসের। প্রথমে নিজের বাড়িতে লাগান নতুন উদ্ভাবিত টিউবয়েল। তার টিউবয়েলের নাম রাখেন ‘তারেক পাম্প’। তারপর ২০০২ সালে তার নিজ গ্রাম ভবানীটেকি চৌরাস্তা মোড়ে খুলে বসেন ছোট আকারের ওয়ার্কশপ। যে এলাকায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই সে এলাকার বিল্ডিংয়ের ছাদের ট্যাংকিতে পানি উঠানোর জন্য তৈরি করেন ‘প্রেসার পাম্প টিউবয়েল’। যতো বেশি প্রেসার দিয়ে টিউবয়েলটি চাপা হবে ততো বেশি ওপরে পানি উঠবে। টিউবয়েলের মুখে রাবারের পাইপ লাগিয়ে হাতলে প্রেসার দিতে থাকলে ১/২শ’ ফুট ওপরে পানি ওঠানো সম্ভব বলে তারেক জানান। এ তিনটি টিউবয়েলেই ১শ ফুট গভীর থেকে পানি ওঠানো যায়। স্থান উঁচু হলেও কোনো সমস্যা নেই। তারেকের এ তিনটি পাম্প টিউবয়েল তৈরির ওয়ার্কশপের নাম দিয়েছেন ‘হাসান ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’। তার ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে ২ জন কর্মচারী মাসিক বেতন হিসেবে কাজ করছে। প্রথমে এলাকায় পাম্প টিউবয়েলগুলো বিক্রি হলেও এখন আশপাশের জেলাগুলোতেও বাড়ছে তারেকের টিউবয়েলের চাহিদা।
টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর শহর থেকে ১০ কি:মি: উত্তরে অরণখোলা ইউনিয়নের ভনানীটেকি গ্রামে ১৯৭৫ সালে তারেক জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আব্দুস ছামাদ। মায়ের নাম জহুরা বেগম। তারেক জানান, ‘সাধ আছে, সাধ্যের অভাব। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে টিউবয়েল তৈরির উপকরণ ক্রয় করতে পারছি না। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যদি আমার পাম্পগুলো একটু বেশি পরিমাণে বিক্রি করতে পারতাম তাহলে আমার এগিয়ে যেতে সহজ হতো।’ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে তার তৈরি টিউবয়েলগুলো নেয়ার দাবি জানান তিনি। গত ২০১০ সালের মধুপুর কৃষি মেলায় খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ‘ডায়াবেটিক পাম্প টিউবয়েল’ দেখে প্রশংসা করেন। তারেক জানান, ‘আমি যখন সকালে ঘুম থেকে উঠে ওয়ার্কশপে গিয়ে কাজ করি, ঝালাই মেশিন ও হাতুড়ের আঘাতে তৈরি পাম্প দেখে আমার খুব ভালো লাগে। লিখেছেন বাংলার দামাল চালু করুন মে 28, 2012 ভোরের কাগজ / অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য : ২৭/০৫/২০১২অর্থ শিল্প বাণিজ্য ডেস্ক মধুপুরে তারিকুলের উদ্ভাবন

মধুপুরের জঙ্গল পথে দিনেও পুলিশ পাহারা
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পঁচিশমাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে রসুলপর পর্যন্ত দীর্ঘ ৮ কিলো সড়কের উভয় পাশে ঘন শালবন। এ জঙ্গল ভেদ করে চলে গেছে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়ক। জঙ্গলের আঁকাবাঁকা সড়ক পাড়ি দিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ থেকে উত্তরবঙ্গ এবং আন্তঃজেলার ১০টি রুটে প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী বাস ও যান চলাচল করে। গড় এলাকার ফল আহরণ মৌসুমে কাঁঠালকলা ও আনারস পরিবহনে যোগ হয় বাড়তি ট্রাকট্রলি ও নসিমন। তবে এ সড়কের জঙ্গলে ঢাকা অংশ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ। ডাকাতির ভয়ে চব্বিশ ঘণ্টা পুলিশ পাহারা দেয় এ জঙ্গলময় এলাকা। সড়কের উভয় পাশের গহীন জঙ্গলের ৩/৪ কিলোর মধ্যে জনপদ না থাকায় দুর্বৃত্তরা অপরাধ করার বাড়তি সুযোগ পায়। 
ডাকাতি করে চোখের পলকে গহীন জঙ্গলে অন্তর্ধান হয়ে যায়। সাধারণত রাতের বেলায় গাছ ফেলে এবং দিনের বেলায় যাত্রীবেশে গাড়িতে উঠে জঙ্গল এলাকায় পৌঁছা মাত্র চালককে জিম্মি করে এবং যাত্রীদের মারপিট করে সর্বস্ব লুটে নিয়ে গাঢাকা দেয়। আবার সন্ধ্যার দিকে প্রায় প্রায়ই এ সড়কে রশি পার্টির উপদ্রব দেখা দেয়। দুর্বৃত্তরা সড়কের পাশের জঙ্গলে রশি নিয়ে লুকিয়ে থাকে। মোটরসাইকেলসিএনজি বা হালকা যানবাহনের শব্দ পাওয়া মাত্র দুপাশ থেকে রশি টেনে বাহকের গতিরোধ করে। চালক গাড়িসহ পড়ে গেলে তাকে মারপিট করে যান নিয়ে চম্পট দেয়।
২০০৩ সালে এ সড়কে ডাকাতির সময় একজন আদিবাসি গারো স্কুল শিক্ষিকা নিহত হলে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। প্রশাসন বাধ্য হয়ে তখন থেকে জঙ্গলে পুলিশী পাহারার ব্যবস্থা করে। সারা বছরই রাতের বেলায় পুলিশের পাহারায় সকল প্রকার যানবাহন জঙ্গল পাড়ি দেয়। দিনের বেলায় পুলিশ সদস্যরা একটি পিকআপ নিয়ে জঙ্গলের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে দাঁড়িয়ে ডিউটি করে। এভাবে ডাকাত তাড়াতে পুলিশ মধুপুর জঙ্গল পাহারা দিচ্ছে নয় বছর ধরে। ব্যবসায়ীরা জানানএ সড়কে ডাকাতি করতে আসা দুর্বৃত্তদের সবাই বহিরাগত। বিগত এক দশকে শতাধিক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় ধৃত ও নিহতরা পার্শ্ববর্তী মুক্তাগাছাফুলবাড়িয়া ও ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাসিন্দা। মধুপুর থানার ওসি মজিবর রহমান জানানব্যাপক পুলিশী তত্পরতার জন্য এ সড়কে ডাকাতি বন্ধ হয়ে গেছে।
রেফারেসঃ http://new.ittefaq.com.bd/news/view/163009/2012-11-10/45

মধুপুর আনারসের পুষ্টিগুণ
আনারস বর্ষাকালীন ফল হলেও এখন প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। কাঁচা আনারস স্বাদে অম্ল। পাকা আনারসে রয়েছে অম্ল মধুর রস, সুমিষ্ট গন্ধ ও স্বাদ এবং পুষ্টিকর দিক দিয়ে পাকা আনারস অতুলনীয়। পাকা আনারস থেকে নানা ধরনের খাদ্য তৈরি করা যায়- জুস, জ্যাম, জেলী, স্কোয়াশ সাইট্রিক এসিড, ভিনেগার ইত্যাদি। ১০০ গ্রাম খাদ্যোপযোগী আনারসে যে সমস্ত পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা হল জলীয় অংশ ৯.২ গ্রাম, প্রোটিন ০.৯ গ্রাম, শর্করা ৬.২ গ্রাম, ভিটামিন বি১ ০.১১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ২১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১৮৩০ মাইক্রোগ্রাম, লৌহ ১.২ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ ক্যালরি। আনারসে প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় সাধারণ ভাইরাস জ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সর্দি কাশিতে অত্যন্ত উপকারী। 
আমাদের দেশে সাধারণ সর্দি-কাশিতে আনারস খাওয়ার পরামর্শ দেন না এমন লোক খুব কমই আছেন। বর্ষাকালেই সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর বেশি হয় এবং শুরুতেই আনারসের রস খেলে দ্রুত নিরাময় করা সম্ভব হয়। আনারসে ব্রোমোলিম নামক এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকায় তা কফ বা মিউকাসকে তরল করে এবং হজমে সহায়তা করে। গলাব্যথা, সোর থ্রোট, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং ব্রংকাইটিসে আনারসের রস ওষুধের বিকল্প হিসাবে কাজ করে। আনারসের পাতার রস ক্রিমিনাশক। দু' চামচ করে প্রতিদিন পাতার রস খেলে কয়েকদিনের মধ্যেই কৃমির উৎপাত বন্ধ হয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, আনারসে রয়েছে এক প্রকার এনজাইম যা প্রদাহনাশক ও মিউকোলহিটিক হিসাবে কাজ করে। বদহজম বা পেট ফাঁপা সমস্যায় আনারসের রসের সাথে সামান্য লবণ ও গোলমরিচ গুঁড়া মিশিয়ে খেলে আরোগ্য হয়।

জলছত্রতে বিশ্ব আদিবাসী দিবসে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে গত ৯ আগস্ট টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার জলছত্র ফুটবল মাঠ প্রাঙ্গণে আদিবাসী গারো, কোচ ও বর্মন শিল্পীরা এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদশর্নীর আয়োজন করে। জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, আচিকমিচিক সোসাইটি, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন, গাসু, কারিতাসসহ ১৪টি বেসরকারি সংস্থা ছিল অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক। গারো নেতা ইউজিন নকরেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মধুপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্টু। বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মির ফরহাদুল আলম মনি, মহিলা ভাইসচেয়ার যষ্ঠিনা নকরেক, আদিবাসি নেতা অজয় এ মৃ, গারো নারী নেত্রী সুলেখা ম্রং, প্রশান্ত চিরান প্রমুখ।

লেখক: জয়নাল আবেদীন, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা  |  বৃহস্পতিবার, ৩০ অগাষ্টu-এ ২০১২, ১৫ ভাদ্র ১৪১৯
Source: http://new.ittefaq.com.bd/news/view/132749/2012-08-30/56

মধুপুরে আঙ্গুর, আপেল ও মাছে ফরমালিন : জরিমানা আদায়

মধুপুরে জনস্বাস্থ্যে ভয়ঙ্কর ক্ষতিকারক পদার্থ ফরমালিনযুক্ত আঙ্গুর, আপেল ও মাছ বিক্রি হচ্ছে এবং সকল ফল ও মাছে ওজনে কম দিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে ব্যবসায়ীরা। 

গত বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত মধুপুর পৌর শহর ও মাছ বাজারে এক অভিযান চালিয়ে হোটেল, মিষ্টি, ফল ও মাছের ১১ দোকানদারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এছাড়া হানিফ নামের এক ধুমপায়ীকে ৫০ টাকা জরিমানা করে। এসিল্যান্ড (সহকারি কমিশনার ভূমি) খান মোহাম্মদ নাজমুস সোয়েব, উপজেলা মত্স কর্মকর্তা আবদুর রাশেদ, সেনেটারী ইন্সপেক্টর অমলেশ চন্দ্র দে সরকার, এসআই আমিনূল ইসলাম ও অন্যান্য সহযোগীদের সমন্বয়ে গঠিত আদালতটি মধুপুরে পরীক্ষা করে আঙ্গুর ও আপেলে ফরমালিন পায় এবং খেজুরে মাপে কম দেওয়ায় ৩ জনকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা, মাছ বাজারে পরীক্ষা করে মাছে ফরমালিন ও বাটখারা কম পেয়ে ৩ জনকে ৩ হাজার টাকা, ৩টি খাবার ও ২টি মিষ্টির দোকানে অপরিচ্ছন্নতার জন্য ১৪ হাজার টাকা এবং ধুমপান আইনে এক ধুমপায়ীকে ধরে ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করে।

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
Source: http://www.amardeshonline.com/pages/details/2012/08/04/157593

মধুপুর গড়ে ফল কেনাবেচায় ধস

পরিবহন ধর্মঘট গত মঙ্গলবার থেকে দেশ জুড়ে শুরু হওয়া ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ধর্মঘটের দরুন বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধুপুর গড়ের পাইকারি মার্কেটে ফল কেনাবেচায় ধস নেমেছে। বাজারজাত ও পরিবহন সমস্যায় কোটি কোটি টাকার আনারস, কাঁঠাল ও কলা পচে নষ্ট হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, এবার গড় এলাকার মধুপুর, ধনবাড়ি (অংশ বিশেষ), মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ঘাটাইল, সখিপুর ও জামালপুর সদর (অংশ বিশেষ) উপজেলায় ৩১ হাজার একরে আনারস, ১৬ হাজার একরে কাঁঠাল এবং ২৮ হাজার একরে কলার আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন হয়েছে আশাতীত। ইতিমধ্যে হাটবাজারে বিপুল পরিমাণ ফলমূল উঠছে। সাগরদীঘি, গারোবাজার, জলছত্র, মঠের বাজার, চৌরাস্তা বাজার, আশ্রা বাজার, গাবতলী, শোলাকুড়ি, দোখলা ও হাগড়াকুড়ি বাজার থেকে কেনা এসব ফলের চালান প্রতিদিন শত শত ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র যাচ্ছিল। গত মঙ্গলবার হতে পাইকারি মার্কেট থেকে কেনা বিপুল পরিমাণ ফল কিনে মহাজনরা বাজারেই স্তূপাকার করে রেখেছেন। কিন্তু পরিবহন ধর্মঘটের দরুন কেনা ফল মোকামে চালান দেয়া যাচ্ছে না। খুলনার আনারস ব্যবসায়ী শামসুল হক জানান, কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকানোর জন্য মহাজনরা আনারস, কাঁঠাল ও কলায় হরমোন স্প্রে করে থাকে। হরমোনে ভেজানো এসব ফল তাড়াতাড়ি মোকামে নিয়ে গুদামজাত করতে না পারলে দ্রুত পেকে বিনষ্ট হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার বিকালে কেনা ১০ ট্রাক আনারস গতকাল বৃহস্পতিবার চালান দিতে না পারায় সেগুলো পচে বিনষ্ট হচ্ছে। জলছত্র ফল ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা পরিবহন ধর্মঘটের দরুন কোটি কোটি টাকার ফল পচে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন। মধুপুর উপজেলার ইদিলপুর আনারস চাষি সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, গত তিন দিনের একটানা বর্ষণে অনেকের ক্ষেতের ফল পেকে গেছে। অনেকেই ক্ষেত থেকে ফল সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পরিবহন ধর্মঘটের দরুন মহাজনরা নতুন করে ফল কিনছে না। এমতাবস্থায় ক্ষেতের ফল ক্ষেতেই পচে বিনষ্ট হচ্ছে। মধুপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, ফল পাকার ভরা মৌসুমে এ ধরনের ধর্মঘটের দরুন উত্পাদক ও ব্যবসায়ীরা পণ্যের বাজারজাতকরণ নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
লেখক: গোপালপুর(টাঙ্গাইল)সংবাদদাতা | মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১২, ২ শ্রাবণ ১৪১৯
Source: http://new.ittefaq.com.bd/news/view/111167/2012-07-17/10

টাঙ্গাইলের মধুপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মধুপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের নবীন বরণ ও ছাত্রলীগের সম্মেলন গতকাল রবিবার কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মধুপুর কলেজ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। মীর শামসুল হক শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দীকি নাজমুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক আজিজুল হক লুলু, বিআরডিবির চেয়ারম্যান সরোয়ার আলম খান আবু, আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার সফিউদ্দীন মনি, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফ আহমেদ নাসির, সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।

লেখক: গোপালপুর(টাঙ্গাইল)সংবাদদাতা | মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১২, ২ শ্রাবণ ১৪১৯

Source: http://new.ittefaq.com.bd/news/view/111909/2012-07-17/45

মধুপুর ফেইসবুক গ্রুপের বর্ষপূর্তি উদযাপন

২০১১ সালে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় গঠিত হয় মধুপুরবাসি ফেইসবুক গ্রুপ। এ গ্রুপের বর্ষপূর্তি উত্সব বুধবার জাঁকজমকভাবে পালিত হয়। মধুপুর কলেজ চত্বরে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন মধুপুর কলেজের অধ্যক্ষ মোন্তাজ আলী।
শোভাযাত্রাটি শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করে।



সেখানে কেক কেটে বর্ষপূর্তির ঘোষণা দেয়া হয়। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ডাঃ মির ফরহাদুল আলম মনি, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক আজিজুল হক লুলু, বিআরডিবির চেয়ারম্যান সরোয়ার আলম খান, মধুপুর জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মাসুদ পারভেজ, পৌর কমিশনার মেহেদী হাসান মঞ্জু, ফেসবুকের প্রধান সমন্বয়কারী সুলতান প্রমুখ।
লেখক: গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা | বৃহস্পতিবার, ৫ জুলাই ২০১২, ২১ আষাঢ় ১৪১৯




মধুপুরে ২০ কিলোমিটার সড়কে ১০ ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকার ২০ কিলোমিটার সড়কে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে হুমকি হয়েছে দাঁড়িয়েছে। বিগত এক বছরে ব্রিজের রেলিং ভেঙ্গে খাল-বিল ও ডোবায় যানবাহন পড়ে ১০ জনের প্রাণহানি এবং শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
মধুপুর-গারো বাজার সড়কটি মধুপুর উপজেলা ছাড়াও ঘাটাইল, ফুলবাড়িয়া এবং মুক্তাগাছা উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ৪টি উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার একরে আনারস, ১০ হাজার একরে কলা, ৬ হাজার একরে কাঁঠাল, ৮ হাজার একরে রাবার, ১২ হাজার একরে সবজি এবং ৮ হাজার একরে হলুদ ও আদা এবং ৯ হাজার নানা ফলমূল ও অর্থকরী ফসলের আবাদ হয়।
গারো বাজার বৃহত্তর ময়মনসিংহের পাহাড়ি এলাকার সবচেয়ে বড় হাট। প্রতিদিন এখানে কোটি টাকার ফল, সবজি ও অর্থকরী ফসল বিকিকিনি হয়। গারো বাজার ছাড়াও মঠের বাজার, কাকরাইদ. জলছত্র, নতুন বাজার, আলোকদিয়া, আশ্রা ও সাগরদিঘী বাজার থেকে কেনা ফলমূল ও কৃষি পণ্য মধুপুর-গারোবাজার সড়ক হয়ে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে পরিবহন করা হয়। এ সড়কে প্রতিদিন সহস্রাধিক বাস, ট্রাক, টেম্পোসহ নানা ধরনের যান চলাচল করে। পাহাড়ি এলাকার চার লক্ষাধিক মানুষ এ সড়কে যাতায়াত করে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন শত শত ট্রাক আনারস, কলা, কাঁঠাল নিয়ে এ সড়ক ধরেই নানা স্থানে যাতায়াত করে। প্রায় চার যুগ আগে এ সড়কের কাকরাইদ রামকৃষ্ণবাড়ি, সাইলবাইদ, ইদিলপুর, বোকারবাইদ, মমিনারা, মোটেরবাজার, সলিং, নেদুর বাজার ও মন্ডলপাড়া ব্রিজ নির্মিত হয়। এসব ব্রিজের অধিকাংশই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। ইদিলপুর ব্রিজটির দুই পাশের রেলিং ভেঙ্গে গেছে। নীচের পাটাতনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভারি যানবাহন উঠামাত্র ব্রিজটি কাঁপতে থাকে। সরু ও বিপজ্জনক এ ব্রিজে প্রায়ই যানবাহন আটকে গেলে পারাপারে পথচারিদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
লেখক: গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা | বুধবার, ৪ জুলাই ২০১২, ২০ আষাঢ় ১৪১৯

মধুপুরে গাছ কাটায় পেশাদার মহিলা চোরেরাও পিছিয়ে নেই
মধুপুর বনে গাছ কাটায় পেশাদার পুরুষ চোরদের পাশাপাশি মহিলারাও পিছিয়ে নেই। মহিলাদের মধ্যেও রয়েছে পেশাদার গাছ চোর। বেশকিছু উপজাতীয় ও কিছু বাঙালি মহিলা জীবিকা নির্বাহ ও সংসার চালায় শুধু বনের গাছ চুরি করে। দল বেঁধে ও এককভাবে দিনের বেলায় তারা গাছ কেটে নিয়ে যায়। গারো মহিলারা প্রকাশ্যে বনরক্ষীদের সামনেই গাছ কেটে নিয়ে যায়। বনরক্ষীরা কিছু বললেই তারা তেড়ে আসে। যেন এটা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। বাধা দিলে বিপদ হতে পারে এ আশঙ্কায় অনেক ক্ষেত্রে বন বিভাগও নীরব থাকতে বাধ্য হয়। আর এ ভয়ঙ্কর কাজে বাধা দিলে ধারালো দা, কুড়াল, লাঠি, শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তেড়ে আসে, বন্দুক তাক করলে বা ফাঁকা গুলি ছুড়লে অস্ত্র হাতে মাথা নিচু করে ধেয়ে আসে। প্রাণহানি এড়াতে গার্ডরা তখন পিছু হটে। আর কোনো ক্যামেরাম্যানকে ছবি তুলতে দেখে ফেললে আর রক্ষা নেই। দগবান্ধা বা শাড়ির আঁচল কোমরে প্যাঁচ দিয়ে দা উচিয়ে তেড়ে আসে। তখন দৌড়ে পালানো ছাড়া উপায় নেই। তাদের হাতে পড়লে নিশ্চিত প্রাণহানি কিংবা দায়ের কোপ খাওয়ার আশঙ্কা। কেই প্রাণ হারালে লাশ খুঁজে পাওয়া যাবে না।। দিনরাত পুরুষ ও মহিলা চোরেরা অবাধে গাছ কাটছে মধুপুর বনে। ব্যবহৃত কাঠ ও জ্বালানিতে তারা এগুলো পাচার ও বিক্রি করে দিচ্ছে। কাঁধে, মহিষ ও ঘোড়া গাড়ি এবং ভ্যানযোগে তারা বন থেকে গাছ বের করে নিয়ে যাচ্ছে। বড় এবং মাঝারি বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ছে মধুপুর বন। এদিকে ভূমিদস্যুরা নির্বিচারে বন উজাড় করে ভূমি দখলে চাষাবাদের অভিযানে নেমেছে। অংশীদারিত্বে সৃজিত বনের গাছগুলোও চোর এবং অনেক ক্ষেত্রে অংশীদার নিজেই কেটে বিক্রি করছে। প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে মধুপুর বনে পুরুষ-মহিলাদের গাছ কাটার ভয়ানক এ দৃশ্য।Source: http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/03/07/21463

মধুপুর বনের বিপন্ন প্রাণী
মধুপুর বনাঞ্চল বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য বনাঞ্চল। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে মধুপুর বনের গুরুত্ব অনেক। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই বনের রয়েছে বিরাট তাৎপর্য। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীব্যাপী যখন বনাঞ্চল বাড়ানোর তাগিদ অনুভব হচ্ছে তখন মধুপুর বনের অবস্থা সঙ্গিন। শুধু যে বন ধ্বংস হচ্ছে তাই নয়, বনের জীবজন্তুর জীবনও বিপন্ন হয়ে পড়েছে ক্রমে ক্রমে। বনে কেবল গাছপালাই থাকে না। সেই সঙ্গে থাকে বনের জীবজন্তুও। বন ধ্বংস হলে সেই সব জীবজন্তুরও জীবন যে বিপন্ন হবে সেটি তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। খাদ্য ও আবাসস্থলের সঙ্কটের কারণে মধুপুর বনাঞ্চলের জীবজন্তু লোকালয়ে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে- সহযোগী একটি দৈনিকে এ রকম একটি খবর বেরিয়েছে। এ ধরনের খবরে সচেতন মানুষ মাত্রই উদ্বিগ্ন না হয়ে পারবেন না। তাই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি দেবে এমনটিই কাম্য। টাঙ্গাইলের গোপালগঞ্জের ৬২ হাজার একর মধুপুর বনাঞ্চল উজাড় হতে হতে এখন মাত্র ১২ হাজার একরে এসে ঠেকেছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার একর হচ্ছে কৃত্রিম বন।কৃত্রিম বনের বিদেশী প্রজাতির গাছের ফুল, ফল, লতাপাতা খাবার অনুপযোগী হওয়ায় পশুপাখিরা সেখানে বাসা বাঁধে না, আশ্রয় নেয় না, এমনকি প্রজননও ঘটায় না। এ অবস্থায় সাত হাজার একর প্রাকৃতিক বনাঞ্চলেই বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল। হরিণ, বাঘডাস, বানর, হনুমান, বনমোরগ, খরগোশ ও কচ্ছপসহ নানা প্রজাতির পশুপাখি রয়েছে এ বনে। কিন্তু বনের চিরায়ত গাছপালাÑ আমলকি, হরীতকী, বহেড়া, সিধা, কাইকা, সিন্ধুরি, জয়না, পলাশ ইত্যাদি কমে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীর খাবার ও আশ্রয়স্থল সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় প্রাণীরা খাদ্য সংগ্রহে চলে আসে লোকালয়ে। আর তখনই শিকারিদের হাতে ধরা পড়ে প্রাণ দিতে হয় এদের। শুধু তাই নয়, এই বনের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ ব্যস্ততম হাইওয়ে পার হতে গিয়েও প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারায় অনেক বন্যপ্রাণী। উপরন্তু গাছচোরদের দৌরাত্ম্য এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দিন দিন উজাড় হচ্ছে বন। ফলে আশ্রয় হারাচ্ছে পশু-পাখি। পৃথিবীতে ছোট বড় সকল প্রাণীরই বেঁচে থাকার অধিকার আছে। শুধু তাই নয়, মানুষের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতেও বন্যপ্রাণীদের টিকে থাকা অত্যন্ত জরুরী। আর এ জন্যই প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা প্রয়োজন। এমনিতেই পৃথিবী থেকে অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তারপরও মনুষ্যসৃষ্ট কারণে যদি পশু-পাখির জীবন দিতে হয় এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে। শুধু মধুপুর বন নয়, সারাদেশের সকল বনাঞ্চলের প্রাণিকুল রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ কাম্য। মানবকুলের অস্তিত্ব রক্ষায় এ কাজ করতেই হবে।

নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে অন্যতম বৃহত্ মধুপুর বন
আয়তনের দিক থেকে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল মধুপুর বন নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। নির্বিচারে গাছ উজাড় করে ভূমি জবরদখলের মহোত্সব চলছে। বনে এখন আর বড় গাছ চোখে পড়ে না। বটগাছগুলোও বর্তমানে কেটে নিয়ে যাচ্ছে কাঠচোর ও ভূমিদস্যুরা। মহিলারাও এ কাজে পিছিয়ে নেই। দল বেঁধে ও বিচ্ছিন্নভাবে দিনরাত চলছে গাছ কাটার হিড়িক। সীমিত জনবল নিয়ে বন বিভাগ মাঝে মাঝে বাধা দিয়ে গোলাগুলি করে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পিছু হটে আসছে। বিশেষ করে উপজাতীয় পুরুষ-মহিলা ও শিশু-কিশোরদের সঙ্গে তারা পেরেই উঠছে না। পাশাপাশি বাঙালিরাও হয়ে উঠেছে কাঠ কাটায় বেপরোয়া। দিনরাত অসাধু কাঠ ব্যবসায়ী ও চোরেরা গাছ কেটে ট্রাক, ট্রলি, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়িতে করে খোলাবাজারে জ্বালানি, নির্মাণ কাজে ব্যবহার, আসবাবপত্র ও ঘরবাড়ি তৈরির জন্য, স’ মিল, ইটের ভাটা এবং সুদূর রাজধানী পর্যন্ত চলে যাচ্ছে এ কাঠ। আর প্রভাবশালী ভূমি জবরদখলকারীরা নেপথ্যে থেকে ঘণ্টায় এক-দেড়শ’ টাকা পারিশ্রমিক দিয়ে একযোগে শতাধিক শ্রমিক লাগিয়ে নির্বিচারে বনজুড়ে আগুনে পুড়িয়ে জমি দখল করে নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্ভরযোগ্য এক বিভাগের জরিপে দেখা যায়, এক জাতীয় উদ্যান সদর বিটেই মাসে প্রায় ৭ হাজার উপযুক্ত শাল গাছ কাটা গেছে। বর্তমানে এ সংখ্যা আরও ব্যাপক হারে বেড়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন, মন্ত্রী পর্যন্ত স্বীকার করেন—গত ১ বছরে যে হারে বন ধ্বংস হয়েছে তা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ নেই। বিরল প্রজাতিসহ ১৯০ ধরনের প্রাণী ও দুর্লভ ঔষধি বৃক্ষসহ ১৭৬ প্রজাতির বৃক্ষে সমৃদ্ধ ছিল ঐতিহাসিক মধুপুর বন। বন্যপ্রাণীর কোলাহল, ভ্রমরের গুঞ্জন আর পাখির কলকাকলীতে সদামুখরিত থাকত সবুজ বৃক্ষরাজির সুন্দর এ প্রকৃতি। কিন্তু মানুষের আগ্রাসনে তা আজ বৃক্ষশূন্য, শুধুই হাহাকার বিরাজমান। বিপর্যস্ত বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ। বন ধ্বংসের সঙ্গে অনেক প্রজাতির বন্যপ্রাণীও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে বনভূমিও চলে গেছে ভূমি জবরদখলকারীদের হাতে। ৪৫ হাজার ৫৬৫ দশমিক ১৮ একর বনভূমির মাঝে বন বিভাগের হাতে রয়েছে কাগজে-কলমে প্রায় ১০ হাজার একর, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কাছে প্রায় ৪শ’ একর এবং বনশিল্প ও রাবার উন্নয়ন কর্পোরেশনের কাছে ১০ হাজার একর বাদে পুরোটাই চলে গেছে ভূমি জবরদখলকারীদের কাছে এবং দিন দিন এ জবরদখল বেড়ে নিঃশেষ হওয়ার পথে বন। বর্তমানে বন উজাড় ও ভূমি গ্রাসের অভিযান চলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব রোধে বৃক্ষ তথা বন অতীব গুরুত্বপূর্ণ; অথচ চোখের সামনে জাতীয় সম্পদ উল্লেখযোগ্য একটি বনাঞ্চল দেশ হারাতে বসেছে।। এটা জেনেও কোনো প্রতিকার নেই। নেই রক্ষার কোনো পদক্ষেপ। সরকারের উদাসীনতায় মধুপুরসহ দেশের বনাঞ্চলগুলো আজ হুমকির সম্মুখীন। মধুপুর বন ধ্বংসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো। বন উজাড় করে বসতি স্থাপন : ভূ-প্রকৃতির বৈচিত্র্যে হাজার বছর আগে গড়ে ওঠে মধুপুর বন। কবে কখন থেকে বনে বসতি স্থাপিত হয়েছে তার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই। তবে শত বছর আগে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত ১৯০৭ সালের সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মধুপুর মূল বনাংশের ৪২০ বর্গমাইল এলাকায় গারোর সংখ্যা ছিল ৩৬৭, হিন্দু ও মুসলমান ২ লক্ষাধিক, খ্রিস্টান ৫ জন। এর মাঝে বনে বাঙালিদের বাস ছিল তুলনামূলক কম। বনের ধারে হিন্দু, কোচ ও গভীর বনে গারোরাই ছিল বেশি। যারা গারো পাহাড়, মেঘালয়সহ ভারতের বনাঞ্চল থেকে ব্রিটিশ শাসকদের অত্যাচার ও প্রতিকূল অবস্থায় কষ্টকর জীবন যাপন থেকে একাংশ গারো সরে একশ’ থেকে দেড়শ’ বছর আগে দক্ষিণের সমতলভূমি আমাদের উত্তর সীমান্ত কমলাকান্দা, দুর্গাপুর, হালুয়াঘাট, নালিতাবাড়ী, দেওয়ানগঞ্জ, শ্রীবর্দী, ঝিনাইগাতী, মধুপুর ও ভাওয়াল গড়ে আবাসস্থল গড়ে তোলে। বনজুড়ে জুম চাষ করে পরে দখল বিক্রি বা ফেলে অন্যত্র নতুন করে শুরু করে। মধুপুর বনভূমি সমতল ও অধিক উর্বর হওয়ায় অন্য অঞ্চল থেকে ব্যাপক হারে মধুপুরে এদের আগমন ঘটতে থাকে। উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসক ফরেস্ট সেটেলমেন্ট অফিসার হওয়া সত্ত্বেও বেআইনিভাবে বনের অনেক খালি জায়গা বন্দোবস্ত দিয়েছিলেন, যা বসতি গড়ে ওঠায় সহায়ক হয়েছে এবং খাজনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ওই জমির খাজনা বন্ধ করে বন্দোবস্ত বাতিল করে। কিন্তু বসতি উচ্ছেদ হয়নি। গারোরা বনজুড়ে দখল বিক্রি করে দেয়ায় বনে বাঙালি বসতি ও চাষাবাদের আগমন ঘটেছে ব্যাপকভাবে। বর্তমানে মূল বন এরিয়ায় প্রায় ২৫ হাজার গারো ও প্রায় লাখো বাঙালির বসবাস। গাছের পাতা ঝরে মাটির উপরের অংশ জৈব সারে পরিণত হওয়ায় চাষাবাদের খুবই উপযোগী এ সমতল বনভূমি। দেশের একমাত্র এ বনাঞ্চলেই একসঙ্গে চার ফসল আবাদ হয়। এ লোভে বনজুড়ে চাষাবাদের জন্য জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে এবং গড়ে উঠেছে কলা-আনারসের গড়। বনের সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল-জামালপুর এ ৩ জেলার লোক বনটিকে ঘিরে ধরেছে। উপজাতি-বাঙালি মিলে বন উজাড় করে সবশ্রেণীর লোক প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে চাষাবাদ করে বসতি গড়ে বনকে গ্রাস করছে। বনের কাঠ জ্বলে ইট ভাটায় : পরিবেশ আইনে ইটের ভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও সব ভাটায়ই চলছে অবাধে বনের কাঠ পোড়ানো। নিকটবর্তী ধনবাড়ী, মধুপুর, ঘাটাইল ও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার শতাধিক ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে মধুপুর বনের কাঠ দিয়ে। বিশেষ করে ধনবাড়ী উপজেলার বনের ধারে ধোপাখালীর এমএম ব্রিকসসহ ১১টি ভাটাতে শুধু বনের শাল কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। প্রতি রাতে ভ্যান ও গোড়া গাড়িতে বনের শাল কাঠ চলে যাচ্ছে ভাটায়। ভাটায় মজুত রেখে তারা প্রকাশ্যে পুড়ছে কাঠ। প্রশাসনকে নিয়ে বন বিভাগ সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে কাঠ পেলেও প্রশাসন কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা না নিয়ে নামেমাত্র জরিমানা করে। এমএম ব্রিকসে গজারি কাঠ যাওয়ার গাড়ির বহর দেখে সম্প্রতি এলাকার কিছু উদ্যমী যুবক তা আটক করলে প্রভাবশালী মালিকের ক্ষমতার দাপটে ছেলেরা রণে ভঙ্গ দেয়। ক্ষমতাধর এসব মালিক কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দাপটে বনের কাঠে ইট পুড়ে বন ধ্বংস ত্বরান্বিত করছে। বন উজাড় করে কলা-আনারস চাষ : শত শত বছর ধরে বনের পাতা ঝরে সমতল এ বনভূমির মাটির উপরিভাগ সম্পূর্ণ জৈব সারে পরিণত হয়েছে, যা ফসল উত্পাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে কলা, আনারস চাষ হচ্ছে ব্যাপক হারে, সঙ্গে পেঁপে ও অন্যান্য ফসল। উপজাতি ও প্রভাবশালী বাঙালিরা অধিক লাভের কারণে নির্বিচারে বনজুড়ে জমি দখল করে নিচ্ছে। যে কারণে মধুপুর গড় এখন পরিণত হয়েছে কলা-আনারসের গড়ে। শত বছরেও কোনো ভূমিদস্যুর বিচার বা কোনো সাজা না হওয়ায় যুগে যুগে জবরদখলকারীরা উত্সাহিত হয়েছে। গারো ও বাঙালিরা বনজুড়ে চাষাবাদ ও বসতি বৃদ্ধি করে আসছে দিন দিন। আর বন হয়েছে সঙ্কুচিত। বর্তমান সরকার ভূমি অধিকার প্রদানের আশ্বাসে তারা হয়েছে বেপরোয়া। একরের পর একর প্রাকৃতিক ও সৃজিত বন ধ্বংস করে জমি জবরদখল করছে। ঘণ্টা হিসেবে মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিয়ে ঝটিকা অভিযানে বন উজাড় করে ভূমি গ্রাস করছে। নির্বিচারে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ : শহরে দ্রুত বসতির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে সর্বত্র। আর এ সঙ্কটে জ্বালানি কাঠের জন্য বনের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বনের দরিদ্র বসতিরা প্রতি দিন শাল গাছ কেটে ছোট ছোট খণ্ড করে সরুভাবে চিড়িয়ে আঁটি বেঁধে তা লাকড়ি হিসেবে বিক্রি করে দিচ্ছে। মধুপুর বাজারে সব সময় পাওয়া যাচ্ছে এ লাকড়ি। আর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকেরা তা কিনে নিয়ে ব্যবহার করছে। ট্রাকযোগে গজারি কাঠের এ লাকড়ি বিভিন্ন জেলা শহরসহ রাজধানীতে চলে যাচ্ছে। বনাঞ্চল ঘুরে দেখা যায় প্রত্যেক গারো এবং অনেক বাঙালির বাড়িতে কাঠ ও লাকড়ির স্তূপ। মহিলারাই এ কাজ করছে বেশি। নিজেরাই বনের কাঠ কেটে এনে নির্ধারিত আকারে আঁটি তৈরি করে বিক্রি করে দিচ্ছে। বন বিভাগ এসব দেখলেও যেন কিছুই করার নেই। বন বিভাগের সৃজিত বন : ফরেস্ট্রি সেক্টর প্রকল্পে অংশীদারিত্বের বনায়ন দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। রাস্তাঘাট ও বিরান ভূমিতে এ প্রকল্প ফলদায়ক হলেও প্রাকৃতিক বনে তা মোটেও ফলদায়ক নয়। বরং প্রাকৃতিক বন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বন বিভাগের কাছ থেকে প্লট নিয়েই অংশীদাররা বেআইনিভাবে লিজ দিচ্ছে কলা ও আনারস চাষের জন্য। অধিক উত্পাদন ও লাভের কারণে প্লটে কোনো গাছ না রেখে সেখানে চাষ হচ্ছে কলা-আনারস। উপরন্তু প্রাকৃতিক বনজুড়ে জায়গা খালি করে বন বিভাগের চাপে পড়লে তা গাছ লাগানোর কথা বলে কৃষি বন করে নিয়ে গাছ না রেখে ফল বাগান করছে। এ অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না হওয়ায় বনজুড়ে জায়গা আবাদি করার মানসিকতা বৃদ্ধি পায়। এ জেলারই ঘাটাইল, সখিপুর ও মির্জাপুর উপজেলার অংশীদাররা প্লটের গাছ বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকা পেলেও মধুপুর বনে তা হয়নি বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রাকৃতিক বন। থানা বনায়ন, সামাজিক বনায়ন, সবশেষে অংশীদারিত্বের বনায়নে ৪ হাজারের অধিক প্লট দিলেও কোনো সফলতা আসেনি। উপরন্তু বনভূমি চলে গেছে জবরদখলে। এ প্রকল্প এখানে বিদ্যমান থাকার সুযোগে বন ধ্বংস ও ভূমি দখল আরও ত্বরান্বিত হয়েছে এবং হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে গভীর বনের মাঝেও সৃজিত বনের নমুনা দেখা যায় এবং প্লটের সঙ্গেই প্রাকৃতিক বন কেটে অংশীদার প্রাকৃতিক বনকে গ্রাস করেছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ও এনজিওদের নেপথ্য ভূমিকা : দেশের একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাংবাদিক, পরিবেশবাদী সংগঠন ও এনজিওদের আয়ের উত্স হচ্ছে এই মধুপুর বন ও বনবাসী। অনেক গবেষণার উত্তম স্থান এটি। উপজাতীয়দের অধিকার ও বন রক্ষার নাম করে তারা আমেরিকা-ইউরোপ থেকে অর্থ এনে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ করে। এজন্য তারা মাঝে মাঝেই ছোট বড় সভা-সেমিনার করে থাকে ও খরচ দেখায়। দীর্ঘকাল ধরেই চলে আসছে এই ধারা। তাতে বনবাসীর অধিকার এবং বন রক্ষার কোনো কাজ হয়নি। বরং দিন দিন বন ধ্বংস বেড়েছে ও বনভূমি জবরদখল হয়েছে। বন ধ্বংস রোধে ও ভূমি উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা নিতে তারা এগিয়ে আসে না বরং বন ধ্বংসে উপজাতীয়দের নেপথ্য ইন্ধন জোগাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইন সহায়তা সমিতি বেলা’র ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় উদ্ধারকৃত ৩৬ হাজার ৬শ’ একর বনভূমির ২২শ’ একরে সৃজন করা বন ধ্বংসে বেলা’র রয়েছে নেপথ্য ভূমিকা। সমন্বিত সংরক্ষিত এরিয়াসহ ব্যবস্থাপনা আইপ্যাক, বেলা ও নিজেরা করিসহ অনেক এনজিও এখানে উপজাতীয়দের অধিকার ও বন রক্ষার কথা বলে কাজ করে বিদেশি অর্থ সহায়তায়। কিন্তু বাস্তবে বন ধ্বংস ও ভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে সরকারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তারা অপরাধীদের পাশে দাঁড়ায়, অর্থ সহায়তা করে, অবৈধ আন্দোলন-সংগ্রামে ইন্ধন জোগায়। সরকারি পদক্ষেপের বিরোধিতা করে বন রক্ষায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাদের কারণেই জাতীয় উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। বনবাসী ও বন রক্ষার নামধারী এসব ব্যক্তি-সংগঠনের এহেন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে, তাদের কার্যক্রম বন্ধ না করলে মধুপুর বন ও বনভূমি দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাবে এবং সরকারের কর্তৃত্ব বিনষ্টের সঙ্গে হারিয়ে যাবে সুন্দর একটি বনাঞ্চল। বননির্ভর অবৈধ স’ মিল : বন এলাকায় নির্ধারিত সীমানার মধ্যে করাত কল প্রতিষ্ঠার নিয়ম না থাকলেও অবৈধভাবে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অসংখ্য করাত কল। যেগুলোতে দিনরার চিরাই হচ্ছে বনের কাঠ। হাতের কাছেই এসব করাত কল পেয়ে অসাধু কাঠ ব্যবসায়ী ও কাঠচোরদের হয়েছে পোয়াবারো। বনের কাঠ কোনোভাবে স’ মিল পর্যন্ত আনলেই কেল্লাফতে, আর পায় কে। বন বিভাগ ও প্রশাসন মাঝে মাঝে নামেমাত্র অভিযান চালালেও প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে দ্রুতই আবার পূর্বাবস্থা ফিরে আসে। আর সব সময় থাকে সরকারি দলের সুপারিশ। দু’একটি ঘটনায় মামলা হলেও কারও কোনো সাজা হয়নি কখনও। যে কারণে ইটভাটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে স’ মিলেও চলছে বনের কাঠ চিরানি। বর্তমানে দীর্ঘদিনেও ইটভাটা ও স’ মিলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা বা অভিযান নেই। বন বিভাগের সীমিত জনবল ও অপ্রতুল উপকরণ : মধুপুর বনের ৪ রেঞ্জের ১০ বিটে অত্যন্ত সীমিত জনবল ও অপ্রতুল উপকরণ নিয়ে বন রক্ষা নয়, নিজেদেরই নিরাপত্তার শঙ্কা নিয়ে টিকে আছে বন বিভাগের লোকজন। জাতীয় উদ্যান সদর বিটের ২১ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে মাত্র ৩ জন স্টাফ দেখা গেছে বন রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকতে। ১/১১ এর সময় দীর্ঘদিনের জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধারে সফলতা অর্জনকারী ৬ কর্মকর্তাকে প্রশাসনের প্রতিহিংসাপরায়ণ গোপন ভুয়া রিপোর্টে অনিয়মে বরখাস্ত ও প্রকল্পে নিয়োজিত ১৭ জনের চাকরিচ্যুতিতে (মেয়াদ না থাকায়) একেবারে জনবলহীন হয়ে পড়ে মধুপুর বনাঞ্চল। সীমিত জনবল, তার ওপর প্রয়োজনীয় উপকরণ না থাকায় বনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কাঠচোর ও ভূমিদন্যুরা। ব্যাপক হারে বন ধ্বংস ও জমি দখল হতে থাকে অব্যাহতভাবে। পুরনো ভোঁতা বন্দুক আর দুটি হোন্ডা ও দুটি পিকআপ থাকলেও এগুলো প্রায়ই অকেজো হয়ে থাকে। সবার নজর বনের দিকে : দেশে ফল উত্পাদনের প্রধান বেল্ট মধুপুর বনাঞ্চল। উর্বর মাটির সঙ্গে ফল উত্পাদনের সব নিয়ামক বিধাতা ঢেলে দিয়েছেন এ সমতল বনভূমিতে। ফলে এখানে ১২ মাসই মধু মাস। আনারস, কলা, পেঁপে, আম, কাঁঠাল, জলপাই, লিচু, কমলা, স্ট্রবেরি সমানতালে ফলে সারা বছর। এর মধ্যে কলা, আনারস, পেঁপে স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় সব শ্রেণীর লোকের চোখ পড়েছে বনের দিকে। রাজনীতিক, চাকরিজীবী, পেশাজীবী সংগঠনের লোক, ব্যবসায়ী, বড় চাষী, শিক্ষক ও বনবাসী সবশ্রেণীর মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বনে চাষাবাদে জড়িত। অপরদিকে দেশের অনেক বড় বড় কোম্পানি, নামিদামি ব্যক্তি ভবিষ্যতে গাজীপুরের মতো শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার স্বপ্নে গোপনে শত শত একর বনভূমি অবৈধভাবে কিনে গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। অনেক কোম্পানি ও ব্যক্তি স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে জায়গা নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যে কারণে বন রক্ষার পক্ষে কেউ নেই। কাঠ চুরি, গাছ কর্তন বা বহনকালে আটক করলে সবাই চোর ও অপরাধীর পক্ষ নেয়। সেজন্য এদের দমন করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং অপরাধীর দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়ের অভাব : দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে মধুপুর বন রক্ষায় সরকারের আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। উপরন্তু অনেক ক্ষেত্রে রয়েছে অসহযোগিতা, এমনকি পরস্পর বিরোধিতাও। প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বন বিভাগ—এ তিনের সমন্বয়হীনতায় বন রক্ষা ও ভূমি উদ্ধার সফল না হয়ে বরং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অতীতে প্রশাসনের প্রতিহংসাপরায়ণ গোপন প্রতিবেদনে অহেতুক অনিয়মে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত-ওএসডিসহ বনের কাজে হয়েছে অসহযোগিতা ও ক্ষতি। তারপর পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযোগ ও পুলিশের বন বিভগের বিরুদ্ধে গোপন প্রতিবেদন। এমন সমন্বয়হীনতায় বন রক্ষা না হয়ে বরং অসহযোগিতায় বন হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত। বন রক্ষায় সরকারের আন্তঃবিভাগের সমন্বয় একান্ত প্রয়োজন। বনে আগুন : শুকনো মৌসুম এলেই ভূমি জবরদখলকারী, শিকারির দল ও রাখালেরা মধুপুর বনে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুরো বনের বিভিন্ন স্থানে রৌদ্রের খরতাপে শুকনো পাতায় প্রতিদিন দাউ দাউ করে জ্বলে আগুন। একরের পর একর প্রাকৃতিক বন পুড়ে যায়। ছোট গাছপালা, বেত বাগান, শাল কপিচসহ সব পুড়ে খাঁক হয়। জ্বলন্ত আগুনে পুড়ে মারা যায় অসংখ্য কীটপতঙ্গ, ঘটে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়।
Source: http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/03/07/21461

মধুপুরে দেশের প্রথম গ্রীষ্মকালীন তুলা চাষ
শীতকালে তুলা চাষ হয়- এটা বহুদিনের প্রচলিত। জুন-জুলাইয়ে জমিতে বীজ বপন করা হয়। আর জানুয়ারিতে জমি থেকে পাকা তুলা সংগ্রহ করা হয়। চিরাচরিত এ পদ্ধতিতে জমিতে বছরে মাত্র একবারই তুলা চাষ হয়। কিন্তু গ্রীষ্মকালীন তুলা চাষ বিষয়টি একেবারেই নতুন। অত্যাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রবর্তনের সর্বশেষ নমুনা। এ নতুন প্রযুক্তি নিয়ে এসেছেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কৃতি গবেষকরা। এ সময়ে অধিক তুলা উৎপাদন করে চাষীরা যেমন লাভবান হবে, তেমনি দেশের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের খামার বাড়ি অফিস জানায়, সারা দেশে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়। এরমধ্যে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ১৫ হাজার হেক্টর এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়, উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্রভূমি এবং বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়ার উচু ভূমিতে ৩৫ হাজার হেক্টরে তুলার আবাদ হয়। এ থেকে উৎপাদন হয় বড় জোর এক লাখ বেল। অথচ দেশে তুলার চাহিদা হলো প্রায় ৪০ লাখ বেল। অবশিষ্ট ৩৯ লাখ বেল তুলা বিদেশ থেকে আমাদানি করা হয়। শুধু মাত্র প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকেই আমদানী করা হয় ২৫ থেকে ৩০ লাখ বেল। দেশে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় তুলা আমদানি প্রতি বছরই বাড়ছে। এ অবস্থায় কটন ডেভেলপমেন্ট বোর্ড তুলার ঘাটতি মোকাবেলায় সারা বছর তুলা উৎপাদন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে একই জমিতে বছরে দু’বার তুলা চাষ করা যাবে। ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বছরে দু’বার তুলা চাষ করা হয়। তুলা চাষের প্রায় পুরোটাই জুড়ে রয়েছে হাইব্রিড। বাংলাদেশে তুলা চাষে গতানুগতিক পরিবর্তন আনার জন্য বোর্ড দীর্ঘ দিন ধরে গবেষণা করে আসছিল। সম্প্রতি এ গবেষণায় সুফল মিলে। বোর্ড যশোর জেলার জগদীশপুর গবেষণা কেন্দ্রে উদ্ভাবন করে গ্রীষ্মকালীন জাত। উফসী এ জাতের নাম সিবি-১২। নিজস্ব ফার্মে পরীক্ষামূলক আবাদে সফলতা আসায় বোর্ড চাষী পর্যায়ে গ্রীষ্মকালীন তুলা নিয়ে এসেছে। এ জাতের উৎপাদন ক্ষমতা চীন থেকে আমদানি করা হাইব্রিড তুলার কাছাকাছি। বিঘা প্রতি উৎপাদন ১০/১২ মণ। বোর্ড সূলভ মূল্যে কৃষক পর্যায়ে এ বীজ সরবরাহ করছে। চীন থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি হাইব্রিড বীজের দাম যেখানে দুই হাজার টাকা সেখানে বোর্ড উদ্ভাবিত সিবি-১২ জাতের দাম মাত্র ২২ টাকা কেজি। গ্রীষ্মকালীন তুলা চাষকে জনপ্রিয় করার জন্য বোর্ড ‘গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’ নামে একটি কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। উদ্দেশ্য সারা বছর তুলা চাষ। এর আওতায় দেশের ১৮টি জোনের প্রতিটিতে ৫টি করে অংশীদারিত্ব গবেষণা প্লট স্থাপন করা হয়েছে। ময়মনসিংহ কটন জোন অফিস মধুপুর ইউনিটের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ধরাটি গ্রামের আবুল হোসেনের দুই বিঘা জমিতে তুলার গ্রীস্মকালীন প্লট স্থাপন করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে চারা রোপণ হয়েছে। আগামী মে মাসে জমি থেকে পাকা তুলা সংগ্রহের আশা করছেন বোর্ড। অপর তুলা চাষী আবুল হাসান জানান, তিনি দেড় দশক ধরে জমিতে তুলা চাষ করেন। এবার অনেকটা কৌতুহলবশত: বোর্ডের কথায় জমিতে গ্রীষ্মকালীন তুলা লাগিয়েছেন। সেচ, সার ও পরিচর্যা বেশি লাগছে। উৎপাদন খরচ বেশি পড়বে বলে মনে হচ্ছে। আশা করি, উৎপাদনও বাড়বে। তুলার সংগ্রহ মূল্য বাড়লে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে তিনি আশা করেন। কটন ডেভেলপমেন্ট বোর্ড ঢাকা রিজিয়নের উপ-পরিচালক ফখরে আলম ইবনে তাবিব জানান, গ্রীষ্মকালীন তুলা চাষে সেচের প্রয়োজন পড়ে। এজন্য যান্ত্রিক সেচের সুবিধা রয়েছে এমন সব এলাকায় গ্রীষ্মকালীন তুলা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, গ্রীষ্মকালীন চাষের মাধ্যমে বাড়তি তুলা উৎপাদন এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোই বোর্ডের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
॥ ইফতেখারুল অনুপম ॥ টাঙ্গাইল, ২৩ এপ্রিল (বাসস)
Source: http://www1.bssnews.net/bangla/newsDetails.php?cat=4&id=124363&date=2012-04-23

মধুপুরে কালবৈশাখীর ছোবল ॥ ব্যপক য়তি

কালবৈশাখীর ছোবলে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ব্যাপক য়তি হয়েছে। ১৫ মে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০ টার দিকে ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। মুহুর্তের মধ্যেই বেশ কিছু বাড়িÑ ঘর ভেঙ্গে যায়। গাছপালা ভেঙ্গে উপড়ে পড়ে।
গাংগাইর নজমুল ইসলাম ফাজিল মাদরাসার শ্রেণিকরে চাল উড়ে যায়। শোলাকুড়ি কওমী মাদরাসা বিধ্বস্ত হয়। মধুপুর পৌর সহরের আশুরা, নরকোনা, চাপার কোনা, গোলাবাড়ি ইউনিয়নের শালিকা আউশনারা ইউনিয়নের ইদিলপুরসহ পনেরটি গ্রামের কয়েকশ বাড়িঘর তিগ্রস্ত হয়। মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টু তিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
Source: http://www.progotiralo.com/?p=6949

মধুপুর ক্লাব-এনসিসি ব্যাংক ফুটবল 
মধুপুর ক্লাব-এনসিসি ব্যাংক ফুটবল| মধুপুর উপজেলার শতাব্দী প্রাচীন মধুপুর ক্লাব-এনসিসি ব্যাংক ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে আউসনারা ইউনিয়ন একাদশ চ্যাম্পিয়ন এবং ব্লু বার্ডস ক্লাব রানার্সআপ হলো। কিন্তু গতকাল শনিবার মধুপুর রাণীভবানী পাইলট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত খেলাটি দেখতে গিয়ে দর্শকের চাপে স্কুলটির ছাত্রাবাসের টিনের চালা ভেঙ্গে ২৫ জন আহত হয়। নির্ধারিত সময়ে খেলাটি ১-১ গোলে ড্র হয়। এরপর টাইব্রেকারে ৭-৬ গোলে জয়পরাজয় নির্ধারিত হয়। খেলায় ম্যান অব দি ম্যাচ হন আউসনারা ইউনিয়ন একাদশের গোল রক্ষক উত্তম। ম্যান অফ দি টুর্নামেন্টের পুরস্কার পান একই দলের বোরহান। ফেয়ার প্লে ট্রফি পান ধরাটি ক্লাব। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি এনসিসি ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ নূরুল আমীন। আফ্রিকান খেলোয়াড়দের প্রাধান্য ছিল এ ফাইনালে। ব্লু বার্ডসের পক্ষে আফ্রিকান ফুটবলার কালা প্যাট্রিক, ষ্টার, জেরড, কেভিন,লিকেন,ফিন্সলে এবং নাজ অংশ নেয়। অপরদিকে আউসনারা ইউনিয়ন একাদশের পক্ষে জনি, ফিলা, গালাক, মারিও, মুস্তফা ফারি, মরিশন,এডাম,হ্যানরি অংশ নেয়। উভয় দলের অবশিষ্ট খেলোয়াড়দের সকলেই ছিল জাতীয় দলের।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্টু,ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মির ফরহাদুল আলম মনি, মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহম্মদ হাবিব উল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক আজিজুল হক লুলু, এনসিসি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান শোয়েব আহম্মেদ রাজু, টুর্নামেন্ট কমিটির সভাপতি সাইফ উদ্দীন মামুন এবং সম্পাদক মির আনোয়ার হোসেন ফরিদ।গত ১৫ মার্চ লিগ পদ্ধতির এ খেলা উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক। খেলায় ১৬টি দল অংশ নেয়। ফাইনালসহ অধিকাংশ খেলায় আফ্রিকান ও জাতীয় দলের ২১ জন খেলোয়াড় বিভিন্ন ক্লাবের পক্ষ হয়ে খেলেন। ফাইনাল খেলায় মাঠে বিদেশি খেলোয়াড়দের দাপট ছিল চোখে পড়ার মত। তাদের খেলা দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক দর্শক মাঠে উপস্থিত ছিল। ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে মধুপুর ক্লাব মধুপুর উপজেলার প্রয়াত ও বর্তমান ক্রীড়াবিদ এবং খেলাধুলার সার্বিক ঐতিহ্য নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য স্মরণিকা প্রকাশ করে।

লেখক: গোপালপুর(টাঙ্গাইল)সংবাদদাতা | রবিবার, ২০ মে ২০১২, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯

মধুপুরে স্বজাতির মৃত্যুর প্রতিবাদে হনুমান-বানরের সড়ক অবরোধ

গত সোমবার বিকালে মধুপুর বনাঞ্চলে যন্ত্রদানবের চাকায় পিষ্ট হয়ে মা হনুমান ও তার বাচ্চা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে শত শত বানর-হনুমান সংঘবদ্ধ হয়ে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,অবরোধকালে তাদের ক্রুদ্ধ চিত্কার ও আক্রমণাত্মক অঙ্গভঙ্গির কারণে প্রায় আধ ঘন্টা টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনাস্থলের উভয় দিকে নিরাপদ দূরে যানবাহন থামিয়ে চালকরা ক্ষুব্ধ হনুমানের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করে। পথচারীরাও অবরোধ স্থলের ধারে-কাছে যেতে পারেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুস সামাদ জানান, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে একটি শিশু হনুমান পাকা সড়ক পাড়ি দিয়ে গভীর জঙ্গলে যাওয়ার সময় একটি টেম্পোর ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। তাকে রক্ষার জন্য সড়কের অপর পাশ থেকে এগিয়ে আসে মা হনুমান। শিশু হনুমানকে বুকে তুলে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার উদ্যোগ নিতেই অপর একটি মিনি ট্রাক মা ও শিশু হনুমানকে একসাথে চাপা দেয়। মুক্তাগাছার লেগুন চালক নজরুল মিয়া জানান, ঘটনার পর পরই বন থেকে দল বেঁধে বেরিয়ে আসে হনুমান। আর তাদের সাথে এসে যোগ দেয় বানরকুল। দলবলে ভারি হয়ে এরা ব্যস্ততম সড়ক অবরোধ করে বসে। তাদের আক্রমণাত্মক আচরণের জন্য প্রায় ৩৫ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকে। সন্ধ্যার দিকে নিহত মা ও শিশুকে রেখে বানর-হনুমানরা বনের ভিতরে চলে গেলে যান চলাচল শুরু হয়। স্থানীয় বনকর্মীরা জানান, মধুপুর জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যাওয়া টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের নির্জন অংশে চালকরা বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় প্রায়ই চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় বণ্যপ্রাণী। সড়কের উভয়দিকের বাসস্ট্যান্ডে এ বিষয়ে সতর্ক হয়ে গাড়ি চালানোর নির্দেশসম্বলিত সাইন বোর্ড টানিয়ে দিলেও চালকরা তা ভ্রূক্ষেপ করে না।
লেখক: গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা | শনিবার, ৫ মে ২০১২, ২২ বৈশাখ ১৪১৯

মধুপুর-ভূঞাপুর মহাসড়কে দু’মাস যান চলাচল বন্ধ


নির্মাণাধীন মহাসড়ক বালির স্তূপে পরিণত হওয়ায় দু’মাস ধরে মধুপুর-ভূঞাপুর ভায়া গোপালপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে উত্তর টাঙ্গাইলের চার উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে নিদারুণ ভোগান্তি পোহাচ্ছে মানুষ। জানা যায়, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি, মধুপুর, গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলাকে আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তর্ভুক্তকরণ এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের সাথে উত্তরবঙ্গের সহজ সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ গত অর্থবছর ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সরিষাবাড়ি উপজেলার বাউসি-গোপালপুর এবং মধুপুর-ভূঞাপুর (বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত) ভায়া গোপালপুর ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার গত মে-জুনে বাউসি-গোপালপুর সড়কে নিয়ামতপুর অংশে এবং মধুপুর-ভূঞাপুর সড়কের গোপালপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার রাস্তায় মাটি ও বালি ভরাট করে।
মধুপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়,যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গত সেপ্টেম্বর মাসে এ আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ খাতের সাকুল্য টাকা অন্য খাতে কর্তন করে নিয়ে যায়। এমতাবস্থায় কাজের বিল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় ঠিকাদার বালি ও মাটির কাজ অর্ধসমাপ্ত রেখে চলে যায়। বর্তমানে ঐ সড়কের বুকজুড়ে এখন বালির পাহাড়। কোথাও কোথাও মাটির স্তূপ। এ বালি আর মাটির স্তূপ পাড়ি দেয়া যায় না বলে চালকরা দু’মাস ধরে যান চলাচল বন্ধ রেখেছেন। পরিবহন শ্রমিকরা জানান, সড়কের দুরবস্থার জন্য দুর্ঘটনায় একাধিক প্রাণহানি ঘটায় তারা যান চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
লেখক: গোপালপুর(টাঙ্গাইল)সংবাদদাতা | শনিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১২, ১৫ বৈশাখ ১৪১৯

বিপুলসরবরাহ সত্ত্বেও মধুপুরে কৃষিভিত্তিক কারখানা হচ্ছে না

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় উদ্যানভিত্তিক ফল, ফসল এবং মধু ও রাবারসহ নানা বনজ কাঁচা পণ্যের বিপুল উত্পাদন ও সরবরাহ থাকলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কৃষিভিত্তিক শিল্পনগরী স্থাপনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা কাজে লাগানো হচ্ছে না। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় নীট আবাদী জমির পরিমাণ ৭০ হাজার একর। আশির দশকে বিএডিসি কাকরাইদে বিশাল কৃষি ফার্ম গড়ে তুললে বিএডিসির উন্নতমানের বীজ, সেচ, সার, কীটনাশক ও কৃষি প্রযুক্তির সাথে কৃষকরা সম্পৃক্ত হয়। শস্য বীজ উত্পাদনে মধুপুর সারা দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জোন। বিএডিসির সাথে প্রতিযোগিতা করে বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বার্ষিক আড়াই হাজার টন উন্নত বীজ উত্পাদিত হয়। দেশে ফল চাষে মধুপুর বৃহত্ বেল্ট। বর্তমানে ১৭ হাজার একরে আনারস,৫ হাজার একরে কাঁঠাল,১১ হাজার একরে কলা এবং ৫ হাজার একরে আম, লিচু, জলপাই,পেঁপে ও পেয়ারার বাণিজ্যিক আবাদ হয়। অর্থকরী ফসলের মধ্যে ৫ হাজার একরে আদা ও হলুদ, আড়াই হাজার একরে সবজি, ৭ হাজার একরে রাবার,২ হাজার একরে তুলা, কাসাভা ও কফি এবং ৪ হাজার একরে শস্যবীজ উত্পাদন হয়।
অপ্রচলিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে, গজারী বনের ৬/৭ হাজার একরের বনজজাত শটি। গুঁড়ো দুধের বিকল্প হিসাবে শটিমূল চূর্ণ হতে তৈরি হয় শিশু খাদ্য শটি ফুড। পুঁজির অভাবে শটি ফুডের অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। মৌচাষ উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক,মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন জানান,বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বার্ষিক দেড়-দু’শ টন মধু উত্পাদিত হয়। বাজারজাত ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে মৌচাষীরা মধুর ন্যায্য মূল্য পায় না। এখানে সরকারি বেসরকারি ২০ হাজার একরে বনাঞ্চল থেকে বার্ষিক ৬০/৭০ কোটি টাকার শন, কাঠ ও কাঠজাত দ্রব্য সংগ্রহ করা হয়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাঠ সিজন এবং চিরাই না করায় বার্ষিক ৭/৮ কোটি টাকার কাঠের অপচয় ঘটে।
বন শিল্প উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, মধুপুরের ৪টি রাবার বাগান থেকে বার্ষিক ৫০/৬০ কোটি টাকার কাঁচা রাবার উত্পাদিত হয়। এটিকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে রাবারজাত কুটির শিল্প। মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড.হযরত আলী জানান, এখানে সুলভে কাঁচামাল সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প বিশেষ করে কোল্ড স্টোরেজ, ফল, সবজি, মধু ও মসলা প্রক্রিয়াজাতকরণ, কাঠ সিজন, চিরাই ও কাষ্ঠজাত শিল্প,হালকা রাবার শিল্প এবং বিস্কুট ও চিপস শিল্প গড়ে উঠতে পারে। বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানান স্থানীয় বিসিক কর্মকর্তা।
লেখক: গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা | শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১২, ১৪ বৈশাখ ১৪১৯
Source: http://new.ittefaq.com.bd/news/view/92194/2012-04-27/45


শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ১১ শ্রমিকের চেষ্টা
রবার বাগানের ১১ টেপার শ্রমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার উত্তর অরণখোলা গ্রামে যুব বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে এ স্কুল প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষাথর্ীদের ভবিষ্যত আলোকিত করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তাদের উপার্জিত টাকার অর্ধেক বিদ্যালয়ের জন্য ও বাকি টাকা নিজ পরিবারের জন্য ব্যয় করে আসছেন। এদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন নামে এক শ্রমিক গ্রামগঞ্জে বিভিন্ন খেলা দেখিয়ে বিদ্যালয়ের জন্য টাকা উপার্জন করছেন। মধুপুর উপজেলার অবহেলিত গ্রামের নাম অরণখোলা উত্তরপাড়া। এ গ্রামের ৮ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে নেই কোন বিদ্যালয়। পাহাড়-নদী আর খালবেষ্টিত এ গ্রামের মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো নেই বললেই চলে। যুগ যুগ অবহেলিত থাকা এই গ্রামে সর্বোচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তির নাম ফারম্নক হোসেন। তিনি অষ্টম শ্রেণী পাশ। পেশায় রাবার বাগানের শ্রমিক। তিনিই প্রথম তার বন্ধুদের নিয়ে ২০০৮ সালে উত্তর অরণখোলায় যুব বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পৃক্ত অপর ১০ বন্ধু সকলেই রাবার বাগানের টেপার শ্রমিকের কাজ করে। কেউ দিনমজুর, কেউ মাছ বিক্রেতা আবার কেউ ভ্যান-রিকশাচালক। শুরম্নতে শ্রমিক ফারম্নকই ছিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তারা শ্রমজীবী হওয়ায় তাদের বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরম্ন হতো বিকাল ৪টায়। খোলা আকাশের নিচে ক্লাস চলত সূর্যাসত্ম পর্যনত্ম। নিয়মিত তাদের ক্লাস চলতে থাকায় দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষাথর্ীদের ক্লাস করানোর জন্য স্থানীয় আমজাদ হোসেন তাঁর থাকার ঘর ছেড়ে দিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন রান্না ঘরে। বর্তমানে এ স্কুলে প্রায় দুই শত শিক্ষাথর্ী পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে। এভাবেই চলতে থাকা বিদ্যালয়ে বর্তমানে জমি হয়েছে, টিনের ঘর হয়েছে, প্রধান শিক্ষকসহ ৪ শিক্ষক নেয়া হয়েছে। আর এসব তদারকি করছেন এবং ব্যয়ভার বহন করছেন ওই ১১ শ্রমজীবী মানুষ। এই বিদ্যালয়ের ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে তারা তাদের প্রতিদিনের আয়ের একটা অংশ জমা রাখছেন। আবার বিভিন্ন স্থানে খেলা দেখিয়েও টাকা যোগাড় করেন বিদ্যালয়ের জন্য। বিভিন্ন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা থেকে ঋণও নিয়েছেন তারা। বিনামূল্যে ছাত্রদেরকে খাতা, কলম, পেনসিল সরবরাহ করছেন। সমপ্রতি ব্যাংক থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বিনামূল্যে ছাত্রদের স্কুল ড্রেস সরবরাহ করেছেন। তারা সরকারের সহযোগিতা চান। যাতে করে এই অবহেলিত এলাকার বঞ্চিত শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো জ্বালানো অব্যাহত থাকে। তাদের এই উদ্যোগকে সফল করতে সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন এ গ্রামের বাসিন্দারা। _ইফতেখারম্নল অনুপম, টাঙ্গাইলSource:http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=51&dd=2011-05-28&ni=59975

জেলার দাবিতে উত্তাল মধুপুর
ভৌগোলিকভাবে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও জামালপুরের মধ্যস্থল শিক্ষা, যোগাযোগ, উত্পাদন, বাণিজ্য ও দেশসেরা রাবার জোন ঐতিহাসিক গড়াঞ্চল দেশের অন্যতম উল্লেখ্যযোগ্য স্থান মধুপুর উপজেলাকে জেলায় উন্নীত করার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। মধুপুরে জেলা চাই—এ অভিন্ন দাবিতে রং-বেরংয়ের হাজারও পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে বর্ণিল রংয়ে ছেয়ে গেছে মধুপুর শহর। চলছে তিন মহাসড়কে মানববন্ধন, মিছিল-সমাবেশসহ একের পর নানা কর্মসূচি। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে তিন মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি সব শ্রেণী-পেশার হাজার হাজার মানুষ উল্লাস করে রাস্তায় নেমে আসে।মিছিলে মিছিলে উপজেলা সদরে সৃষ্টি হয় অচলাবস্থার। বাসস্ট্যান্ড ময়মনসিংহ, জামালপুর ও টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ৩ কিলোমিটারজুড়ে ২০ মিনিট মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মাসুদ পারভেজের সভাপতিত্বে বিশাল সমাবেশে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল গফুর মন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি, থানা আ.লীগের আহ্বায়ক ও কৃষক শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল হক লুলু, থানা আ.লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন মনি, জাকির হোসেন সরকার ও আবদুল মান্নান, আবদুল লতিফ (ইঞ্জিনিয়ার), উইলিয়াম দাজেল, ইউজিন নকরেক, চেয়ারম্যান কোরবান আলী বিএসসি, মুক্তিযোদ্ধা আ. রাজ্জাক জিহাদি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ লক্ষ্যে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
Source: http://www.amardeshonline.com/pages/details/2012/01/29/129086

মধুপুরকে জেলা ঘোষণার দাবিতে সর্বদলীয় মানববন্ধন
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলাকে জেলা ঘোষণার দাবিতে গতকাল শনিবার দুপুরে মধুপুর পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে মানববন্ধন ও সর্বদলীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মধুপুর জেলা বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি, উপজেলা আহ্বায়ক আজিজুল হক লুলু, আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার সফিউদ্দীন মনি, বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন, জাতীয় পার্টির সভাপতি সার্জেন্ট (অব.) মোহাম্মদ আলী, মধুপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মেহেদী হাসান মিঞ্জু, মধুপুর শহীদ স্মৃতি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বজলুর রশীদ চুন্নু, জেলা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মাসুদ পারভেজ প্রমুখ। বক্তারা আনারস ও কাঁঠালের নগরী এবং গারো ও কোচ অধ্যুষিত প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর কিন্তু নানাভাবে অবহেলিত মধুপুর উপজেলাকে জেলা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান। এর আগে মধুপুর উপজেলা ট্রাক মালিক সমিতির কার্যালয়ে সর্বদলীয় সমাবেশে আজিজুল হক লুলুকে প্রধান সমন্বয়কারী এবং জাকির হোসেন ও ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনিকে যুগ্ম সমন্ধয়কারী করে মধুপুর জেলা বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- মধুপুর প্রতিনিধি
Source: http://www.dainikdestiny.com/index.php?view=details&type=main&cat_id=1&menu_id=65&pub_no=30&news_type_id=1&index=31&archiev=yes&arch_date=29-01-2012


মধুপুরকে জেলার দাবিতে মানববন্ধন
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলাকে পৃথক জেলা ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন করেছে মধুপুরবাসী। মধুপুর জেলা বাস-বায়ন সংগ্রাম পরিষদের আয়োজিত এ মানববন্ধন টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর থানার মোড় থেকে বাসস্ট্যান্ড হয়ে চাড়ালজানি ও জামালপুর সড়কের টুনিয়াবাড়ি পর্যন- বিস-ৃত ছিল। বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন- রাস-ার দুই ধারের এই লম্বা মানববন্ধনে সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫ হাজার লোক অংশ নেন। পরে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের গোলচত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ঢাকা-জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহসহ ১৭টি সড়কের যোগাযোগ ২ ঘণ্টা বন্ধ থাকে।
জেলা বাস-বায়ন সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব মাসুদ পারভেজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আবদুল গফুর মন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আজিজুল হক লুলু, বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি, মধুপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মেহেদী হাসান মিনজু, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, খন্দকার শফিউদ্দিন মনি, প্রবাসী শাহ মো: কবীর হোসেন, প্রবাসী আবদুল লতিফ, ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফ আহমেদ নাসির, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন ফকির প্রমুখ।
মানববন্ধনের আগে ট্রাক মালিক সমিতির অফিসে একই দাবিতে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মধুপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
Source: http://www.dailynayadiganta.com/details/26059

মধুপুরকে জেলার দাবিতে এক কিমি লম্বা মানববন্ধন
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলাকে পৃথক জেলা ঘোষণার দাবিতে শনিবার এক কিলোমিটার লম্বা মানববন্ধন করেছেন মধুপুরবাসী। মধুপুর জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনটি টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর থানার মোড় থেকে বাসস্ট্যান্ড হয়ে চাড়ালজানি ও জামালপুর সড়কের টুনিয়াবাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার বিস্তৃতি লাভ করে। শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারের এই লম্বা মানববন্ধনে সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫ হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন। পরে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের গোলচত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের সময় ঢাকাÑজামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইলÑময়মনসিংহসহ ১৭টি সড়কের যোগাযোগ ২ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এ সময় মধুপুর শহর জেলার দাবিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব মাসুদ পারভেজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আজিজুল হক লুলু, বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি, মধুপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মেহেদী হাসান মিন্জু, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, খন্দকার শফিউদ্দিন মনি, প্রবাসী শাহ মো. কবীর হোসেন, প্রবাসী আব্দুল লতিফ, ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফ আহমেদ নাসির, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন ফকির, প্রমুখ। মানববন্ধনের আগে ট্রাক মালিক সমিতির অফিসে একই দাবিতে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ সময়: ২১৩৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৮, ২০১২, জেলা প্রতিনিধি, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
Source: http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=00b5315b28ab5eb83128664d27849313&nttl=2012012809573484746

মধুপুরকে জেলা ঘোষণারদাবিতে মানববন্ধন
মধুপুর উপজেলাকে জেলা ঘোষণার দাবিতে গতকাল শনিবার পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে মানববন্ধন ও সর্বদলীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মধুপুর জেলা বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্টু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ মির ফরহাদুল আলম মনি, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক আজিজুল হক লুলু, আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার সফিউদ্দীন মনি, বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন, জাতীয় পার্টির সভাপতি সার্জেন্ট (অবঃ) মোহাম্মদ আলী, মধুপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মেহেদী হাসান মিঞ্জু প্রমুখ। এর পূর্বে মধুপুর উপজেলা ট্রাক মালিক সমিতির কার্যালয়ে এক সর্বদলীয় সমাবেশে আজিজুল হক লুলুকে প্রধান সমন্বয়কারি এবং জাকির হোসেন ও ডাঃ মির ফরহাদুল আলম মনিকে যুগ্ম সমন্বয়কারি করে মধুপুর জেলা বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়।
লেখক: গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা | বৃহস্পতি, ২ ফেব্রুয়ারী ২০১২, ২০ মাঘ ১৪১৮
Source: http://new.ittefaq.com.bd/news/view/72583/2012-02-02/1

মধুপুরের আয়কর অফিস স্থাপিত হচ্ছে টাঙ্গাইলে 
 আন্দোলনে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিটোর্টার \ জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য উপজেলা পর্যায়ে নবসৃষ্ট উপ-কর কমিশনারের কার্যালয় স্থাপনের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা ভেস্তে যেতে বসেছে। নবসৃষ্ট মধুপুর উপ-কর কমিশনারের কার্যালয় টাঙ্গাইল সদরে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ায় মধুপুরের সকল মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে কর কর্মকর্তাদের অফিস না করার অনিহাই এর পিছনে মূল কারণ বলে জানা গেছে। প্রতিমাসে এক লাখ আট হাজার টাকার বিনিময়ে টাঙ্গাইলে অফিস ভাড়ার নামে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। অপরদিকে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ কর অফিস মধুপুরের স্থাপনের দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
উপ-কর কমিশনারের কার্যালয় টাঙ্গাইল সদর সার্কেল সূত্রে জানা যায়, জনগনের দোর গোড়ায় আয়কর বিভাগের সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নতুন করে তিনটি উপ কর কমিশনারের কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ওই কার্যালয়গুলো হলো উপ-কর কমিশনারের কার্যালয় মধুপুর, ঘাটাইল ও মির্জাপুর। ওই অফিসগুলো স্থাপিত হওয়ার কথা সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতেই। যাতে করে করদাতারা সহজেই তাদের আয়কর সংক্রান্ত কার্যক্রমের সমস্যা ও সমাধান করতে পারেন তাদের কর্মস্থলগুলোতে থেকেই। অপরদিকে করকর্মকর্তারাও সকল ব্যবসায়ীকে আয়করের আওতায় এনে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কিন্তু আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের উপজেলা পর্যায়ে চাকরি করার অনীহার কারণে তারা উপজেলা পর্যায়ে অফিস না নিয়ে তারা ওই অফিসগুলো একত্রিত করে টাঙ্গাইল জেলা শহরের পুরাতন আদালত রোডে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ব্যাপারে তারা ইতোমধ্যেই মাসিক এক লাখ আট হাজার টাকা ভাড়ায় অফিস নেওয়ার কাগজপত্র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবরে অগ্রগতি করেছেন। টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের উপ কর কমিশনার মো. জাহের উদ্দিন মিয়া স্বাক্ষরিত অগ্রগতি পত্রে দেখা যায় নবসৃষ্ট ওই তিনটি উপকর কমিশনারের কার্যালয় স্থাপনের জন্য ২৯ পুরাতন আদালত রোডের মফিদুল ইসলামের বাসা ভাড়ার জন্য প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের উপ-কর কমিশনার মো. জাহের উদ্দিন মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ঘর ভাড়ার প্রস্তাব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে। তারা অনুমোদন করলেই এটি বাস্তবায়ন হবে।
এই ঘটনায় মধুপুর উপজেলার ব্যবাসয়ী নেতৃবৃন্দসহ সকল সুধিমহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। করদাতা পাপ্পু সিদ্দিকী বলেন, আমরা টাঙ্গাইল গিয়ে সদর সার্কেলে আয়কর সক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করি। দূর থেকে আমাদের সে কাজে সম্যসা হয় বলেই প্রশাসন মধুপুরের আলাদা উপ-কর কমিশনের স্থাপনের সিদ্বান্ত নিয়েছে। কিন্তু সেই কার্যালয় যদি টাঙ্গাইলেই স্থাপন করা হয়ে তবে আমাদের উপকার হলো কোথায়? দুর থেকে গিয়েই যদি আমাদের কাজ করতে হয় তবে আর বিভাজন কেন? আমরা চাই আমাদের মধুপুর সার্কেলের উপ-কর কমিশনের কার্যালয় যেন মধুপুরেই স্থাপন করা হয়।
অপরদিকে টাঙ্গইলে মাসিক এক লক্ষ আট হাজার টাকায় উপ-করের অফিস ভাড়া করা হয়েছে। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে তা ভাঢ়া নিতে খরচ হতো প্রায় দশ থেকে বার হাজার টাকা। এখানেও শুভংকরের ফাঁকি রয়েচে বলে অনেকের ধারনা।
মধুপুর উপজেলা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি সিদ্দিক হোসেন খান জানিয়েছেন, জনগণের সুবিধার জন্য সরকার কর অফিসকে উপজেলা পর্যায়ে স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যদি তা ভেস্তে যায় তাহলে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। এ ব্যাপারে আগামী ৩০ তারিখ সকল ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
Source:http://www.progotiralo.com/?p=5394

মধুপুরের সাংস্কৃতিক চর্চা
টাঙ্গাইলের মধুপুরে আগে পর্যাপ্ত খেলাধুলার মাঠ থাকলেও এখন তা প্রায় নেই বললেই চলে। যে কারণে লেখাপড়ার বাইরের সময়টুকু ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের খেলার সময়টা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছিলেন না। মূলত সেই সময়টাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই মধুপুরেরই সংস্কৃতিমনা ছেলে সুজিত সরকারের চেষ্টায় এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান সরকার শহীদের উদ্যোগে মধুপুরে ২০০৭ সালে গড়ে তোলা হয় মধুপুর সাংস্কৃতিক একাডেমি। সুজিতের সাথে সে সময় একাডেমিটি গড়ে তুলতে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন সুজন দেবনাথ, মামুন খান, আব্দুল জব্বার ও শাহীন। এরা প্রত্যেকই যন্ত্র বাদক। এই সাংস্কৃতিক একাডেমিতেই ছাত্র-ছাত্রীদেরকে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লালনগীতি, পল্লীগীতি ও আধুনিক গানে তালিম দেওয়া হয়ে থাকে। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তালিম দেওয়ার আগে সুজিত নিজেকে গানে দক্ষ করে গড়ে তুলেন। উদীচী থেকে তিনি নজরুল এবং আধুনিক সংগীতে দশটি বছর তালিম নিয়েছেন। নিজেকে পুরোপুরি গানের একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেই তিনি মধুপুর এই সাংস্কৃতিক একাডেমিটি গড়ে তোলেন। একাডেমি সম্পর্কে সুজিত বলেন, ‘প্রথম প্রথম আমাদের উদ্যোগে তেমন কেউ সাড়া না দিলেও পৌরসভার চেয়ারম্যান সরকার শহীদ কল্লোল সিনেমা হলের পাশের একটি জায়গা আমাদের জন্য বরাদ্দ করে দেওয়ায় এখন আমরা নিয়মিত সাংস্কৃতির চর্চা করতে পারছি। আগের চেয়েও ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা এখন অনেক বেশি।’ সাংস্কৃতিক একাডেমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে পৌরসভার চেয়ারম্যান সরকার শহীদ বলেন, ‘একাডেমিটি হবার পর থেকে এলাকায় সাংস্কৃতিক চর্চা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এটা সত্যিই আমাদের জন্য কল্যাণকর।’ এই সাংস্কৃতিক একাডেমি থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী হয়েছেন সাথি। এ ছাড়া মধুপুরেরই সন্তান শাপলার বাজারে একটি একক অ্যালবাম রয়েছে, যে কিনা এই একাডেমী থেকেই সংগীতে তালিম নিয়েছেন। মধুপুরের স্থানীয় একজন শাকিল আহমেদ প্রিন্স বলেন, ‘এই সাংস্কৃতিক একাডেমিটির কারণেই এখানে নিয়মিত সংস্কৃতির চর্চা হচ্ছে। সুস্থ পরিবেশ বিরাজ করছে। এজন্য সুজিতকে আমরা স্বাগত জানাই।’ মাসিক ২০০ টাকা বেতনে প্রতি মঙ্গল ও শুক্রবার বিকেলে এখানে সংগীতের চর্চা হয়ে থাকে। সোলায়মান, রাজু, রীনা, ফাইমা, মিতু, সুমী, সোহেল, সুবর্ণা, শিউলী, আফরোজা-এরা সবাই এখন এই একাডেমিতেই সঙ্গীতে তালিম নিচ্ছেন।

লেখক: মো. মনিরুজ্জামান মনি, মধুপুর সংবাদদাতা | শুক্র, ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৮
Source:http://new.ittefaq.com.bd/news/view/43758/2011-11-25/56


ভূমিকম্প নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করছে মধুপুর ওয়ার্ল্ডভিশন
ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমারসহ ভারতীয় উপমহাদেশে বড়সড় ভূমিকম্প হলেই চলে আসে প্লাইষ্টোসিন সোপান মধুপুর ভূ-কম্পন বলয়ের নাম। গত রবিবার ভারতের সিকিমে ভূমিকম্প আঘাত হানায় বাংলাদেশেও এর প্রচন্ড ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের ভূ-কম্পন বলয়সমূহ বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৯০ কিলো দূরের মধুপুর ফল্ট নিয়ে বেশি চিন্তিত। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারীর নেতৃত্বে পরিচালিত ইউএনডিপির এক গবেষণায় দেখা যায়, মধুপুর ফল্ট ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় রাতেরবেলায় ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই ৯০ হাজার লোক হতাহত হবে। দিনেরবেলায় আঘাত হানলে হতাহত হবে ৭০ হাজার মানুষ। ৭২ হাজার ভবন সম্পূর্ণরুপে এবং ৮৫ হাজার ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভূগোলবিদ মর্গান ও মেকিটায়ারের গবেষণা থেকে দেখা যায়, ভূকম্পন এবং ভূ-বিপর্যয়ের ফলে মহাহিম যুগে মধুপুর গড়ের সৃষ্টি। লালমাটির এ বিশেষ ভৌগলিক এলাকা জামালপুরের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র থেকে লম্বালম্বি দক্ষিণে বুড়িগঙ্গার তীর পর্যন্ত ৪,২২৪ বর্গমাইলব্যপী বিস্তৃত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাহআলম জানান, মধুপুর ফল্ট রাজধানীর জন্য খুবই বিপজ্জনক। ভারতের সিকিম রাজ্যে গত রবিবারের ভূমিকম্পের ফলে এ ফল্টের নানামাত্রিক পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে। ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর শীঘ্রই মধুপুরে কাজ শুরু করবে বলে তিনি জানান। মধুপুর অঞ্চলে ভূমিকম্প নিয়ে দেড় দশক ধরে কাজ করছেন বেসরকারি সংস্থা জলছত্র ওয়াল্ডভিশন। ঐ এনজিও-এর ব্যবস্থাপক বাপন মানকিন জানান, সারা দেশকে যে তিনটি ভূকম্পন বলয়ে বিভক্ত করা হয়েছে মধুপুর এর দ্বিতীয় জোনে অবস্থিত। মধুপুর ফল্টের ভূমিকম্পনে শুধু রাজধানী নয়, ভূ-চ্যুতির থাবার মুখে অবস্থিত ময়মনসিংহ, গাজীপুর এবং টাঙ্গাইলেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বহু পাকা ভবন নির্মাণ, গ্যাস ও বিদ্যুত্ লাইন সমপ্রসারণ এবং শিল্পায়ন ও শহরায়ন সমপ্রসারিত হওয়ায় এ ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা।

তিনি আরো বলেন, ওয়াল্ডভিশন ভূমিকম্প সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তোলার জন্য মধুপুর উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে ২০ জন করে একটি প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করেছে। উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক বছর একবার করে নিরাপত্তা মহড়ার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এতে সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ভূমিকম্পের বিষয় নিয়ে সংস্থার একটি সাংস্কৃতিক দল রয়েছে। সংস্থা ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সারা বছর একটি জরুরী ফান্ডের সংস্থান রাখে। সংস্থার মাঠকর্মী মরিয়ম কনা বলেন, প্রতি বছর এ উপজেলার দুই-আড়াই হাজার মানুষ ভূমিকম্পের বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। দুর্যোগ এলে কিভাবে তা ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করতে হবে, অন্যের বিপদে কিভাবে এগিয়ে যেতে হবে সেসব বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষিত এবং সচেতন করে তোলা হচ্ছে। নিজে বাঁচ, অপরকে বাঁচাও এ মন্ত্রে সকলকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
লেখক: গোপালপুর (টাঙ্গাঈল) সংবাদদাতা | মঙ্গল, ১৮ অক্টোবর ২০১১, ৩ কার্তিক ১৪১৮
Source:http://new.ittefaq.com.bd/news/view/44312/2011-10-18/45


মধুপুর ও ধনবাড়ীতে আমনক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দিশেহারা কৃষক
টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার আমন ক্ষেতে কারেন্ট পোকার (মাজরাপোকা ও বাদামি গাছ ফড়িং) আক্রমণ প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। কৃষকরা আপদকালীন এ পোকার হাত থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক ব্যবহার করে কোন ফল পাচ্ছে না। ফলে কৃষকরা অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মধুপুর ও ধনবাড়ীর সর্বত্র ভেজাল কীটনাশকের সঙ্গে ভারতীয় ক্ষতিকর কীটনাশকের রমরমা ব্যবসা চলছে। জানা যায় মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী, মির্জাবাড়ী, অরণখোলা, আউশনারা, আলোকদিয়া, শোলাকুড়ী এবং ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি, বলিভদ্র, পাইস্কা, বীরতারা, বানিয়াজান ও ধোপাখালী ইউনিয়নের আমনক্ষেতে মাজরা ও বাদামি গাছ ফড়িংয়ের আক্রমণ বেশী লক্ষ্য করা গেছে। মুশুদ্দি ইউনিয়নের কৃষক জমির উদ্দিন জানান তার ৩ বিঘা জমির মধ্যে ২ বিঘা জমির ধানক্ষেত পোকায় খেয়ে শেষ করে ফেলেছে। কৃষক জয়নাল আবেদীন, আঃ গণি, আঃ আজিজ, জামাল খানসহ অনেকে জানালেন একই ধরনের কথা। কৃষকদের অভিযোগ ক্ষতিকর এ পোকা দমনে মাঠপর্যায়ের কৃষি উপসহকারীদের তেমন কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষি বিভাগ জানায় চলতি মৌসুমে মধুপুর ও ধনবাড়ীতে ২২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মধুপুর ১১হাজার ৯৫০ হেক্টর ও ধনবাড়ীতে ১০ হাজার ১শত হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে।এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ জয়নাল আবেদীন জানান, কারেন্ট পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে আমরা কৃষকদের সচেতনামূলক ট্রেনিং জমিতে আলোর ফাঁদ, বিলি এবং পার্সিংসহ নানা ধরনের পর্রামশ দিচ্ছি। এছাড়া এ পোকার হাত থেকে রক্ষা পেতে লিপসিং এবং সবসিং জাতীয় কীটনাশক প্রয়োগের পর্রামশ দেয়া হচ্ছে।
-সাইদ শাহেদ
Source:http://www.news-bangladesh.com/news/index.php/12-10-2011/%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A6%BF/5172

মধুপুর-টাঙ্গাইল ৪৭ কি.মি সড়কে ৪৮টি স্পিড ব্রেকার।

মধুপুর-টাঙ্গাইল ৪৭ কি.মি সড়কে ৪৮টি স্পিড ব্রেকার। সামপ্রতিক অতিবর্ষণে সৃষ্ট অসংখ্য খানা-খন্দক। স্পীড ব্রেকার আর খানা-খন্দকে ভরা এ সড়কে যানবাহন চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, বৃহত্তর ময়মনসিংহের সাথে সারাদেশে সড়ক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে ত্রিমোহনা হলো মধুপুর। বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তরবঙ্গ থেকে বৃহত্তর সিলেট, বৃহত্তর ময়মনসিংহ থেকে উত্তরবঙ্গ, খুলনা, বরিশাল, যশোহর, চট্টগ্রাম এবং ঢাকার ১৫টি রুটে প্রায় দুই সহস্রাধিক দিবা ও নৈশ বাস চলাচল করে। যাত্রীবাহী বাস ছাড়াও শত শত ট্রাক, ট্যাঙ্ক, লরী, প্রাইভেট কার এবং ঘাটাইল ও ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্টের সামরিক যান চলায় এ সড়কে যানজট লেগেই থাকে। মধুপুর থেকে টাঙ্গাইল জেলা শহর পর্যন্ত ৪৭ কিলো সড়কের পাশে গড়ে ওঠা হাটবাজার, স্কুল-কলেজ, শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোল ঘেঁষে ঘন ঘন স্পীড ব্রেকার নির্মাণ করা হয়েছে। দুর্ঘটনা রোধে স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে এবং ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে সওজ স্পীড ব্রেকার স্থাপন করে। এ সড়কে আরো দুই ডজন স্পীড ব্রেকার নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় সওজের এক কর্মকর্তা।মধুপুর ও ঘাটাইলের পরিবহন শ্রমিকরা জানান, কোথাও ছোট-খাটো দুর্ঘটনা হলেই সেখানে স্পীড ব্রেকার নির্মাণের দাবি ওঠে। আর জনতার দাবির মুখে প্রশাসন স্পীড ব্রেকার নির্মাণের জন্য সওজকে নির্দেশ দেয়। তবে ঘন ঘন স্পীড ব্রেকার নির্মাণ করে বেপরোয়া যান চলাচল বন্ধের যে কৌশল সওজ গ্রহণ করে তা সুফল হয়নি। স্পীড ব্রেকারের কারণে যানবাহনের গতি সীমিত হলেও স্পীড ব্রেকার শূন্য দুই-চার কিলোমিটার মুক্ত সড়কে চালকরা তুফানগতিতে গাড়ি চালিয়ে বিনষ্ট সময় পুষিয়ে নেয়। আর তাতেই দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। এক-দেড়ফুট উচ্চতার অধিকাংশ স্পীড ব্রেকার সাদা রঙে চিহ্নিত না হওয়ায় দ্রুতগামী গাড়ি পার হতে প্রচন্ড ঝাঁকুনি খায়। এতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা কস্ট পায়। অপ্রয়োজনীয় স্পীড ব্রেকারের দরুন একঘন্টার স্থলে দুই-আড়াই ঘন্টা সময় লেগে যায়। রাতে অথবা ঘন কুয়াশার মধ্যে চালক অসতর্ক হলে স্পীড ব্রেকারে ধাক্কা খেয়ে বাস ও মালবাহী ট্রাক প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ে। স্পীড ব্রেকারে গাড়ি থামলে রাতে ওত্ পেতে থাকা ছিনতাইকারীর পোয়াবারো হয়। এদিকে সামপ্রতিক বর্ষণে এ সড়কে অসংখ্য খানা-খন্দকের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলে বাড়তি দুর্ভোগ যোগ হয়েছে। টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে দুর্ঘটনা এড়াতে ঘন ঘন স্পীড ব্রেকার নির্মাণ করা হয়েছে। এতে দুর্ঘটনা কিছুটা কমলেও যান চলাচলে স্থবিরতা এসেছে।
লেখক: গোপালপুর(টাঙ্গাইল)সংবাদদাতা | শনি, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১, ২ আশ্বিন ১৪১৮Photo: Sk Enamul Haq
Source:http://new.ittefaq.com.bd/news/view/41503/2011-09-17/45


মধুপুর কুষ্ঠব্যাধি ও পীরগাছা মিশন কেন্দ্রতে সাপে কাটা রোগীর ফ্রি চিকিত্সা

মধুপুর উপজেলার জলছত্র কুষ্ঠব্যাধি হাসপাতাল এবং পীরগাছা মিশন চিকিত্সা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে সাপে কাটা রোগীর বিনামূল্যে চিকিত্সা সেবা দিচ্ছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের এ রোগীর জন্য চিকিত্সা কেন্দ্র দু’টি একমাত্র ভরসা। পীরগাছা মিশনের প্রধান পুরোহিত ফাদার ইউজিন হোমরিক সিএসসি জানান, মধুপুর গড় এলাকায় সর্পদংশনের ঘটনা বেশি। উপজেলা হাসপাতালে রোগীর কোন চিকিত্সা হয় না। তিনি ১৯৯৮ সালে সাপে কাটা রোগীর সেবা দেয়ার জন্য মিশনে একটি অত্যাধুনিক চিকিত্সা কেন্দ্র খুলেছেন। রাতদিন ২৪ ঘন্টা এটি খোলা থাকে। তিনি নিজেই এর প্রধান চিকিত্সক।
এখানে সাপে কাটা রোগীকে ইনজেকশন দেয়া হয় না। অত্যাধুনিক মেশিন দিয়ে বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়। তিনি জানান, শক পদ্ধতি সাপে কাটার রোগীর সর্বাধুনিক চিকিত্সা। ইনজেকশনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় মার্কিন মুলুকে সর্পদংশনে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে চিকিত্সা দেয়া হয়। পীরগাছা কেন্দ্র থেকে গত ৬ মাসে তিন শতাধিক রোগীকে চিকিত্সা সেবা দেয়া হয়েছে। সাধারণত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাপে কাটার ঘটনা বেশি ঘটে। অপরদিকে বেলজিয়ামের দামিয়েন ফাউন্ডেশন পরিচালিত জলছত্র কুষ্ঠব্যাধি হাসপাতালেও সর্পদংশন রোগীর চিকিত্সা হয়। এখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, বেড, নার্স এবং বিনামূল্যে চিকিত্সার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ইনজেকশন এবং বিশেষ ধরনের নার্সিং দিয়ে চিকিত্সা দেয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয় প্রতিবছর গড়ে সহস্রাধিক রোগীকে সেবা দেয়া হয়। ডাক্তার সুব্রত জানান, ওঝার মাধ্যমে বিষ নামানোর ভুল চিকিত্সায় রোগীকে জটিল করে নিয়ে আসায় অনেক সময় রোগীর প্রাণ বাঁচানো দায় হয়ে পড়ে। মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডাঃ নুরুল হুদা জানান,উপজেলা পর্যায়ে সর্পদংশনে চিকিত্সার ওষুধ,বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কিছুই নেই। ফলে গ্রাম-গঞ্জের সাপে কাটার রোগী ভুল চিকিত্সায় মারা যায় বলে তিনি জানান।
ছবি: কবির উদ্দিন
লেখক: গোপালপুর(টাঙ্গাইল)সংবাদদাতা | সোম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১১, ২১ ভাদ্র ১৪১৮ Source: http://new.ittefaq.com.bd/news/view/39888/2011-09-05/45

মধুপুর কে জেলা ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্টিত
তারিখ: 1 সেপ্টেম্বর, 2011
মধুপুর কে জেলা ঘোষণাসহ অন্যান্য দাবিতে 30 আগস্ট, 2011 অপরাহ্নে মানববন্ধন করেছে মধুপুর ডিস্ট্রিক্ট ডিমান্ডিং গ্রুপ | এ ছাড়া মধুপুর জেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বানে 29 আগস্ট সোমবার ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় অনুষ্ঠানে সন্মানিত ব্যক্তি, শিক্ষক ও ছাত্র অংশ নিয়ে বলেন যে মধুপুরের উন্নয়ন কে তরান্বিত করতে মধুপুর কে অবিলম্বে জেলা ঘোষণা করুন |
জেলা ঘোষণা ছাড়াও অন্য উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হচ্ছে, মধুপুর-ঢাকা মহাসড়কে চার লেনে উন্নতিসাধন করা ও মধুপুর-ঢাকা রুটে ননস্টপ আধুনিক চলাচলের অনুমতি প্রদান, মধুপুরে গ্যাস সরবরাহ সংযোগ নিশ্চিত করা, বন গবেষণা ইনস্টিটিউট কে বন ও কাঠ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা.


মধুপুরে জলাবদ্ধতায় সাত হাজার একর জমির মসলা ও সবজি নষ্ট 
জুলাই ও আগস্ট মাসের টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মধুপুর গড়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা মসলা, ফসল ও আনারসের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেসরকারি হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের গড় এলাকার মধুপুর, মুক্তাগাছা, জামালপুর সদর, ফুলবাড়িয়া, ঘাটাইল ও সখিপুর উপজেলায় এবার ২৫ হাজার একরে হলুদ ও আদা, ২২ হাজার একরে আনারস এবং ১০ হাজার একরে গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। দেশজুড়ে আদা-হলুদের চাহিদা থাকায় এবং উত্পন্ন হলুদ বিক্রি করে বিপুল মুনাফা পাওয়ায় এবার গড় এলাকায় মসলার আবাদ হয়েছে বেশি। অনেকেই আনারস ও কলা বাগান ভেঙ্গে জমিতে মসলার চাষ করেছে। গড় এলাকার লাল মাটির উঁচুনীচু টিলা ও চালা জমি জুড়ে শুধুই মশলার আবাদ। মধপুর উপজেলার গজারিয়া গ্রামের কমল বর্মন জানান, এবারের অতিবর্ষণে পাহাড়ি এলাকার বাইদ ভূমিতে এক বুক পানি জমেছে। সংযোগ খাল ভরাট করে চাষাবাদ করায় পানি নিষ্কাশনের সুযোগ নেই। ফলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
গায়রা গ্রামের অজিতা মাংসাং জানান, মাঝারি উঁচু চালার আদা-হলুদ, আনারস ও সবজি বাগানে পানি ঢুকেছে। ঢলের পানিতে নিমজ্জিত মসলা গাছ পচে যাচ্ছে। গেইচ্চা গ্রামের অসীম হাগিদক জানান, মসলা গাছের গোড়ায় পানি জমলেই পচে যায়। ১৬/১৭ দিন ঢলের পানি বাগানে থাকায় হলুদ ও আদা গাছ পচে যাচ্ছে। ঘাটাইলের কামারচালার নজরুল মিয়া মধুপুর উপজেলার সাতারিয়া গ্রামে ৬৭ একরে আদা-হলুদের আবাদ করেছেন। ঢলে তার ৫২ একর আদা-হলুদ বাগান বিনষ্ট হয়েছে। ছনখোলা গ্রামের হাফিজ উদ্দীন ভুটিয়া ও চাঁনপুর এলাকায় ৪৮ একরে মসলা আবাদ করেন। জলাবদ্ধতায় তার ২৫ একর মসলা পচে গেছে। বেড়িবাইদ গ্রামের আবুল হোসেন জানান, তার ১০ একর আনারস বাগান জলমগ্ন হয়। ১২ দিনেও পানি না নামায় ৭ একর জমির আনারস পচে গেছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সাড়ে তিন হাজার একর মশলা, ১ হাজার ১৫০ একর আনারস এবং আড়াই হাজার একর সবজি বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেসরকারি হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ এর দ্বিগুণ। স্থানীয় কৃষিবিদরা জানান, মধুপুর বনাঞ্চল উজাড় করা প্রায় ৪০ হাজার একর বনভূমিতে এখন ফসল আবাদ হয়। নিম্নাঞ্চলের নদ-নদী খালগুলো ভরাট হচ্ছে। অধিকাংশ খাল ও বাইদের কোন অস্তিত্বই নেই। ফলে উত্তরে শোলাকুড়ি থেকে শুরু করে দক্ষিণে সিংহচালা পর্যন্ত ৪৫ কিলো দীর্ঘ পাহাড়ি এলাকার ঢলের পানি বংশাই ও বানার নদীতে নামতে পারে না। এছাড়া বিগত ১০ বছরে গড় এলাকার বহু রাস্তাঘাট পাকা হয়েছে। এসব রাস্তায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক কালভার্ট নির্মাণ না করায় পানি নামতে পারে না। শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানান, পাহাড় জুড়ে ঢলের পানি আটকে রোপা আমন, আদা, হলুদ, আনারস ও সবজি বাগান বিনষ্ট হওয়ায় বাঙ্গালি ও গারো উভয় সমপ্রদায়ই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, ঢলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
ছবি: আরিফুর রহমান
লেখক: গোপালপুর(টাঙ্গাইল)সংবাদদাতা | মঙ্গল, ৩০ অগাষ্টu-এ ২০১১, ১৫ ভাদ্র ১৪১৮
Source: http://new.ittefaq.com.bd/news/view/38675/2011-08-30/20

মধুপুরে মিনি ব্রিজ নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত, যাতায়াতে দুর্ভোগ

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর উপজেলার চাড়ালজানি এলাকার দু’টি মিনি ব্রিজ নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় বৃহত্তর ময়মনসিংহের সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে সড়কপথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, টাঙ্গাইলের নাভিল এন্টারপ্রাইজ প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সড়কের চাড়ালজানিতে ২টি মিনি ব্রিজ নির্মাণের কাজ পায়।

গত ডিসেম্বরে এসব মিনি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার গত ডিসেম্বরে পুরনো মিনি ব্রিজ দু’টি ভেঙ্গে সড়কে যানচলাচলের জন্য সরু ডাইভারশন রোড তৈরি করে। এপ্রিল-মে মাসের বর্ষণে ঐ সরু ডাইভারশন রোড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারী যানবাহন পারাপার হতে পারে না। প্রায়ই মালবাহী ট্রাক বা লরী ঐ ভঙ্গুর ডাইভারশন রোডে আটকে গিয়ে সড়কের উভয় পাশে ৩/৪ মাইল দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বুধবার সকালে ঐ ডাইভারশন রোডে একটি মালবাহী ট্রাক আটকে গেলে একটানা ৩ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। মধুপুর উপজেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নের্তবৃন্দ অভিযোগ করেন, এ সড়কের ১০টি রুটে শত শত যাত্রীবাহী বাস এবং পণ্যবাহী ট্রাক চলে। ঠিকাদার ৪/৫ মাস আগে পুরনো ব্রিজ ভেঙ্গে নতুন ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করলেও তা অর্ধঅসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে রেখেছে। নামকাওয়াস্তে ডাইভারশন রোড দিয়ে যানবাহন পারাপার করতে গিয়ে প্রায়ই দুঘর্টনা ঘটছে। দীর্ঘ যানজটে নাকাল হচ্ছে দূরপাল্লার বাসযাত্রীরা।

উপজেলা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, যানজট ছাড়াও ডাইভারশন রোডটি এখন মৃত্যূফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সওজকে বার বার তাগিদ দিয়েও কোন লাভ হয়নি।
লেখক: গোপালপুর(টাঙ্গাইল)সংবাদদাতা | রবি, ২১ অগাষ্টu-এ ২০১১, ৬ ভাদ্র ১৪১৮
Source: http://new.ittefaq.com.bd/news/view/17060/2011-08-21/45

মধুপুরে ভেষজ মিউজিয়াম উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সংরক্ষণের অভিনব প্রচেষ্টা
দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল মধুপুরে এবার গড়ে উঠেছে ভেষজ মিউজিয়াম। বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সংরক্ষণের এ অভিনব প্রচেষ্টা সকলের প্রশংসা অর্জন করেছে। আশির দশক পর্যন্ত মধুপুর বনাঞ্চল হাজারো প্রজাতির ভেষজ উদ্ভিদ ও গুল্ম লতাদিতে ঠাসা ছিল। পরবর্তীতে নির্বিচারে প্রাকৃতিক বন উজাড় এবং বিদেশি প্রজাতির বৃক্ষে কৃত্রিম বনায়ন করায় উদ্ভিদ বৈচিত্র্য ধবংস হয়। ভেষজ জাতীয় গাছপালা ও লতাপাতা দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়ায় বন নির্ভর মানুষের সুলভে পাওয়া লোকায়ত ও কবিরাজি চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। বেকার হয়ে পড়ে ঔষুধি গাছ নির্ভর চিকিৎসা পেশায় জড়িত বহু মানুষ। বন নির্ভর জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চিরায়ত ভেষজ চিকিৎসা স্বমহিমায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং উদ্ভিদ প্রাণবৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার জন্য বেসরকারি সংস্থা সোসাইটি ফর প্রটেকশন অফ মেডিসিনাল পস্ন্যান্ট এন্ড এনভায়রনমেন্ট (সেম্প) টেলকিতে একটি ভেষজ মিউজিয়াম স্থাপন করেছে। এ মিউজিয়াম মূলত স্থানীয় প্রজাতির চিরচেনা শত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রচেষ্টা। একটানা ১০ বছরের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ঐ সংস্থা বন হতে বিলুপ্তপ্রায় ৫ শতাধিক উদ্ভিদ প্রজাতির বংশ ধারা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নিজস্ব নাসর্ারীতে লালন করে মাদার ট্রির ( মা গাছ) সমাহার ঘটিয়েছে। আর মাদার ট্রি হতে আধুনিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা বীজ,আকন্দ আর ডালপালা থেকে ১৫টি নার্সারীর মাধ্যমে প্রজনন করা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ঔষধি চারা। এসবের মধ্যে উলেস্নখ যোগ্য হলো বাসক, শতমূলি, সর্পগন্ধা, তুলসি, তালমূলি, জয়পাল, কালোমেঘা, অর্শগন্ধা, নাগদানা, পুদিনা, অজর্ুন, থানকুনি, চিতামূল, আমলকি, বহেড়া, হরিতকি, ঘৃতকুমারি, নাগেশ্বর, সোনালু, মেথি, যষ্ঠিমধু ও বিহিদানাসহ নানা দুর্লভ ও প্রয়োজনীয় ভেষজ। বিগত ৩ বছরে মধুপুর বনাঞ্চলের গেচুয়া, জলই, ঘায়রা, ভেদুরিয়া, জয়নাগাছা, চুনিয়া, জলছত্র, জাঙ্গালিয়া, পীরগাছা, কাঁকড়াগুনি, টেলকি ও রাজঘাট গ্রামে বিনামূল্যে ১৩ লক্ষ চারা বিতরণ এবং ভেষজ চাষে প্রশিক্ষণ দেয়। ভেষজ চাষে কোন খরচ নেই। তেমন পুঁজিও লাগে না। পোকা-মাকড় ও রোগ বালাইয়ের কোন প্রকোপ নেই। প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনে অনেকেই ভেষজ চাষে এগিয়ে এসেছে। এদের একজন হলো টেলকি গ্রামের আদিবাসি গারো নির্মলা হাদিমা। নির্মলা আগে বাড়িতে গারো মদ (চুং) তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। দারিদ্র্যতা আর মাদক ব্যবসাকে ঘিরে চলছিল তার মর্যাদাহীন জীবন। জুন-জুলাইয়ে গারো মদের চাহিদা কমলে সংসারে অনটন নেমে আসতো। মাতৃতান্ত্রিক সমাজে ছেলে- মেয়ের পড়া লেখার খরচ মাতাকে জোগাতে হয় বলে তার দুর্দশার অন্ত ছিল না। ৮ বছর পূর্বে বাড়ির চতর্ুপাশ্বর্ের পতিত দুই একরে দুর্লভ প্রজাতির ভেষজ আবাদ করে। উৎপাদিত ভেষজ এলোপ্যাথিক কোম্পানী, আয়র্ুবেদ, ইউনানী, হোমিও ও কবিরাজরা কাঁচামাল হিসাবে কিনে নিয়ে যায়। ভেষজ বিক্রি করে তার মাসে আয় হয় ১০/১২ হাজার টাকা। নির্মলাকে এখন আর চুং বা গারো মদ বিক্রি করে চলতে হয় না। নির্মলা হাদিমার দেখাদেখি সেম্পের কারিগরি সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দুই শতাধিক আদিবাসী গারো পরিবার ভেষজ চাষে এগিয়ে এসেছে। বাজারজাত ও বিপণনে কোন সমস্যা নেই। শুধুমাত্র এপি কোম্পানী প্রতি বছর এখান থেকে ১৪৭ প্রকার ঔষধি বৃক্ষের বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল কিনে নেয়। প্রতিদিন দূর-দুরান্ত থেকে গ্রাহকরা এসে ভেষজ চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। সেম্প ১৫টি এজিওকে ভেষজ চাষের উপর বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সেম্পের চেয়ারম্যান রবি খান জানান, মধুপুরের প্রাকৃতিক বনাঞ্চল উজাড় হওয়ায় ভেষজ কাঁচামালের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। দেশীয় চিকিৎসায় ভাটা পড়ে। প্রাণবৈচিত্র্য বিলুপ্তির পথে ধাবিত হয়। এ অবস্থা উত্তরণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ভেষজ মিউজিয়াম। মিউজিয়ামের সাহায্য নিয়ে নার্সারীর মাধ্যমে বানিজ্যিকভিত্তিতে ভেষজ আবাদ করে বাড়তি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে ।
- জয়নাল আবেদীন, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
Source: http://ittefaq.com.bd/content/2010/09/20/news0207.htm


মধুপুরে পারিজা ধানের আবাদ কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে
টাঙ্গাইলের মধুপুরে দেশি জাতের পারিজা ধানের সফল আবাদ হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আরডিআরএসের যৌথ উদ্যোগে স্বল্পমেয়াদী এ ধানের কাঙ্ক্ষিত উত্পাদন পাওয়া গেছে। অমৌসুমে সোনালী ফসল গোলাজাত করায় কৃষকের মুখে এখন সাফল্যের হাসি। সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক মধুপুর উপজেলার চাড়ালজানি গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে পারিজার শস্য কর্তন উদ্বোধন করেন। খাদ্য মন্ত্রী দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, সারা দেশে স্বল্প মেয়াদী পারিজা ধান অমৌসুমে আবাদ করে যাতে বাড়তি খাদ্য উত্পাদন করা যায় সরকার সে জন্য বিএডিসি, কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর এবং আরডিআরএসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে। আরডিআরএসের কৃষি বিভাগীয় প্রধান ড.এম জি নিয়োগী জানান, পারিজা রোপণ থেকে কর্তন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭৫ দিন লাগে। বোরো কাটার পর চারা লাগানো হয়। ফলন প্রতি হেক্টরে ৩ টন। এ ধান চাষে খরচ একেবারে কম। সেচের খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না। রাসায়নিক সারও তেমন লাগে না। পোকা মাকড়ের উপদ্রব নেই বললেই চলে। মধুপুর উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ জানায়, মে মাসে বোরো ধান কাটার পর টাঙ্গাইলের কৃষকরা দুই আড়াই মাস জমি পতিত রেখে দেয়। এ অন্তর্বর্তী সময়ে পারিজা আবাদ করে শুধু মধুপুর উপজেলায় ৩৫শ’ হেক্টরে সাড়ে ৯ হাজার টন বাড়তি ধান উত্পাদন সম্ভব। চাড়ালজানি গ্রামের পারিজা চাষি বিরাজ আলী জানান, অমৌসুমে পারিজা আবাদ করে তার দু’ফসলী জমি তিন ফসলীতে পরিণত করেছেন। তার গ্রামের চাষিরা পারিজা আবাদ করে অমৌসুমে বাড়তি ধান উত্পাদন করে লাভবান হয়েছেন। সময়মত পারিজা বীজ সরবরাহ করা হলে আগ্রহী চাষিরা আউস মৌসুমে বাড়তি ধান উত্পাদনে এগিয়ে আসবে বলে জানান স্থানীয় কৃষিবিদরা। খাদ্যমন্ত্রী পরে এক কৃষক সমাবেশে চারজন সফল পারিজা চাষির মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
লেখক: গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা | রবি, ৭ অগাষ্টu-এ ২০১১, ২৩ শ্রাবণ ১৪১৮
Source: http://new.ittefaq.com.bd/news/view/33735/2011-08-07/45

মধুপুরে কাঁঠাল এখন গো-খাদ্য
মধুপুরে এবার জাতীয় ফল কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারজাত, বিপণন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে চাষীরা কাঁঠালের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। ক্রেতার অভাবে গাছের কাঁঠাল গাছেই পেকে বিনষ্ট হচ্ছে। মধুপুর গড়াঞ্চলের কাঁঠাল, আনারস ও কলা রাজধানীসহ সারাদেশের চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন শতেক ট্রাক ফল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়।এখন কাঁঠালের ভরা মৌসুম। কাঁঠালের বাজার সয়লাব কিন্তু ক্রেতা কম। মনের দুঃখে চাষীরা জাতীয় এ ফল গরুকে খাওয়াচ্ছেন। আর কম মূল্যের এ সুযোগে গবাদি পশুর খামারিরা চড়ামূল্যে গোখাদ্য কেনার পরিবর্তে সস্তায় পুষ্টিকর গোখাদ্য হিসেবে কাঁঠাল ব্যবহার করছেন। সরেজমিনে গড়াঞ্চলের আউশনারা ইউনিয়নের বোকারবাইদ গ্রামের ‘একরাম গবাদি পশুর ফার্ম’ এর সব গরুকে শুধু কাঁঠাল খাওয়ানোর দৃশ্য চোখে পড়ে। খামারের মালিক আলী আকবর জানান বাজারে ১ কেজি গোখাদ্যের মূল্য ৩০ টাকা সেখানে ১০-১৫ টাকায় ৪-৫ কেজি ওজনের একটি কাঁঠাল খাওয়ানো অনেক বেশি লাভজনক। মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এবার এ উপজেলায় ১১০০ একরে কাঁঠালের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় গাছে গাছে থোকা থোকা কাঁঠাল এসেছে। জৈষ্ঠ্য-আষাঢ় কাঁঠালের ভরা মৌসুম। মধুপুর, জলছত্র, মোটেরবাজার, আশ্রা, গারোবাজার, কান্দুরবাজার, সাগরদীঘিসহ বিভিন্ন হাটবাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঁঠালে উঠছে। কিন্তু ক্রেতার অভাবে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে না। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, এবার বহু কাঁঠাল চাষী লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। বাজারজাত, বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে মধুপুর উপজেলায় কয়েক কোটি টাকার কাঁঠাল পচে বিনষ্ট হবে বলে তাদের ধারণা।
Source: http://www.amardeshonline.com/pages/details/2011/07/12/92442

ধনবাড়ী নওয়াব মঞ্জিলে ধারণকৃত ‘ইত্যাদি’র প্রচার ২৯শে জুলাই 
আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্য, মিথ ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে গিয়ে ‘ইত্যাদি’র মূল অনুষ্ঠান ধারণ শুরু হয়েছে দীর্ঘদিন থেকেই। এরই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানটির আগামী পর্ব ধারণ করা হয়েছে ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত ধনবাড়ীর নওয়াব মঞ্জিলে। ধনবাড়ীতে ‘ইত্যাদি’ ধারণ উপলক্ষে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে এক উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছিল।কয়েক হাজার আমন্ত্রিত দর্শক ছাড়াও বাইরে রাস্তায়, বিভিন্ন গাছের ওপর এবং আশপাশে হাজার হাজার লোক গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরম ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাদের প্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র ধারণ উপভোগ করেন। ধনবাড়ী ছাড়াও জামালপুর, মধুপুর, মুক্তাগাছা, ঘাটাইল, কালিহাতী থেকেও প্রচুর দর্শক অনুষ্ঠান দেখতে আসেন। নওয়াব মঞ্জিলকে আলোকিত করার জন্য সাময়িকভাবে একটি আলাদা ট্রান্সফরমার বসানো হয়। বর্ণিল আলোয় নওয়াব মঞ্জিল যেন নতুন সাজে সেজেছিল। ‘ইত্যাদি’র আগামী পর্ব প্রচার হবে ২৯শে জুলাই রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। ‘ইত্যাদি’ রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। স্পন্সর কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

মধুপুরে মজুরদের হাতে গড়া স্কুল
কামনাশীষ শেখর | তারিখ: ১০-০৬-২০১১
তাঁরা ১৭ জন। তাঁদের বয়স ১৫ থেকে ২৫-এর মধ্যে। কেউ রাবার বাগানের শ্রমিক, কেউ রিকশাভ্যানচালক, কেউ মাছ ধরেন, কেউ বা দিনমজুর। তাঁদের সবার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গড় এলাকার উত্তর অরণখোলা গ্রামে। এই ১৭ জনের কেউ স্কুলে পড়ার সুযোগ পাননি। কারণ আর কিছুই নয়, নিত্য অভাব আর গ্রামে কোনো স্কুল না থাকা। যা দু-একটি স্কুল আছে, তা-ও দূরে, দু-তিন গ্রাম পেরিয়ে পাহাড়ি রাস্তার জল-কাদা ভেঙে গ্রামের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে চায় না। দু-চারজন কষ্ট স্বীকার করে দূরের স্কুলে ভর্তি হলেও দুর্গম পথের কারণে অল্প দিনেই লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটে তাদের।
২.
মধুপুর উপজেলা সদর থেকে ১৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় উত্তর অরণখোলা গ্রামের অবস্থান। গ্রামের উত্তর দিকে বনাঞ্চল আর তিন দিকে বিল ও নদী। এ গ্রাম থেকে সবচেয়ে কাছের প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিন কিলোমিটার দূরে ভুটিয়া গ্রামে। বৃষ্টি নামলে পাহাড়ি মাটির রাস্তায় শিশুরা তো দূরে থাক, বড়দেরও যাতায়াত করতে হিমশিম খেতে হয়। তাই এ গ্রাম থেকে কোনো শিশু ওই স্কুলে যায় না। গোটা গ্রামের কোনো ছেলেমেয়ে স্কুলে যায় না—এ বিষয়টি ভাবিয়ে তোলে পীরগাছা রাবার বাগানের শ্রমিক ফারুক আহমেদসহ আরও অনেককেই। কী করা যায়, তা নিয়ে ২০০৮ সালে ফারুক আলাপ করেন বন্ধু দিনমজুর সোহেল রানার সঙ্গে। সোহেল রানাও ফারুকের মতো ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কিন্তু দুজনের পক্ষে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই তাঁরা অন্যান্য বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আলাপ করেন বিষয়টি নিয়ে। অনেকেই সমর্থন দেন তাঁদের। পরে ১৭ জন একমত হন, তাঁরা গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করবেন। কিন্তু টাকা দেবে কে? সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এই ১৭ জন তাঁদের আয়ের একটি অংশ বিদ্যালয়ের জন্য জমা করবেন। আর এই জমা করা অর্থ দিয়েই শুরু হবে স্বপ্নের স্কুলের। সিদ্ধান্তমতো রাবার বাগানের শ্রমিক ফারুক আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন, আবদুল বারেক, শাহিনুল ইসলাম, লিটন মিয়া, আমজাদ হোসেন, জেলে (মাছ ধরে বিক্রি করেন) জুরান আলী, আব্বাছ আলী, আন্নাছ আলী, আমীর আলী, দিনমজুর মজনু মিয়া, মোতালেব মিয়া ও আনোয়ার হোসেন এবং সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রাসেল মিয়া ও ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র আলমগীর হোসেন তাদের আয়ের কিছু অংশ জমা দিতে থাকে স্কুল প্রতিষ্ঠার তহবিলে। ফারুক আহমেদ বলেন, ‘কয়েক হাজার টাকা জমা হওয়ার পরই আমরা বইখাতাসহ শিক্ষা-উপকরণ কিনে স্কুলের কার্যক্রম শুরু করি।’ আমজাদ হোসেন তাঁর নিজের থাকার ঘর ছেড়ে দেন স্কুলের জন্য। তিনি নিজে থাকার জন্য ওঠেন রান্নাঘরে। তাঁরা ১৭ জন বাড়ি বাড়ি ঘুরে শিক্ষার্থী সংগ্রহ শুরু করেন। ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ২০০৮ সালে তাঁদের স্বপ্নের স্কুলের যাত্রা শুরু হয়।

৩.
স্কুল তো চালু হলো, কিন্তু পড়াবেন কারা? শিক্ষক নিয়োগে প্রয়োজন বেতন। ঠিক হলো, শুরুতে তাঁদের মধ্যে যাঁরা খানিকটা লেখাপড়া জানেন, তাঁরা শিক্ষক হিসেবে কাজ করবেন। নবম শ্রেণী পাস রাবার বাগানের শ্রমিক ফারুক আহমেদকে দেওয়া হলো প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব। সহকারী শিক্ষকের দায়িত্ব পেলেন নবম শ্রেণী পাস আবদুল বারেক, সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রাসেল ও ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র আমজাদ হোসেন। বাকি সদস্যরা কাজ করবেন শিক্ষার্থী সংগ্রহ, তদারকি ও অর্থ সংগ্রহের। তাঁদের একজন আনোয়ার হোসেন বিভিন্ন হাটবাজারে খেলা দেখিয়ে (সার্কাস) স্কুলের জন্য তহবিল সংগ্রহে নামলেন। এ প্রসঙ্গে আনোয়ার হোসেনের কথা, ‘আমাদের এই উদ্যোগকে প্রথম দিকে সবাই বলত পাগলামি। কিন্তু কিছুদিন যেতেই ভুল ভাঙল সবার। লোকজন বিশ্বাস করতে শুরু করল, আমাদের দিয়ে স্কুল করা সম্ভব। এরপর ছয়-সাত মাস আমজাদের বাড়িতে স্কুল চলার পর গ্রামের আবদুস সামাদ ও আলাউদ্দিন মিয়াসহ কয়েকজন স্কুলটির জন্য ৩৫ শতাংশ জমি দান করেন।’

৪.
প্রথমবার ১৭ জনের আয়ে জমে ৭০ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে ওঠে স্কুলের জন্য প্রথম দোচালা ঘর। পরে সমন্বিত সেবা উন্নয়ন সংস্থা (সাস) থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে স্কুলের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য তৈরি হয় স্কুল পোশাক ও স্কুলের অফিস ঘর, আসবাব। ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমরা ঋণ নিয়ে স্কুলের উন্নয়ন করেছি। আর ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করছি আমাদের সবার আয় থেকে।’

৬.
বর্তমানে বেশ কটি শিফট চালু আছে স্কুলটিতে। প্রথম শিফটে শিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর ক্লাস হচ্ছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা আসছে দ্বিতীয় শিফটে ক্লাস করতে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি ও অন্য তিন শিক্ষিকা—শাহনাজ পারভীন, রেবেকা সুলতানা ও মমতা খাতুন সম্পূর্ণ বিনা বেতনে স্কুলটিতে পড়াচ্ছেন। তাঁদের আশা, স্কুলটি একদিন সরকারি রেজিস্ট্রেশন পাবে। তখন তাঁরাও বেতন পাবেন।

৭.
উত্তর অরণখোলা গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘স্কুলের অভাবে গ্রামে এত দিন লেখাপড়া হয়নি। ঘরে ঘরে অশিক্ষিত মানুষ। এই স্কুল চালুর পর ঘরে ঘরে এখন ছাত্রছাত্রী হইছে। এই স্কুলে পইড়া গ্রামের পোলাপান একদিন মানুষ অইব।’ স্কুলের অন্যতম উদ্যোক্তা শ্রমজীবী আমজাদ হোসেনের মা হাসনা বানু বলেন, ‘একসময় পোলার এই কাজকে পাগলামি মনে অইত। মন খারাপ লাগত যে কষ্টের টেহা পানিতে ফালাইতাছে। কিন্তু এহন ভালো লাগে। ওরা গরিব অশিক্ষিত হইয়াও স্কুল করবার পারছে।’
মধুপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্বাছ আলী বলেন, ‘প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় এটি একটি ভালো উদ্যোগ। ওই এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে শ্রমজীবী মানুষের প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি ভূমিকা রাখছে।’

আরেকটি স্বপ্ন
উদ্যোক্তাদের পক্ষে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমরা সবাই অশিক্ষিত। স্কুলকে কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় জানি না। এই জটিল কাজ সমাধান করে দেওয়ার জন্য শিক্ষা বিভাগ উদ্যোগ নেবে, আমরা সেই আশায় বসে আছি। আমাদের স্বপ্ন, এই প্রতিষ্ঠানকে একদিন আমরা হাইস্কুলে উন্নীত করব।’
Source: https://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-06-10/news/161081


মধুপুরে অপ্রচলিত ফসল, ফল ও সবজির বাণিজ্যিক আবাদ

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গড় এলাকায় দিগন্তজুড়ে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক ফল ও ফসল আবাদের সঙ্গে লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। সারা দেশে ফলের চাহিদার বেশিরভাগ পূরণ করে মধুপুর। এ উপজেলার ২৫টি গ্রামের মানুষ শুধু রকমারি ফল, ফসল, সবজি, ভেষজ ও অর্থকরী কৃষি পণ্য আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে। ২০০৯ সালে বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন এবং জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, এ উপজেলায় তিন সহস্রাধিক পরিবার শুধু ফল এবং আড়াই হাজার পরিবার সবজি আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে। মধুপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যে দেখা গেছে, এ উপজেলায় ৭ হাজার ১০০ হেক্টরে আনারস, ৩ হাজার ৫০০ হেক্টরে কলা, ১ হাজার ১০০ হেক্টরে কাঁঠাল, ৩৩০ হেক্টরে পেঁপে, ১৫ হেক্টরে জলপাই, ২০ হেক্টরে কুল, ১০ হেক্টরে কমলা এবং ২৫ হেক্টরে হাইব্রিড আম্রপালির আবাদ হয়। অবশ্য গ্রামীণ বসতভিটা সংলগ্ন গৃহস্থের কাঁঠাল, দেশি জাতের আম, কলা ও ঐতিহ্যবাহী নানা ফল এ হিসাবের বাইরে। মধুপুরে নীরবে কমলা বিল্পব হচ্ছে। কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় গড় এলাকায় গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক মিনি কমলা বাগান। অনেক গাছে ফুল গুটিতে পরিণত হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে মধুপুরের কমলা বাজারে আসবে বলে আশা করছেন কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ। ফল ছাড়াও মধুপুরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে অপ্রচলিত ফসলের আবাদ হয়। যেমন এবার ৯০০ হেক্টরে হলুদ, ৬০০ হেক্টরে আদা, ২২০ হেক্টরে তুলা, ৫৫ হেক্টরে কাসাভা, ৩৫ হেক্টরে চিরতা, ১৬০ হেক্টরে লেবু, ১০০ হেক্টরে নানারকম মসলা এবং ৩২০ হেক্টরে আখের আবাদ হয়েছে। এছাড়াও মাঝারি ও নিম্নাঞ্চলে ১২ হাজার হেক্টরে বোরো, ১১ হাজার ৯৫০ হেক্টরে রোপা আমন, ৮৮০ হেক্টরে সবজি, ১৩০ হেক্টরে গম, ১০৩ হেক্টরে পাট এবং ১১৫ হেক্টরে গোলআলুর আবাদ হয়। সারা দেশের মধ্যে মধুপুর সরকারি-বেসরকারি খাতে বিপুল পরিমাণ উফশী ও হাইব্রিড শস্য বীজ উৎপাদনের সফল জোন। বিএডিসির কাকরাইদ কৃষি ফার্মে বার্ষিক দুই-আড়াই হাজার টন শস্য ও সবজি বীজ উৎপাদিত হয়। বিএডিসির বীজ উইং একটানা তিন দশক ধরে ৬ শতাধিক চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে সহস্রাধিক টন বোরো, রোপা আমন, গম, আলু, সরিষা ও পাট বীজ উৎপাদন করে। বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক খামারিরা বার্ষিক ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ টন প্রত্যায়িত ও মৌল ধান বীজ উৎপাদন করে। মধুপুরে বেসরকারি খাতে উৎপন্ন মানসম্মত শস্য বীজের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। দেশে বিকাশমান রাবার শিল্পে উল্লেখযোগ্য কাঁচা রাবার জোগান দিচ্ছে মধুপুর উপজেলার চার রাবার বাগান। প্রায় ৮ হাজার একর রাবার বাগানের আগাছা নির্মূল এবং কাঁচা রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ আগাছানাশক ও নানা ধরনের কেমিক্যাল। মধুপুরের গড় এলাকা সব সময় বন্যামুক্ত হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় বৃষ্টি ও তাপমাত্রা বিদ্যমান থাকায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্ভাবিত অথবা বিদেশ থেকে আমদানি করা ফল ও ফসলের নতুন জাত, কীটনাশক, রাসায়নিক সার, তরল ও জৈব সার এবং হরমোনের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য এখানে বরাবরই প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। হরমোন প্রয়োগের মাধ্যমে সারা বছর আনারস উৎপাদনের তথাকথিত প্রযুক্তি দেশে প্রথম চালু হয় মধুপুরে; ১৯৯৩ সালে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি বিজ্ঞানী ড. নাজিম উদ্দীনের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি শেষ পর্যন্ত ফল পাকানোর ক্ষতিকর কুপ্রযুক্তিতে পরিণত হয়। এখন নানা মাত্রার ভেজাল, ক্ষতিকর ও চোরাই হরমোন দিয়ে ফল পাকানোর কুপ্রবণতা মধুপুর থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মধুপুরকে বালাইনাশক, কীটনাশক, হরমোন, জৈব ও তরল সার বিক্রির বড় মার্কেটে পরিণত করেছে দেশি-বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানি। বাণিজ্যিক খামারীরা বুঝে না বুঝে অথবা কীটনাশক কোম্পানির প্রলোভনে পোকামাকড়, রোগবালই দমন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির আশায় নির্বিচারে বালাইনাশক ও হরমোন প্রয়োগ করছেন। এতে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাওয়া ছাড়াও কৃষি প্রতিবেশ এবং প্রাণবৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। কীটনাশক কোম্পানিগুলো এখানে বার্ষিক কত টন কীটনাশক, হরমোন ও তরল সার বিক্রি করে কৃষি বিভাগের কাছে সে হিসাব নেই। তবে বছরে কমপক্ষে ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকার প্রোডাক্ট বিক্রি হয় বলে জানান কীটনাশক ব্যবসায়ী ও মহাজনরা। মধুপুর গড়ের ভূতাত্তি্বক গঠন, জৈব সারের আনুপাতিক অনুপস্থিতি এবং সুষম সার প্রয়োগ না করায় উদ্যান ভিত্তিক ফল ও স্পর্শকাতর ফসল উৎপাদনে অনুভূত সার, কীটনাশক ও হরমোন দেয়ার প্রয়োজনীয়তাকে পুঁজি করে কীটনাশক কোম্পানি ও ব্যবসায়ীরা এখানে বিষ বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে, খোদ কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট যৌথভাবে বিষ, হরমোন ও ক্ষতিকর সারের অশুভ বৃত্ত থেকে কৃষকদের বের করে আনার জন্য আইপিএম এবং আইসিএম প্রকল্প নিয়ে মাঠে নেমেছে। এখানে আনারস, কলা, কাঁঠাল পাকাতে এবং শাক-সবজির উৎপাদন বাড়াতে সারা বছর কম-বেশি রাইপেনিং ও গ্রোথ রেগুলেটর (হরমোন) প্রয়োগ করা হয়। কৃষি উৎপাদন ও কৃষিজাত পণ্য বিপণনে মধুপুরের মতো দেশের অন্য কোথাও একসঙ্গে এতো সব কর্মযজ্ঞের উপস্থিতি নেই। সরকারি ও বেসরকারি খাতে কৃষি উন্নয়নের এ কর্মযজ্ঞের সুযোগকে মুনাফা লাভের হাতিয়ার বানাতে বালাইনাশক ব্যবসায়ী ও কোম্পানির প্রতিনিধিরা মধুপুরে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। আর তাদের মুনাফার যুপকাষ্ঠে বলি হচ্ছে চিরায়ত কৃষি প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য। -আবদুল্লাহ আবু এহসান
Source: http://www.dainikdestiny.com/index.php?view=details&type=main&cat_id=1&menu_id=47&pub_no=55&news_type_id=1&index=0&archiev=yes&arch_date=27-06-2011

মধুপুরকে জেলার দাবিতে মানববন্ধন
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলাকে পৃথক জেলা ঘোষণার দাবিতে এক কিলোমিটার লম্বা মানববন্ধন করেছে মধুপুরবাসী। মধুপুর জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের এই মানববন্ধন টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর থানার মোড় থেকে বাসস্ট্যান্ড হয়ে চাড়ালজানি ও জামালপুর সড়কের টুনিয়াবাড়ি পর্যন্ত এই মানববন্ধন বি¯তৃতি লাভ করে। শনিবার বিকাল তিনটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারের এই লম্বা মানববন্ধনে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় পনের হাজার লোক অংশ গ্রহণ করে। পরে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের গোলচত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ঢাকা, জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইলÑময়মনসিংহসহ ১৭টি সড়কের যোগাযোগ দুই ঘন্টা বন্ধ থাকে। এ সময় মধুপুর শহর জেলার দাবিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব মাসুদ পারভেজ এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক আজিজুল হক লুলু, বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি, মধুপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মেহেদী হাসান মিন্জু, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, খন্দকার শফিউদ্দিন মনি, প্রবাসী শাহ মো. কবীর হোসেন, প্রবাসী আব্দুল লতিফ, ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফ আহমেদ নাসির, ছাত্রদলের আহবায়ক মোতালেব হোসেন ফকির প্রমুখ। মানববন্ধনের পূর্বে ট্রাক মালিক সমিতির অফিসে একই দাবিতে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
// টাঙ্গাইল, ২৮ জানুয়ারি (বাংলাটাইমস টুয়েন্টিফোর) // টি এম //
Source: http://www.banglatimes24.com/?p=85223

জেলার দাবিতে মধুপুরে মানববন্ধন
ভৌগোলিকভাবে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও জামালপুরের মধ্যস্থল, শিক্ষা, যোগাযোগ, উৎপাদন, বাণিজ্য ও দেশ সেরা রাবার জোন ঐতিহাসিক গড়াঞ্চল দেশের অন্যতম উল্লেখ্যযোগ্য স্থান মধুপুর উপজেলাকে জেলায় উন্নীত করার দাবিতে উত্তাল হয়েছে মধুপুর। মধুপুরে জেলা চাই এ অভিন্ন দাবিতে রঙ বেরঙের হাজারো পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে বর্ণিল রঙে ছেয়ে গেছে মধুপুর শহর। চলছে তিন মহাসড়কে মানববন্ধন, মিছিল সমাবেশসহ একের পর এক কর্মসূচি। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহবানে তিন মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি সকল শ্রেনী পেশার হাজার হাজার মানুষ উল্লাস করে রাস্তায় নেমে আসে মিছিলে মিছিলে ভরে যায় শহর সৃষ্টি হয় অচলাবস্থার। বাসস্ট্যান্ড ময়মনসিংহ, জামালপুর ও টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে ২০ মিনিট ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্র্টি এর অঙ্গ সংগঠন সমূহ সকল পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষঅয় অধ্যয়নরত ছাত্র নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসীগণ মানববন্ধনে অংশ নেন। জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মাসুদ পারভেজের সভাপতিত্বে বিশাল সমাবেশে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি, থানা আ.লীগের আহবায়ক ও কৃষক শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল হক লুলু, থানা আ.লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার শফি উদ্দিন মনি, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জাকির হোসেন সরকার ও যুবদল নেতা আব্দুল মান্নান, প্রবাসী আব্দুল লতিফ (ইঞ্জিনিয়ার), উপজাতি নেতা, উইলিয়াম দাজেল, ইউজিন নকরেক, চেয়ারম্যান কোরবান আলী বিএসসি, মুক্তিযোদ্ধা আঃ রাজ্জাক জিহাদী ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তাগণ দেশের পবিত্র সংবিধান রচনার তীর্থস্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখযোগ্য রণাঙ্গণ গড়খ্যাত ঐতিহাসিক মধুপুরকে দ্রুত জেলা উন্নীত করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান এবং এ লক্ষ্যে আগামী ১৩ ফেব্রশুয়ারি জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
-টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
Source: http://www.gramerkagoj.com/details/35/69795

মধুপুরকে জেলার দাবিতে মানববন্ধন, ২ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলাকে পৃথক জেলা ঘোষণার দাবিতে এক কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন করেছে মধুপুরবাসী। মধুপুর জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের এই মানববন্ধন টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর থানার মোড় থেকে বাসস্ট্যান্ড হয়ে চাড়ালজানি ও জামালপুর সড়কের টুনিয়াবাড়ি পর্যন্ত এই মানববন্ধন বিস্তৃতি লাভ করে। শনিবার বিকাল তিনটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারের এই লম্বা মানববন্ধনে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় পনের হাজার লোক অংশগ্রহণ করে। পরে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের গোলচত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ঢাকা-জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহসহ ১৭টি সড়কের যোগাযোগ দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এ সময় মধুপুর শহর জেলার দাবিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব মাসুদ পারভেজ এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক আজিজুল হক লুলু, বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি, মধুপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মেহেদী হাসান মিন্জু, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, খন্দকার শফিউদ্দিন মনি, প্রবাসী শাহ মো. কবীর হোসেন, প্রবাসী আব্দুল লতিফ, ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফ আহমেদ নাসির, ছাত্রদলের আহবায়ক মোতালেব হোসেন ফকির, প্রমুখ।
মানববন্ধনের পূর্বে ট্রাক মালিক সমিতির অফিসে একই দাবিতে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
টাঙ্গাইল, ২৮ জানুয়ারি:
Source: http://www.barta24.net/?view=details&data=Emirates&news_type_id=1&menu_id=80&out_dhk=yes&loc_id=1&news_id=28051

জেলার দাবীতে মধুপুরে মানববন্ধন
এফএনএস (এম.এ রউফ; মধুপুর, টাঙ্গাইল) : ভৌগলিকভাবে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও জামালপুরের মধ্যস্থল, শিক্ষা, যোগাযোগ, উৎপাদন, বাণিজ্য ও দেশ সেরা রাবার জোন ঐতিহাসিক গড়াঞ্চল দেশের অন্যতম উল্লেখ্যযোগ্য স্থান মধুপুর উপজেলাকে জেলায় উন্নীত করার দাবীতে উত্তাল হয়েছে মধুপুর। মধুপুরে জেলা চাই এ অভিন্ন দাবীতে রঙ বেরঙের হাজারো পোষ্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে বর্ণিল রঙে ছেয়ে গেছে মধুপুর শহর। চলছে তিন মহাসড়কে মানববন্ধন, মিছিল সমাবেশসহ একের পর এক কর্মসূচি। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহবানে তিন মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি সকল শ্রেনী পেশার হাজার হাজার মানুষ উল্লাস করে রাস্তায় নেমে আসে মিছিলে মিছিলে ভরে যায় শহর সৃষ্টি হয় অচলাবস্থার। বাসস্ট্যান্ড ময়মনসিংহ, জামালপুর ও টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে ২০ মিনিট ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, কাউন্সিলর, আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এর অঙ্গ সংগঠন সমূহ সকল পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষায় অধ্যয়নরত ছাত্র নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসীগণ মানববন্ধনে অংশ নেন। জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মাসুদ পারভেজের সভাপতিত্বে বিশাল সমাবেশে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি, থানা আ�লীগের আহবায়ক ও কৃষক শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল হক লুলু, থানা আ�লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার শফি উদ্দিন মনি, উপজেলা বিএনপি�র সভাপতি জাকির হোসেন সরকার ও যুবদল নেতা আব্দুল মান্নান, প্রবাসী আব্দুল লতিফ (ইঞ্জিনিয়ার), উপজাতি নেতা, উইলিয়াম দাজেল, ইউজিন নকরেক, চেয়ারম্যান কোরবান আলী বিএসসি, মুক্তিযোদ্ধা আঃ রাজ্জাক জিহাদী ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তাগণ দেশের পবিত্র সংবিধান রচনার তীর্থস্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখযোগ্য রণাঙ্গণ গড়খ্যাত ঐতিহাসিক মধুপুরকে দ্রুত জেলা উন্নীত করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান এবং এ লক্ষ্যে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারী জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ বিশেষ কর্মসূচি ঘোষনা করেছেন।
Source: http://www.fairnews24.com/details.php?q=news&id=6174

মধুপুরকে জেলা করার দাবিতে মানববন্ধন
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলাকে পৃথক জেলা ঘোষণা করার দাবিতে শনিবার মানববন্ধন করেছে মধুপুরবাসী। মধুপুর জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর থানার মোড় থেকে জামালপুর সড়কের টুনিয়াবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। বিকাল তিনটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত রাস্তার দুই পার্শ্বের লম্বা মানববন্ধনে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে। পরে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের গোলচত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ১৭টি সড়কের যোগাযোগ দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে।

জেলা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব মাসুদ পারভেজ এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আজিজুল হক লুলু, বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি, মধুপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মেহেদী হাসান মিন্জু, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, খন্দকার শফিউদ্দিন মনি, প্রবাসী শাহ মো. কবীর হোসেন, প্রবাসী আব্দুল লতিফ, ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফ আহমেদ নাসির, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন ফকির প্রমুখ।
মানববন্ধনের আগে ট্রাক মালিক সমিতির অফিসে একই দাবিতে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিডিপ্রেস ডটনেট/এমএন/এএমইউ_২১৪৮ ঘ.
জেলা সংবাদদাতা: (টাঙ্গাইল, ২৮ জানুয়ারি)
Source: http://www.bdpress.net/news/category/country/detail/8499

মধুপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০১১ পালন
তামাকের করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরে মধুপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, এফ.সি.টি.সির আলোকে ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্যে ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০০৫ সংশোধন” এই বিষয়কে লক্ষ্য রেখে র‌্যালীর উদ্বোধন করেন মধুপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মুন্তাজ আলী, র‌্যালী ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.কে.এম বেনজামিন রিয়াজী, মধুপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টু ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ মীর ফরহাদুল আলম মনি সহ আরো টাক্সফোর্স কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ডাব্লিউবিবি ট্রাষ্টের সহযোগিতায় মধুপুর স্বাস্থ্য শিক্ষা কৃষি গবেষণা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও মধুপুর উপজেলা টাক্সফোর্স কমিটি ধুমপান ও তামাক জাত দ্রব্যের নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সচেতনতায় র‌্যালিটির আয়োজন করে।
Source: http://www.wbbtrust.org/organization.php?oid=102


চলতি পথে রাবার বাগানে
মধুপুর থেকে ময়মনসিংহের রাস্তায় কখনো গিয়েছেন? যাঁরা গিয়েছেন, তাঁরা তো জানেনই। আর যাঁরা যাননি, তাঁদের জন্য একটা কথাই বলা যায়, অপূর্ব এক রাস্তা। টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থেকে ময়মনসিংহ শহরে যেতে হয় মুক্তাগাছা হয়ে। মধুপুর শহর পেরিয়ে চার-পাঁচ কিলোমিটার গেলেই রাস্তাটা ঢুকে গেছে মধুপুর বনাঞ্চলে। জাতীয় উদ্যান এটা। দুই লেনের পিচঢালা পথ চলে গেছে বনের মধ্য দিয়ে। রাতে শেয়াল চলে আসে পথের ওপর। ভোরে মাঝেমধ্যে বানর-হনুমানের দেখাও মেলে।
মধুপুর বনাঞ্চলের নামডাক বেশ। ময়মনসিংহের দিকে বনটা যখন শেষ হবে হবে, তখনই শুরু রসুলপুর জাতীয় উদ্যানের। পথবন পেরোনোর পর কিছুদূর গেলেই চোখে পড়বে দিকনির্দেশক বড়সড় একটা সাইনবোর্ড। তীরচিহ্ন দিয়ে দেখানো হয়েছে, এই দিকে ‘কমলাপুর রাবার বাগান, ৫.২ কিলোমিটার’। যতবার ময়মনসিংহ-মধুপুর রাস্তায় গিয়েছি, ততবারই এটা চোখে পড়েছে। গত মাসে সাইনবোর্ড পেরোতে পেরোতেই রাবার বাগান দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
উঠল বাই তো কটক যাই! আর চলতি পথে একটা রাবার বাগান দেখার শখ তো হতেই পারে! কিছুদূর পাকা রাস্তা। এরপর লাল মাটির রাস্তা। এই মাটির রাস্তাই নিয়ে গেল রাবার বাগানে। এটা বন বিভাগের বাগান। অসংখ্য রাবারগাছ, সারি সারি সজ্জিত। পাতার রং গাঢ় সবুজ। গাত্রবর্ণ ছাইয়ের মতো। প্রতিটি গাছের কাণ্ডেই ছুরি দিয়ে ছাল চেরা। সেই চেরা অংশ দিয়ে বেরিয়ে আসছে সাদা কষ। এটাই রাবারের প্রাথমিক রূপ।
এত ছায়াময় বন যে দাঁড়ালেই প্রশান্তির একটা ছোঁয়া পাওয়া যায়। আর নানা রকম পাখির ডাক—ঘুঘু, ফিঙে, দোয়েল নানা পাখির দেখাও মেলে। কিছুক্ষণ দাঁড়ানোর পর দেখা গেল রাবারের কষ সংগ্রাহক স্থানীয় মানুষদের। স্থানীয় নারী-পুরুষেরা গাছ থেকে সংগ্রহ করেন এই কষ। গাছের কাণ্ডে টিনের একটা চোঙার মতো জিনিস লাগানো থাকে। সেটা বেয়ে সাদা কষ পড়ে গাছের নিচে থাকা টিনের পাত্রে। কমলাপুর বাগানেই রাবার প্রক্রিয়াকরণের জায়গা। সেখানে এই কষ প্রতি লিটার ৩৫ টাকায় কেনা হয় দিনমজুরদের কাছ থেকে। আমাদের সামনেই বেশ কয়েকজন সাইকেলের দুই দিকে রাবার কষভরা পাত্র নিয়ে বন বিভাগের রস প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় গেলেন। কয়েকজন নারী গেলেন মাথায় দুই হাতে কষভরা টিনের পাত্র নিয়ে।
আমরাও গেলাম গাছের রসের রাবার হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া চাক্ষুস দেখতে। বেশ বড় একটা ইস্পাতের পাত্রে রাবারগাছের কষ ঢালা হয়। সেটি রাসায়নিক দ্রব্য সহযোগে জ্বাল হতে থাকে। জ্বাল হতে হতে বেশ ঘন হয়ে যায়, জানালেন বন বিভাগের কর্মীরা। এরপর সেই ঘন রস ঢালা হয় অ্যালুমিনিয়ামের অনেক প্লেট থাকা আরেকটি পাত্রে। এতে ঘন রস আয়তাকার টুকরায় রূপান্তরিত হয়। তৈরি হলো রাবার শিট। এরপর একটা ঘরে রাবারের টুকরোগুলোকে শুকানো হয়, বড় এক চুলার পরোক্ষ আঁচে। তারপর কাপড় শুকানোর মতো করে বাইরে সার দিয়ে রোদে শুকানো হয়। জানা গেল, এই রাবার শিটগুলো এরপর চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্লাস্টিক বা রাবার পণ্যের কারখানায়। যান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে আবার রাবার বাগানের গাঢ় সুবজ প্রকৃতি দিয়ে ফিরে আসা।
মধুপুরের এই কমলাপুর রাবার বাগান গড়ে উঠেছে ৩০০ একর জমিতে। স্থানীয় লোকজন জানালেন, এই মধুপুরেই আছে আরও বড় একটি রাবার বাগান। সেই পীরগাছা রাবার বাগান গড়ে উঠেছে হাজার-বারো শ একর জমির ওপর।
যাঁরা ময়মনসিংহ-মধুপুর সড়কপথে যান, চলতি পথে হুট করে কমলাপুর রাবার বাগান দেখতে যেতে পারেন। মধুপুর থেকে গেলে বনের শেষে, আর ময়মনসিংহ গেলে বন শুরুর আগেই পাওয়া যাবে এই বাগানের রাস্তা। অল্প সময় হাতে থাকলেই হলো। আর সময় হাতে থাকলে মধুপুর বনে ঘোরা যাবে, পীরগাছা রাবার বাগানও দেখা যাবে। মুক্তাগাছায় যাত্রা বিরতি দিয়ে মুক্তাগাছার রাজবাড়ী দেখা আর বিখ্যাত মণ্ডা খাওয়া যাবে।
পল্লব মোহাইমেন | তারিখ: ২১-১২-২০১০
Source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-05-30/news/117228

সম্ভাবনা সত্ত্বেও অবহেলিত কাঁঠাল


লেখক: আশরাফুল ইসলাম | শনি, ৯ এপ্রিল ২০১১, ২৬ চৈত্র ১৪১৭
জাতীয় ফলের মর্যাদা ছাড়া সব ক্ষেত্রেই অবহেলিত কাঁঠাল। অপ্রধান অনেক খাদ্যশস্য ও ফলের উন্নয়ন নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ নানামুখি পদক্ষেপ নিলেও কাঁঠালের সার্বিক উন্নয়নে তেমন কোনো প্রচেষ্টা নেই। উজ্জ্বল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা, বিদেশে রফতানির মাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করার মত সুযোগসহ ফলটির বহুমাত্রিক গুরুত্ব থাকলেও এখনো তা অর্জন করতে পারেনি দেশের কৃষি নীতিনির্ধারকদের শুভদৃষ্টি। কাঁঠাল নিয়ে দেশে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা ইনিস্টিটিউট, সংরক্ষণের জন্য হিমাগার, চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকল্পে সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থা, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত কাঁঠাল নির্ভর শিশু ও মুখরোচক খাদ্য, গাছ ও ফলে নানা রোগবালাইর আক্রমণ মোকাবিলায় চাষিদের অপর্যাপ্ত জ্ঞান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্ভাবনীসমূহ যথাযথভাবে সম্প্রসারিত না হওয়ায় নানা সমস্যা অন্তরায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গবেষকরা কাঁঠাল দিয়ে স্বাস্থ্যকর জেম, জেলি, আচার, কেনডি ইত্যাদি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তারপরও উদ্যোক্তার অভাবে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার পর্যায়ে আসেনি। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার আদিম ফল কাঁঠাল। মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিনস ও থাইল্যান্ডে প্রচুর কাঁঠাল উত্পাদন হয়। তবে বাংলাদেশেই ফলটি জাতীয় ফলের মর্যাদা লাভ করেছে। ফলের মাঝে কাঁঠাল আয়তনের দিক থেকে তৃতীয় ও উত্পাদনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের উঁচু জেলাগুলোতে মূলত কাঁঠাল অধিক ফলে। এর মধ্যে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেটের মৌলভীবাজার, দিনাজপুর, রংপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা এবং পাবনা জেলা অন্যতম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান দপ্তরের ২০০৮ সালের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেশে কাঁঠাল আবাদ হয় প্রায় ৯ হাজার ৯শ’ ৬৮ হেক্টর জমিতে এবং বার্ষিক উত্পাদন ৯ লাখ ২৫ হাজার ৯শ’ ৬৫ মেট্রিক টন। অপরদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের খাদ্যশস্য উইং এর অতিরিক্ত পরিচালক (উন্নয়ন) ড. মোঃ আনিসউদ্দিন জানান, ‘কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যানমতে, দেশে প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর কাঁঠাল আবাদ হয়, তাতে উত্পাদন ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন এবং হেক্টরপ্রতি ফলন ১০ মেট্রিক টন’। কাঁঠালের জন্য তেমন কোনো সুসংবাদ না থাকার কথা বলে ড. আনিস আরো জানান, ‘কাঁঠালের জন্য কৃষি বিভাগের স্বতন্ত্র কোনো প্রকল্প বা কর্মসূচি নেই। বর্তমানে আমরা ১৭০টি ফসল নিয়ে কাজ করছি। বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়ার সময় কোথায়! তারপরও চাষিরা কোনো সমস্যার কথা জানালে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা তা সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেন।’ স্বতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি থাকলেও জাতীয় ফল কাঁঠাল নিয়ে বসে নেই বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউট এবং বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। কৃষি বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে ইতোমধ্যে উদ্ভাবন করেছেন কাঁঠালের উন্নয়নের বেশ কিছু প্রযুক্তি ও উন্নত জাত। কেবল তা সম্প্রসারণের ব্যাপকভিত্তিক সরকারি উদ্যোগের স্বল্পতাই বাধাগ্রস্ত করছে এসব প্রয়াসকে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান কাঁঠাল নিয়ে চালানো তার পৃথক ৩টি গবেষণার নানাদিক তুলে ধরে জানান, ‘কাঁঠালের রোগবালাই ঠেকানো, বিভিন্ন বৈরী আবহাওয়া সহিষ্ণু ও অধিক ফলনশীল জাত উদ্ভাবনের গ্রাফটিং, উন্নত জাতের জার্ম সংগ্রহ করে বিভিন্ন সমগোত্রীয় গাছে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সম্প্রসারণ, পলিথিন মুড়িয়ে কাঁঠালকে সুন্দর আকৃতি ও ফলন বাড়ানোর মত পরীক্ষা চালিয়ে তা সাফল্য অর্জিত হয়েছে।’ উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আব্দুর রহমানকে প্রধান অনুসন্ধানকারী করে সমন্বিত কাঁঠাল উন্নয়ন প্রকল্প নামে একটি কাজ করছে কাঁঠালের উন্নয়নে। প্রকল্পের প্রধান ড. রহমান জানান, বর্তমানে খাগড়াছড়ির রামগড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, নরসিংদীর শিবপুর, টাঙ্গাইলের মধুপুর ও গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বৈরাগীরচালা গ্রামে এবং কাপাসিয়ার নারায়ণপুর এলাকায় এ প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। ফল গাছের মধ্যে কাঁঠাল রোপণের অনেক সময় পরে ফল ধরে। তাই এ সংক্রান্ত গবেষণায় সাফল্য অর্জন করতে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। এ বাস্তবতায় উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরাও দু’একজন ছাড়া তেমন কেউ আগ্রহী হন না এ নিয়ে কাজ করতে। এমন সত্যটি জানিয়ে কাঁঠাল গবেষণার নানাদিক তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোঃ মোফাজ্জল হোসাইন। তিনি জানান, ‘আমের জন্য একটি স্বতন্ত্র গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে, যা এর উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। একই রকম কাঁঠালের ক্ষেত্রেও নানা গবেষণা ও সম্প্রসারণ কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য একটা ইনিস্টিটিউট থাকা জরুরি। থাইল্যান্ডে কাঁঠালের সমগোত্রীয় ফল রামভুটান-ডুরিয়ান আমেরিকায় রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে অথচ আমাদের দেশে কাঁঠাল নিয়ে কেউ কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করছে না।’ কাঁঠাল গবেষণা কেন্দ্র না হলেও একটি স্বতন্ত্র উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা ইনিস্টিটিউট, সকল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে হর্টিকালচার ফ্যাকাল্টি, কৃষি সম্প্রসারণের পৃথক মাঠ পর্যায়ে কাজ করার মত পূর্ণাঙ্গ হর্টিকালচার বিভাগসহ জাতীয় ফলের উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি-বেসরকারি বেশ কয়েকটি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাঁঠাল নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে উল্লেখযোগ্য গবেষণা হলেও রাষ্ট্রীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণজনিত ব্যর্থতায় সব প্রয়াসই ভেস্তে যাচ্ছে। উন্নত জাত সম্প্রসারণ বা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের আশানুরূপ পরিসেবা কার্যক্রম জোরদার না থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে রাইজোপাস প্রজাতির ছত্রাক আক্রমণে মুচি পচারোগ ও ফমপছিস প্রজাতির ছত্রাক আক্রান্ত কাণ্ডের রস ঝরা রোগ ছড়িয়েছে ব্যাপকভাবে। এর প্রভাবে কাঁঠালের ফলন ও বংশ বিস্তার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আলু বা দেশে উত্পাদিত শস্য ও ফলের মত কাঁঠালের বাজারজাত ব্যবস্থাও উন্নত নয়। এখানেও পাইকারদের কারসাজি ও হিমাগার সংকটে প্রক্রিয়াজাত না করতে পারায় চাষিরা পাচ্ছেন না ন্যায্যমূল্য, বাগানেই নষ্ঠ হচ্ছে প্রচুর কাঁঠাল। এসব সমস্যার মুখোমুখি হয়ে অনেক কাঁঠাল চাষি হারাচ্ছেন আবাদের আগ্রহ। কাঁঠালের রাজধানীখ্যাত গাজীপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতে উত্পাদিত কাঁঠাল এক সময় নৌপথে ভাটি অঞ্চলে যেত। বিশেষ করে গাজীপুরের শ্রীপুর, কালিয়াকৈর কাপাসিয়া, ময়নসিংহের ভালুকা, টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চলের কাঁঠাল এত বেশি ফলত যে ভাটি অঞ্চলের শত শত মানুষ জীবিকার অন্বেষণে এসব এলাকায় মাটির হাঁড়িপাতিল, মিষ্টিআলু, কুমড়া ইত্যাদি বিনিময়ে কাঁঠাল কিনে নৌকো বোঝাই করে বিক্রি করত নিজ এলাকায়। অধিক কাঁঠাল উত্পাদনশীল এই এলাকার (ভাওয়াল-মধুপুর) মানুষ অপেক্ষায় থাকত এ ফল বিক্রির মাধ্যমে বছরে একবার অন্তত মোটা অংকের অর্থ উপার্জনের। ধানের পর এটি এখানকার অধিবাসীদের মূল ফসল হিসেবে বিবেচ্য হত। এই এলাগুলোতে এখন আশঙ্কাজনক হারে নেমে গেছে কাঁঠালের ফলন। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে, গাজীপুর জেলায় বর্তমান কাঁঠালের আবাদ হচ্ছে মাত্র ১০ হাজার ৯শ’ ২৫ হেক্টর, ফলন হেক্টরপ্রতি ১৭.২৪ মেট্রিক টন। উত্পাদনের এমন আশঙ্কাজনক ক্রমাবনতি মোটেও সুখকর নয় স্থানীয় কাঁঠাল চাষিদের কাছে। সম্প্রতি এ অঞ্চলের বৃহত্ কাঁঠাল বাজার জৈনাবাজারে এসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে ও সরকারের কাছে জাতীয় ফলকে বাঁচাতে একাধিক দাবি জানিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধনও করে কাঁঠাল চাষিরা। মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কাঁঠাল চাষি শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের মোঃ আব্দুল কাদির জানান, ‘এ অঞ্চলের অন্যতম ফসল কাঁঠাল- যা আমাদের বার্ষিক মোটা অর্থ আয়ের একটি উত্সও। কিন্তু কাঁঠাল সংরক্ষণের কোনো হিমাগার না থাকায় অনেক পচে নষ্ট হয়। পাইকারদের কাছে কম দামে বেচতে হয়। এখন গাছে লালচে পানি ঝরা রোগে বহু গাছ আক্রান্ত হচ্ছে। চাষিদের রোগবালাই দমনের কোনো জ্ঞান না থাকায় মারা যাচ্ছে অনেক গাছ।’ তিনি কাঁঠালের জন্য একটি গবেষণা কেন্দ্র এবং তা গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
Source http://new.ittefaq.com.bd/news/view/7016/2011-05-10/29

http://www.blogger.com/img/blank.gif


ধনবাড়ি উপজেলায় সাবরেজিস্ট্রার অফিস উদ্বোধন

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা রবিবার জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের উদ্বোধন করা হয়। ৫ বছর পূর্বে মধুপুর উপজেলাকে বিভক্ত করে ধনবাড়ি উপজেলা গঠন করা হলেও ধনবাড়িবাসি কে ১২ কিলো দূরে মধুপুর উপজেলা সদরে গিয়ে জমি কেনাবেচাসহ ভূমির যাবতীয় কাজ সারতে হতো। এতে ধনবাড়ি উপজেলাবাসিরা মধুপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের এক শ্রেণীর কর্মচারী এবং দলিললেখকের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। এনিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে একাধিকবার খবর প্রকাশিত হয়। শনিবার এ অফিস উদ্বোধন করেন ধনবাড়ী পৌরসভার মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন। পরে সাবরেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, অধ্যাপক মীর ফারুক আহমেদ ফরিদ, রফিকুল ইসলাম জামালী, প্রেসক্লাব সভাপতি স ম জাহাঙ্গীর আলম, দলিললেখক তালেব আলী, আব্দুস সালাম প্রমুখ।

বুধ, ৩০ মার্চ ২০১১, ১৬ চৈত্র ১৪১৭
Source http://new.ittefaq.com.bd/news/view/4599/2011-05-06/45

মুখপোড়া হনুমানের খোঁজে কিভাবে যাবেন


ঢাকার মহাখালী থেকে মধুপুরের বাস সার্ভিস আছে। মধুপুর সদর থেকে ১০ কিলোমিটার গেলে রসুলপুর এলাকায় গভীর বন পাওয়া যায়।

বর্ষা এলে বনটি নতুন চেহারা পায়, বুড়ো গাছগুলোও কচিপাতায় খুকিটি সাজে। বনজুড়ে ছড়িয়ে থাকে মায়া। ডালে ডালে পাখিরা গান গায় আর মধুর খোঁজে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় প্রজাপ্রতি। এই প্রজাপতির টানেই আমার প্রথম মধুপুর বনে যাওয়া। সে যাত্রায় ২০ জাতের প্রজাপতি দেখার সুযোগ হয়েছিল। সেই স্মৃতি বারবার তাগাদা দেয়_'চল যাই'। কদিন আগে বন্ধু কামাল এসে বলে মধুপুর বনে যেতে হবে। বিশ্বখ্যাত প্রাইমেট বিশেষজ্ঞ ড. রানডেল কাইস আমাদের সঙ্গী হবেন। খবর গেল আরো কয়েক বন্ধুর কাছে। দেরি করার উপায় নেই। তাই এই শুক্রবারই সই। সাতসকালে।
আটজন চাপাচাপি করে বসেছি মাইক্রোবাসে। যাচ্ছি আর কাইসকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করছি। কত কিছু যে জানতে চাই! রাজেন্দ্রপুরে বিরতি। কারণ, বন্ধু সি এম রেজা এখানে দেশি সামুচা পাখির সন্ধান পেয়েছে। আমরাও তার দর্শন চাই। পাখিটি বাচ্চা ফোটাতে এ দেশে আসে। গ্রীষ্মের পরিযায়ী। বর্ষা শেষ হলেই চলে যায়। অতিথি হলেও এর জন্ম কিন্তু আমাদের দেশেই। বাঁশঝাড়ে কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করলাম। কিন্তু দেখা পেলাম না।
মধুপুর বন বিভাগের রসুলপুর রেঞ্জ অফিসের সামনে আমাদের মাইক্রোবাসটি থামল ঠিক ১০টায়। পাশেই ছোট্ট একটি বাজার। চায়ের ডাক শুনি। আসাদ আলীর চায়ের দোকানে দু-চারজন আড্ডা মারছিল। আমরা বসতেই এক বুড়ো এসে জুড়লেন। ভেবেছিলেন আমরা পাখি শিকারের জন্য এসেছি। তাই তাঁর এত আগ্রহ।
আকবর নামের এ মানুষটি আগ বাড়িয়েই অনেক কথা বললেন। বনে ঢোকার আগেই অনেক মজার তথ্য জানলাম তাঁর কাছ থেকে। মধুপুর বনে একসময় নিয়মিত শিকার হতো। বনমোরগ ছিল প্রথম টার্গেট, ময়ূর-হরিণও রেহাই পেত না। বাংলাদেশে বাংলা ময়ূয়ের সবচেয়ে ভালো অভয়ারণ্য ছিল এই মধুপুর বন। বাঘ আর কালো ভল্লুকও ছিল। মানুষের অত্যাচারে আজ সবই হারিয়ে গেছে। তবে টিকে আছে খুবই মূল্যবান একটি প্রাণী। নাম তার ক্যাপড লেঙ্গুর, বাংলায় মুখপোড়া হনুমান। সোনালি রঙের এ স্তন্যপায়ী প্রাণীটি এখন মধুপুর বনের মূল আকর্ষণ। স্বাভাবিকভাবেই রানডেল কাইস আমাদের দলনেতা।
বনে ঢোকার আগেই দলনেতা নির্দেশনা দিলেন_চুপচাপ চলতে হবে। লেঙ্গুর দেখার সঙ্গে সঙ্গেই জিপএস দিয়ে রিডিং নিতে হবে। কী কী পাখি দেখলাম তার রেকর্ড তো রাখতেই হবে। কালামের ওপর পথ দেখানোর ভার। সে এখানে দীর্ঘদিন ধরে লেঙ্গুরের ওপর গবেষণা করছে। তাই ভরসা করি সে গভীর বনের ঠিক ট্রেইল ধরে আমাদের নিয়ে যেতে পারবে।
রোদের তেজটা বাড়তে থাকল। বনের ভেতর দিয়ে একটা পাকা রাস্তা চলে গেছে মুক্তাগাছার দিকে। এ পথেই মাঝেমধ্যে ছুটে চলে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও জামালপুরের গাড়িগুলো। একদল বানরকে রাস্তা পার হতে দেখলাম। এই পথের ড্রাইভারগুলোও বেশ সজাগ। বন্য প্রাণীগুলোর প্রতি তাদের ভালোবাসা আছে।
ক্রমে ঢুকে পড়ছি বনের গভীরে। নিঃশব্দে চলছি। কামাল মাঝেমধ্যে বলছে, আর ঢোকা ঠিক হবে না। বনের এ দিকটা ভয়ংকর। বন্য প্রাণীর নয়, ডাকাতের ভয়। আমরা তার কথায় কান দিলাম না।
ঘণ্টাখানেক চলার পর প্রথম ক্যাপড লেঙ্গুরের ডাক কানে এল। বাসস্থান কিংবা খাবারের জায়গা রক্ষার জন্য এদের এই হাঁকডাক। এদের সমাজ-সংসারেও আছে হরেক রকমের কায়দা-কানুন। সাধারণত এরা দলবেঁধে থাকে। একটি দল নির্দিষ্ট টেরিটরি রক্ষা করে চলে। এদের সীমানায় অন্য কোনো দল খাবারের খোঁজে এলে শুরু হয় মারামারি। কিছুক্ষণ পর পর ডাকাডাকি করে এরা অবস্থান জানান দেয়। তাই বনের ভেতর এদের খুঁজে পেতে বেশি কষ্ট হয় না।
লেঙ্গুরের ডাক শুনে সেদিকে গেলাম। বুনো আমড়াগাছের নিশানা পেয়ে গেলাম। বুঝতে কষ্ট হলো না ওরা এখানেই কোথাও আছে। কারণ, বুনো আমড়া ওদের প্রিয় খাবার।
কিছুক্ষণ পরই মি. কাইস ইশারা দিলেন। যে যার মতো দাঁড়িয়ে পড়লাম। লেঙ্গুর পাওয়া গেছে। আমাদের দেখে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ওদের এক ডাল থেকে অন্য ডালে লাফিয়ে চলা বেশ দেখার মতো ব্যাপার। আমরা আট-দশটি লেঙ্গুরের লাফিয়ে যাওয়া দেখলাম। আরো একটি দৃশ্য আমাদের প্রায় পাগল করে দিল। দুটি বাচ্চা ডাল বেয়ে পার হতে পারছিল না। মা-বাবা এক অদ্ভুত কায়দায় নিচু করে ধরল একটি ডাল। আর বাচ্চা দুটি লাফ দিয়ে পার হয়ে গেল। আশপাশে আরো কয়েকটি দলের দেখা পেলাম।
দুপুরের কিছু পরে চলতে থাকলাম বানার নদী ধরে। সবুজের ভেতর সরু একফালি নদী। গারো জনগোষ্ঠীর কয়েকজনকে দেখলাম শুকনো ডালপালা মাথায় করে বাড়ি ফিরছে। খুব দ্রুতই লহরিয়া বিট অফিসের কাছাকাছি পেঁৗছি। তখন সূর্য ডুব দিতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সন্ধান পেয়েছি বেশ কয়েক জাতের মূল্যবান পাখির। লাল বুক টিয়ার বাসা পেয়ে আমাদের আনন্দ আর ধরে না। ঢাকার কাছাকাছি একটা বনে এক দিনের সফরে যে এত কিছু দেখা যায়, তা মধুপুর না গেলে বোঝা যাবে না!
- সীমান্ত দীপু
ছবি : সৈয়দ জাকির হোসেন
উত্স: http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=14-06-2010&type=gold&data=Mobile&pub_no=194&cat_id=3&menu_id=48&news_type_id=1&index=10


মধুপুর গড়ে আলুবোখারা ও জামরুলের বাণিজ্যিক আবাদ

মধুপুর উপজেলার গড় এলাকায় অভিজাত মসলা আলুবোখারা এবং রসালো ফল জামরুলের বাণিজ্যিক আবাদ হচ্ছে। এটি করছেন জলছত্র গ্রামের সুমি নার্সারীর মালিক ওমর শরীফ। আলু বোখারা পোলাও, বিরিয়ানী, রোস্ট, সালাদ এবং বোরহানীসহ নানা অভিজাত খাবার তৈরির জন্য অপরিহার্য। এটি সাধারণত ভারত থেকে আমদানি করা হয়। ওমর শরীফ জানান, তিনি ৯ বছর আগে ভারতের দার্জিলিং থেকে কলম চারা এনে বাগানে লাগান। কলম করে ২২ বিঘায় চাষ সম্প্রসারণ করেন। বিঘায় এক দেড়শ গাছ লাগানো যায়। প্রতি গাছে ফলন আসে ৫/৬ মন।

প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৫/৬শ টাকায়। ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেল এর গ্রাহক। বিঘা প্রতি লাভ আসে লক্ষাধিক টাকা। কলম চারা থেকে দু’বছরেই ফল আসে। উচ্চতা ৭/৮ ফিট হওয়ায় ছাদে ও আবাদ করা যায়। বাড়তি সার বা সেচ লাগে না। মাঘ-ফাল্গুনে আসা ফুল বৈশাখে গুটি হয়ে পাঁকে। আলু বোখারা দিয়ে উন্নত মানের আচার, জেম ও জেলি বানানো যায়।

অপর দিকে সারা বছর রসালো ফল জামরুলের আবাদ হয়। বিঘা প্রতি আয় হয় এক দেড় লক্ষা টাকা। লাল টুক টুকে জামরুলের আবাদ ও খুব সহজ। লাভজনক হওয়ায় গড় এলাকার অনেক চাষী ওমর শরীফের বাগান থেকে কলম নিয়ে আলু বোখারা আর জামরুলের আবাদ করছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, এসব অপ্রচলিত পণ্যের চাষাবাদ লাভজনক হওয়ায় উদ্যান ভিত্তিতে এর আবাদ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

উত্স: http://www.ekrishi.com/news/index.php?page_id=3&article_id=52&category_id=15
বীজ ধান উত্পাদনে মধুপুরের এনামুল হক অনন্য মডেল
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
কৃষকদের মধ্যে বেসরকারিভাবে উন্নত বীজ সরবরাহে অনন্য মডেল তৈরি করেছে মধুপুরের কৃষক এনামুল হকের আতিক সিড কোম্পানি। সম্প্রতি কোম্পানির বীজ ধান কাটার মাঠ দিবসে সরকারি কৃষি বিশেষজ্ঞরা এ মন্তব্য করেন। স্বল্প শিক্ষিত, সহজ-সরল কৃষক এনামুল হক। আজ থেকে ২২ বছর আগে বিএডিসির বীজ ডিলারশিপ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ধান বীজ সরবরাহের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। পরে তিনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন নেন ও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ভিত্তি বীজ সংগ্রহ করে নিজে বীজ উত্পাদন করে নিয়মানুযায়ী সংরক্ষণ করে তা অন্য কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করেন। ভালো ফল আসায় আপনা থেকেই চাষীদের মধ্যে তার বীজের প্রতি আগ্রহ ও চাহিদা বাড়তে থাকে। সরকারিভাবে বীজ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান বিএডিসির কন্ট্রাকগ্রোয়ার্সের চুক্তিবদ্ধ আদর্শ চাষী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন এনামুল হক। সেখানেও তিনি ধান বীজ সরবরাহ করে থাকেন। তার এ মানসম্পন্ন ধান বীজ টাঙ্গাইলের গণ্ডি পেরিয়ে রাজশাহী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের চাষীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে তার উত্পাদিত ধান বীজ। মেধা ও সততার সঙ্গে ধান বীজ উত্পাদন ও সরবরাহ করে কৃষক এনামুল হক আজ সফল ব্যক্তি।
উত্স: http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/05/28/33895


মধুপুরের কলার রাজ্য
।।সমকাল।। মুক্তমঞ্চ দীপংকর গৌতম ।। হাবিবুর রহমান
মধুপুর লালমাটি পাহাড়ের পিরোজপুর, চাপাইদ, কাকরাইদ, মমিনপুর, শোলাকুড়ি ও আউশনারাসহ প্রায় ৫০টি গ্রামে কলা আবাদ করে ক্ষুদ্র ও প্রাšিøক কৃষকদের ভাগ্য পাল্কেল্ট গেছে। পুরুষের পাশাপাশি মেয়েরাই অংশ নিচ্ছে কলা আবাদে। আর এ আবাদের সুবাদে কাকরাইদ গ্রামের হারুন, জলছত্র গ্রামের আতিকুল, আয়নাল হক, অরণখোলা গ্রামের আকবর আলী, পিরোজপুর গ্রামের মইনুল হক, আউশমারা গ্রামের রাজিব হাসান, হাবিবুলল্গাহ মরিয়ামসহ ৫০টি গ্রামের সহস্রাধিক কৃষক পরিবারে দারিদ্র্য কমেছে। পরিবারে এসেছে সচ্ছলতার ছোঁয়া। এ এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রাšিøক চাষীর কলা আবাদের সাফল্য দেখে আশপাশের গ্রামগুলোতেও চাষীরা এগিয়ে আসছে কলা আবাদে। সরজমিনে মধুপুর উপজেলার কাকরাইদ সাইনামারি, পিরোজপুর গ্রামে পরিদর্শনে গেলে তাদের কলা আবাদের কাহিনী জানা যায়। এলাকায় পাহাড়ি মাটিতে ধান, পাট, আখ ও আলু তেমন ভালো ফলন হয় না। এসব ফসল আবাদ করে ফসল তুলে আনাই মুশকিল। এ কারণে একসময় জমি থাকা সত্ত্বেও এলাকার প্রাšিøকরা চরমভাবে দারিদ্র্যের শিকার ছিল। অন্যের জমিতে মজুর খেটে, রিকশাভ্যান চালিয়ে কোনোমতে অনাহারে-অর্ধাহারে বহু ক®েদ্ব তাদের জীবন চলত। ৭ বছর আগে কাকরাইদ ও পিরোজপুর গ্রামে দু’চারজন ক্ষুদ্র কৃষক তাদের জমিতে দেশি জাতের কলার সঙ্গে সাগর কলার আবাদ শুরু করেন। এতে তাদের ফলন ভালো হয়। দেখেন লাভের মুখ। কৃষকদের এ সাফল্য দেখে আশপাশের চাপাইদ, কুড়াগাছা, মমিনপুর, পিরগাছা, ভুটিয়া, মাগšিøনগর, সাইনমারি, বেরিবাইদ, টেলকি, জটবাড়ি, জলছত্র, গাছাবাড়ি, আমলিতলা, মোলাকুড়ি, কাকরাইদসহ বিভিল্পু গ্রামের কৃষকরা ও প্রাšিøক মহিলারা আশা কাকরাইদ, পিরোজপুর মধুপুর-১, মধুপুর-২, মোটেরবাজার ব্রাঞ্চের ম্যানেজার খালেক, জুলহাস উদ্দিন, জিনাত রেহেনা, আকতারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সদস্য হওয়ার জন্য। অন্যান্য ফসল আবাদ করার চেয়ে কলা আবাদে একটু বেশি পুঁজি লাগে। তাই তারা ঋণ তোলে কলা আবাদের দিকে মনোযোগ দেন। এভাবে দিন দিন বাড়তে থাকে কলা আবাদ। এখানে বর্ষা ও শীত দুই মৌসুমেই সহজে কলা আবাদ করা যায়। এ এলাকায় এখন হাজার হাজার একর জমিতে কলার আবাদ। গুণে ও মানে এসব কলা উৎকৃ®দ্ব, ত্রেক্রতারও কোনো অভাব নেই। এ এলাকায় বেসরকারি উল্পুয়ন সংস্ট’া আশার সদস্যরা জানান, কলা আবাদ করে গত ৭ বছরে এলাকার প্রায় সহস্রাধিক হতদরিদ্র ও প্রাšিøক কৃষকের জীবনে সচ্ছলতা এসেছে। তাদের মতে, কলা আবাদ এলাকার আর্থসামাজিক অবস্ট’ারও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এ পরিবর্তন দেখে আশপাশের পাহাড়িয়া উর্বর ভূমির গ্রাম মাগšিøনগর, রাজাবাড়ি, ইদিলপুর, হলুদিয়া, কাউচির বাজার, ভবানিটেকিসহ বিভিল্পু গ্রামেও ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে কলার আবাদ। তারা জানান, খ- খ- জমিতে খুবই অল্কপ্প খরচে কলা চাষ করা যায়। উৎপাদিত কলার চাহিদাও ভালো। বাজারমহৃল্যের কারণে কৃষকের বেশি লাভ হয়। এজন্যই এলাকায় কলা আবাদ বাড়ছে। কথা হয় আশার সহৃর্যমুখী সমিতির হারুনের সঙ্গে। তার বাড়ি আকালিয়া। তার স্টúী হাসনা হেনা প্রথমে আশা থেকে ৪ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ১৫ শতাংশ জমিতে কলা আবাদ করেন। তাতে তার ভালো লাভ হয়। সে লাভের টাকায় ঋণ পরিশোধ করতে ও নিজের খরচ তুলতে কোনো অসুবিধা হয়নি। পরের বছর ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তার প্রতিবেশী শাজাহানের কাছ থেকে আরো ১৫ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে মোট ৩০ শতাংশ জমিতে কলা চাষ করেন। কার্তিক মাসে জমি চাষ করে নিজের মাথা খাটিয়ে গোবর-সার ও রাসায়নিক সার মিশিয়ে জমি তৈরি করেন। জমিতে লাগান ৩০০ কলার চারা। তাতে ওই জমি থেকে কলা বিত্রিক্র করে তার খরচ বাদে লাভ হয় ৮ হাজার টাকা। তৃতীয়বার তিনি ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে আরো ২০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে মোট ৫০ শতাংশ জমিতে কলা চাষ করেন। তাতে আরো লাভ হয় ২০ হাজার টাকা। চতুর্থবার তিনি ১৪ হাজার টাকা ঋণ তোলেন। এ টাকা দিয়ে তিনি লাভের টাকার সঙ্গে যোগ করে নতুন করে নিজের নামে জমি কেনেন। পরে শুরু করেন পুরোদমে কলা আবাদ। হাসনা হেনা জানান, এ বছর শীতকালে তার ৮০ শতাংশ জমিতে ৮০০ কলার ছড়ি বিত্রিক্র করতে পারবেন। কলা চাষ করে হাসনার স্ট^ামী হারুন এখন স্ট^াবলল্ফ^ী। তিনি জানান, কলার আবাদ তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এক সময়ের দিনমজুর অভাবী হাসনা হেনার বাড়িতে এখন টিনের ঘর। ছেলেমেয়েরা স্ট‹ুলে পড়ে। সংসারে অভাব নেই। কথা হয় নাজমা বেগমের সঙ্গে। তার প্রতিবেশীর সঙ্গে পরামর্শ করে সমিতিতে ভর্তি হন। তিনি জানান, তার ঋণ পেতে অন্যদের মতো দেরি হয়নি। প্রথমে তিনি ৪ হাজার টাকা ঋণ নেন। এই টাকা দিয়ে নিজের জমিতে রোপণ করেন ৩০০ কলার চারা। ভালোভাবে সার-সেচ দিয়ে যÍু করেন। ৩০০ ছড়ি কলা ২০ হাজার টাকা বিত্রিক্র করেন। ভ্যান চালিয়ে নিজের জমিতে ফসল করে কিস্টিø পরিশোধ করেন। আর কলা বিত্রিক্রর টাকা সল্ফ^লের জন্য রেখে দিয়েছেন। পরেরবার ৫ হাজার টাকা ঋণ ও নিজের জমানো ৫ হাজার টাকা একত্র করে ৩০ শতাংশ জমিতে কলা চাষ করেন। নাজমা বেগমের স্ট^ামী মফিজ উদ্দিন জানান, বাবার রেখে যাওয়া ২০ শতাংশ জমিই তার সল্ফ^ল। কলা আবাদই তার সব অভাব দহৃর করেছে। পাইকাররা এসে বাড়ি থেকে কলা কিনে নিয়ে যান। কোনো ঝামেলা নেই। কথা হয় পীরগাছা গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে। তিনি জানান, কলা আবাদ করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। গ্রাম্য মহাজনদের কাছ থেকে টাকা নিলে সুদ বেশি। ঝামেলাও অনেক। ব্যাংকগুলোতে কাগজপত্রের ঝুটঝামেলা ঘোরাঘুরি। ২০০৭ সালে তিনি কলা আবাদের জন্য অ্যাগ্রিলোন হিসেবে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। ৫০ হাজার টাকার সঙ্গে তার আরো নিজের পুঁজি দিয়ে কলার আবাদকে বেগবান করেন। ওই বছর তিনি ৮ বিঘা জমিতে ২ হাজার ৪০০ কলার চারা রোপণ করেন। সংসারের বাড়তি ফসল বিত্রিক্র করে কিস্টিø পরিশোধ করেন। এভাবে মাসিক কিস্টিøতে ১২ মাসে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তার লেনদেন দেখে কর্তৃপক্ষ খুশি হয়ে আবার অ্যাগ্রিলোনের আওতায় ৭০ হাজার টাকা ঋণ দেন। এই ৭০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি আরো ৪ বিঘা জমি বেশি করে কলা চাষের আওতায় আনেন। এমনিতে তিনি এ লোন নিয়ে আরেকটু আরামে চাষ করতে শুরু করেন। এতে কলা আবাদের প্রতি তার মনোযোগ ™ি^গুণ বৃ™িব্দ পায়। ১২ বিঘা জমিতে করেন কলার আবাদ। ভালোভাবে যÍু নেন, বাগানের ফলনও হয় ভালো। ওই এলাকায় এভাবে অনেকেই খুঁজে পেয়েছেন আͧকর্মসংস্ট’ানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার পথ।
উত্স: http://krishikhabor.blogspot.com/2008/09/blog-post_352.html

মধুপুরের লাভজনক রাবার চাষ


ঐতিহাসিক মধুপুর গড়ের সমতল লাল মাটির বুকে সমআকারে সারি সারি রাবার গাছের তৈরি বাগান অপরূপভাবে সাজানো সুন্দর এক প্রকৃতি। পরিকল্পিতভাবে নিপুণ শিল্পীর তৈরি নয়নাভিরাম সুন্দর এ প্রকৃতি দূর থেকে দারূণভাবে আকৃষ্ট করে কাছে যাওয়ার। আর কাছে গেলেই অনুভূত হয় স্বর্গীয় অনুভূতি। সরল সমআকারে সারি সারি গাছের পাতা দোল খাচ্ছে প্রকৃতিতে। ঘন গাঢ় সবুজ পাতার শীতল ছায়ায় মনপ্রাণ জুড়িয়ে যায়। আরও মুগ্ধ হতে হয় বাগান ও কারখানায় আধুনিকতার সঙ্গে টেপার ও শ্রমিকদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কাজের দৃশ্য দেখে। মনে হয় এ যেন সমবায় বা সমাজতান্ত্রিক খামারের প্রতিচ্ছবি। স্বচ্ছ-সুন্দর অন্যরকম এ প্রকৃতির স্বাদ বাস্তবে উপভোগ না করলে বোঝার উপায় নেই এ কি অপরূপ সৃষ্টি। বাগানের সুন্দর এ দৃশ্য স্বচ্ছ পরিবেশের কারণে বনভোজকারীরা এখন বাগান চত্বরে ভিড় জমাচ্ছে। আর সারিবদ্ধ সরল গাছের কাণ্ড থেকে যা আহরিত হচ্ছে তা জাতীয় অর্থনীতির ভাণ্ডার, যা দেশসমৃদ্ধ হওয়ার মোক্ষম শিল্প। সরল কাণ্ড থেকে আহরিত ‘কষ’ নামের তরল পদার্থটি ইংরেজি চার অক্ষরের রাবার নাম ধারণ করে প্রযুক্তির হাতে পড়ে কঠিন বস্তুতে রূপ নিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির স্পর্শে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার উপযোগী নানা পণ্যে রূপান্তর হচ্ছে এবং আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতিতে রাখছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। জীবন-জীবিকা নির্বাহের সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকে করছে স্বাবলম্বী, রাখছে গতিশীল। বাংলাদেশে রাবার উত্পাদন অন্যতম লাভজনক শিল্প। সরকারের অধিকাংশ শিল্পে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে জাতীয় অর্থনীতির লাভের মুখ উজ্জ্বল রাখছে রাবার উত্পাদন। আর এক্ষেত্রে প্রধান অবদান রাখছে মধুপুর রাবার জোন এবং দেশসেরা লাভজনক জোন এটি। প্রতিদিন এখানে ১২ লাখ টাকার রাবার উত্পাদন হচ্ছে। গত জুন থেকে ডিসেম্বর—৬ মাসে লাভ হয়েছে ৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। গুণে ও মানে এর কদর বাড়ছে দেশ-বিদেশে। দেশের রাবারের চাহিদা পূরণের সঙ্গে মধুপুর জোনের রাবার ভারত, পাকিস্তান ও জার্মানিতে রফতানি হচ্ছে। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিচিত্র সুন্দর প্রকৃতি ব্রাজিলের আমাজান জঙ্গলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো রাবার গাছ বিশেষজ্ঞদের হাতের ছোঁয়ায় প্রযুক্তির বাহনে দীর্ঘ সময় ও পথ পরিক্রমায় আজ বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে চাষের রূপ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি ইদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে রাবার চাষ হচ্ছে এবং মধুপুর গড়ের লাল মাটিতে সরকারিভাবে এর চাষ জাতীয় সেরা লাভজনক উত্পাদন হয়ে জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধে রাখছে উল্লেখযোগ্য অবদান। দেশসেরা লাভজনক জোনের সঙ্গে দেশসেরা বাগানও এখানে। নিম্নে বিশ্বে ও বাংলাদেশে রাবার চাষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, ব্যবহার ও দেশসেরা মধুপুর জোনের সফল কার্যক্রমের সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো।
বাংলাদেশে রাবার চাষ : দেশে রাবার চাষের প্রাপ্ত তথ্যাবলী থেকে জানা যায়, ১৯১০ সালে কলকাতা বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে কিছু চারা এনে চট্টগ্রামের বারমাসিয়া ও সিলেটের আমু চা বাগানে রোপণ করা হয়। তারপর বহু বছর এ বিষয়ে কোনো গুরুত্বারোপ করা হয়নি। রাবার রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব সিলোনের (আরআরআইসি) জার্নালের তথ্যমতে, পাকিস্তানের তত্কালীন ট্রেড কমিশনের অনুরোধে ১৯৫২ আরআরআইসি কর্তৃক পাকিস্তানে পরীক্ষামূলক চাষের জন্য রাবার বীজ ও বাড্ডে চারা প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে পাকিস্তানের কৃষি পরিচালক ড. আসলাম জাফর এ ব্যাপারে আরআরআইসি পরিদর্শন করেন। এর ধারাবাহিকতায় বনবিভাগ কর্তৃক ১৯৫৪ সালে টাঙ্গাইলের মধুপুরে, চট্টগ্রামের হাজেরীখিল ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে কিছু রাবার চারা রোপণ করা হয়। এভাবেই আমাদের দেশে রাবার চাষের গোড়াপত্তন ঘটে। পরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ১৯৫৯ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ঋঅঙ) বিশেষজ্ঞ মি. উইলিয়াস লয়েডকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি তার সমীক্ষায় এ দেশের জলবায়ু ও পাহাড়ি এলাকার মাটি বাণিজ্যিকভাবে রাবার চাষের উপযোগীর সুপারিশ করেন। এ সুপারিশের ভিত্তিতে বনবিভাগ ১৯৬০ সালে চট্টগ্রামের রাউজানে ১০ একর এবং কক্সবাজারের রামুতে ৩০ একর মোট ৪০ একর বাগান সৃজনের মাথ্যমে পরিকল্পিতভাবে এ দেশের রাবার চাষের যাত্রা শুরু হয়। এটা ছিল ৭১০ একর এলাকায় রাবার চাষের একটি পাইলট প্রজেক্টের অংশবিশেষ। পরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ সমপ্রসারণের লক্ষ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তা লাভের পর বাংলাদেশের রাবার চাষের নবদিগন্ত সূচিত হয়। সরকারও গুরুত্বারোপ করে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় ১৯৮০-৮১ থেকে ’৮৬-৮৭ সাল পর্যন্ত ৫৪.৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ৭টি, সিলেটে ৪টি মোট ১১টি বাগানে ২৫ হাজার একর জমি রাবার চাষের আওতায় আনা হয়। এছাড়া সরকারের আর্থিক সহায়তায় ১৯৮৬-৮৭ থেকে ’৯৬-৯৭ পর্যন্ত টাঙ্গাইল শেরপুর অঞ্চলে (মধুপুর জোন) বিএফআইডিসির অধীনে ১৮.৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি বাগান ৭.৯৩৫ একর জমিতে সফলভাবে রাবার চাষ সম্পন্ন করা হয় এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা চিন্তা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কোম্পানি ও ব্যক্তিমালিকানার রাবার চাষ উত্সাহ ও সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাবার চাষের গুরুত্ব ও ব্যবহার : বর্তমান সভ্যতা অনেকটা রাবারের ওপর নির্ভরশীল। তাই আধুনিক এ সভ্যতার অগ্রগতিতে যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাবারের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের পায়ের জুতা, হাতের ঘড়ি থেকে শুরু করে যানবাহনের টায়ার, টিউব, ফোম, পেডেল, রাবার মেডস, জন্মনিরোধক কনডম ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার সামগ্রী, কারখানার খুচরা যন্ত্রণাংশ, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, শৈলাবিদদের ব্যবহার্য সামগ্রীসহ হাজারো রকমের দ্রব্যাদি এ কাঁচা রাবার থেকে উত্পন্ন হয়। রাবার গাছের কাঠ দ্বারা আাাসবাবপত্র, দিয়াশালাই বাক্স তৈরি হয়। কাঠ, বীজের খোসা, পাতা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বীজ থেকে তেল উত্পন্ন হয়। অর্থাত্ কর্মদিবসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ব্যবহারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাবারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে কাঁচা রাবার ও রাবারজাত দ্রব্য উত্পাদনের মাধ্যমে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে দেশে রাবার চাষের গুরুত্ব তুলনাহীন। রাবার চাষের মাধ্যমে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়/অর্জন সম্ভব, অন্যদিকে শ্রমনির্ভর এ কৃষি শিল্পে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের ফলে দেশের বেকারত্ব লাঘব হবে। ১৯৮৯ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক কর্তৃক এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০১৫ সালে দেশে কাঁচা রাবারের চাহিদা ৩৮ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। তা মেটানোর জন্য ১ লাখ ১৬ হাজার একর ভূমিতে রাবার চাষের প্রয়োজন। ওই সমীক্ষায় দেশের পাহাড়ি এলাকায় রাবার চাষকেই অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত দিক থেকে অধিক লাভজনক বলে মন্তব্য করা হয়েছে। রাবার চাষ পাহাড়ি এলাকায় ভূমি ক্ষয়রোধ এবং বনায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বেকার সমস্যা সমাধান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়/অর্জন ইত্যাদি বৃহত্তর স্বার্থে দেশে রাবার চাষ সমপ্রসারণ নিতান্তই অপরিহার্য।
মধুপুরে রাবার চাষ : উত্পাদনের সব নিয়ামকে পূর্ণ মধুপুর গড়ের উর্বর মাটি রাবার চাষে দেশসেরা অধিক লাভজনক হলেও স্বার্থান্বেষী উচ্চ পর্যায়ের একটি মহলের কারসাজিতে মধুপুরে সময়মত রাবার বাগান করা হয়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাতীয় অর্থনীতি। ১৯৫৪ সালে বনবিভাগ টাঙ্গাইলের মধুপুরে, চট্টগ্রামের হাজেরীখিল ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, পরে সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু রাবার চারা রোপণ করে। প্রতি গাছে উত্পাদন হয় সিলেটে ২ কেজি, চট্টগ্রামে ২.৫ কেজি, মধুপুরে ৩ কেজি। ১৯৬০ সালে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পরে সিলেটে রাবার বাগান করা হলেও ওই স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহলের কারণে উত্পাদন বেশি হলেও মধুপুরে রাবার বাগান করা হয় না। ১৯৮১ সালে রাবার চাষ সমপ্রসারণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তা লাভের পর বাংলাদেশের রাবার চাষের নবদিগন্তের সূচনা হয়। কিন্তু এডিবি’র আর্থিক সহায়তাও মধুপুর রাবার চাষের জন্য পাওয়া যায়নি ওই মহল ও সিআইএ এবং র-এর গুপ্তচর হিসেবে অভিযুক্ত ৫৫ বছর ধরে মধুপুরে অবস্থানকৃত খ্রিস্টান ফাদার হমরিকের বিরোধিতার কারণে বলে জানা যায়। বিষয়টি টাঙ্গাইলের কৃতীসন্তান তত্কালীন কৃষিমন্ত্রী তিলোকত্তমা ঢাকা ও আধুনিক টাঙ্গাইলের রূপকার কর্মবীর বিএনপির নেতা মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানের নজরে আসে। জাতীয় স্বার্থেই তার জেলা টাঙ্গাইলে লাভজনক এ রাবার শিল্পটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। স্বার্থান্বেষী ওই মহলের অনেক বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে তিনি এটি নিয়ে যৌক্তিক লড়াই চালিয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত দৌড়ান। শেষে বাগান করার অনুমতি মিললেও এডিবি’র অর্থ সহায়তা মধুপুর রাবার চাষের জন্য বরাদ্দ হয় না। তারপরও তিনি হাল ছাড়েননি। অক্লান্ত চেষ্টায় শেষে সরকারি অর্থে টাঙ্গাইল শেরপুরের পাহাড়িয়া অঞ্চলে (মধুপুর জোন) রাবার চাষের ব্যবস্থা করান রাষ্ট্রীয়ভাবে। আর এ কাজে তিনি সহযোদ্ধা হিসেবে কাছে পেয়েছিলেন টাঙ্গাইলের আরেক কৃতীসন্তান প্রকল্প পরিচালক এ জোনের প্রথম মহাব্যবস্থাপক মেজর (অব.) মুরাদ আলী খানকে। যার নামও এ জোন প্রতিষ্ঠায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে বনবিভাগের (মধুপুর) কাছ থেকে ৮ হাজার একর জায়গা নিয়ে অবশেষে ১৯৮৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মধুপুর বনাঞ্চলে পীরগাছায় তত্কালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও মাহমুদুল হাসান চারা লাগিয়ে টাঙ্গাইল শেরপুরের পাহাড়িয়া অঞ্চলে রাবার চাষের শুভ উদ্বোধন করেন।
কষ সংগ্রহ : ১র্৮র্ -২র্২র্ বেড়ের গাছে মাটি থেকে ৫ ফুট উপরে = ৩০ ডিগ্রি এঙ্গেলে গাছের অর্ধেক অংশে ১ মিলিমিটার ছাল কেটে দেয়া হয় বিশেষ ধরনের ধারালো ছুরি দিয়ে। ভোরবেলা কেটে কর্তনের র্১-র্২ নিচে তার/গুনার হ্যাঙ্গার বানিয়ে ছোট পাত্র বা বাটি বসিয়ে দেয়া হয়। একে টেপিং বলা হয়। আর এ কাজটি যারা করেন তাদের বলা হয় টেপার। টেপিংয়ের ৩-৪ ঘণ্টা পর কষ সংগ্রহ করে অফিসের লোকদের দ্বারা মেপে অফিসের গাড়ির টাঙ্কিতে তুলে দেয় টেপাররা। টেপিংয়ের এ কাজটি স্থানীয় পুুরুষ-মহিলারাই করে থাকে। এজন্য তারা ৬ টাকা কেজি হিসেবে মূল্য পেয়ে থাকে। একজন টেপার দিনে ৩শ’ করে গাছ টেপিং করার সুযোগ পায়। প্রতি গাছ থেকে সিজন ভেদে ২০০-৫০০ গ্রাম কষ আসে। গড়ে একজন টেপার ৪০-৭০ কেজি কষ সংগ্রহ করে দিয়ে ২০০-৪৫০ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকে প্রতিদিন।
ব্যবস্থাপকের কথা : রাবার শিল্প সম্পর্কে আলাপচারিতায় দেশসেরা মধুপুর জোনের মহাব্যবস্থাপক আঃ হালিম সরকার বলেন, প্রাকৃতিক রাবার বাংলাদেশের জন্য একটি অতি উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় সম্পদ। পাহাড়ি পতিত ভূমিতে রাবার চাষের মাধ্যমে উত্পাদিত রাবার দ্বারা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। রাবার চাষ একটি শ্রমঘন শিল্প হওয়ায় এখানে প্রচুর বেকার যুবক এবং মহিলারও কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে রাবার চাষ লাভজনক শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করে উত্পাদিত রাবার কষ প্রসেসিং করে উন্নত মানের রাবার উত্পাদনের মাধ্যমে এ দেশেই প্রচুর রাবারজাত শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যেতে পারে। দেশে স্থাপিত এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানেও বিপুল সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং শিল্পজাত দ্রব্যও বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হবে। এমএ রউফ মধুপুর (টাঙ্গাইল)
উত্স: http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/25/28942


মধুপুরের চিরতা এখন ভারতে রফতানি হচ্ছে

আনোয়ার সাদাৎ ইমরান, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
মধুপুর গড়ে ভেষজ উদ্ভিদ চিরতার বাণিজ্যিক আবাদ শুরু হয়েছে। এই এলাকার উৎপাদিত চিরতা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে ভারতে রফতানি হচ্ছে। প্রাচীন ও মধ্যযুগ থেকেই কবিরাজ এবং আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় চিরতা মহামূল্যবান ভেষজ পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তিন বছর আগেও হারবাল কোম্পানিগুলো ভারত থেকে ৫-৬ কোটি টাকার চিরতা আমদানি করত। কিন্তু বর্তমানে মধুপুর গড়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চিরতার আবাদ হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চিরতা চাষে একরপ্রতি খরচ হয় ১৫-২০ হাজার টাকা। বিক্রি করে পাওয়া যায় দু'আড়াই লাখ টাকা। খরা বা অতিবৃষ্টিতে চিরতার ক্ষতি হয় না। চৈত্র-বৈশাখে চিরতার বীজ বপন করা হয়। কার্তিক-অগ্রহায়ণে শিকড়সহ চিরতা সংগ্রহ করা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীর পাইকাররা এসে চিরতা কিনে নিয়ে যান। ঢাকার আড়তদাররা মধুপুরের চিরতা এবার ভারতে রফতানি শুরু করেছেন।
আড়তদার শফিকুল ইসলাম জানান, গত বছর ৫ কোটি টাকার চিরতা রফতানি করা হয়েছিল। এবার প্রায় ১১ কোটি টাকার চিরতা রফতানির আশা করা হচ্ছে। মধুপুর কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ জানান, ভেষজ চিরতার আবাদ করে অনেক কৃষক দারিদ্র্য বিমোচনে সক্ষম হয়েছেন। তিনি জানান, চিরতা থেকে মূল্যবান কেফেইন তৈরি হয়। প্যারাসিটামলসহ অর্ধশতাধিক অ্যালোপ্যাথিক, হোমিও ও হারবাল ওষুধ তৈরিতে কেফেইন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, গড় এলাকার মাটি ও আবহাওয়া চিরতা চাষের উপযোগী। লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক চিরতার মতো ভেষজ চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। বাজারজাত ও বিপণন সমস্যা না থাকায় তারা ভালো দামও পাচ্ছেন।

উত্স: http://www.samakal.com.bd/details.php?news=16&view=archiev&y=2010&m=1&d=14&action=main&menu_type=&option=single&news_id=40208&pub_no=218&type=


মধুপুরে আনারসের বাম্পার ফলন, অর্ধশত কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা
ইফতেখারুল অনুপম, টাঙ্গাইল ॥ বাংলাদেশে উৎপাদিত আনারসের বেশির ভাগই উৎপন্ন হয় টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পাহাড়ী বনাঞ্চলে। এবারও মধুপুরে আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। আনারসের মৌসুমের শুরম্নতেই পুরো মুধপুর উপজেলাই আনারসের বৃহৎ বাজারে পরিনত হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আনারসের ফলন ভাল হওয়ায় কৃষক, পাইকার, মহাজন ও ফড়িয়াদের মধ্যে ব্যাপক চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে এ বছর মধুপুরে আনারসকে কেন্দ্র করে অর্ধশত কোটি টাকা বাণিজ্য হবে। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মধুপুরে এ বছর ৭ হাজার ৮শ' ৫ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে। বনাঞ্চলের আলোকদিয়া, আউশনারা, দিগরবাইদ, অরনখোলা, জলছত্র, মোটের বাজার, গারো বাজার, রসুলপুর, পঁচিশ মাইল, ইদিলপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, আনারসের জমিতে কৃষকদের কর্ম ব্যসত্মতা। তারা এখন জমির আগাছা পরিষ্কার ও ফল কাটতে ব্যসত্ম। সূর্য ওঠার আগেই কৃষকরা ভ্যান, রিঙ্াসহ বিভিন্ন যানবাহনে খাচি ভর্তি করে আনারস বাজারে নিয়ে এসে বেঁচাকেনায় ব্যসত্ম হয়ে পড়ছে। মধুপুরের আনারস স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় ঢাকা, কুমিলস্না, পাবনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আনারস কেনার জন্য মধুপুরে আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশে জায়ান্টকিউ, হানিকুইন ও ঘোড়াশাল এই ৩ জাতের আনারস উৎপন্ন হলেও মধুপুরে শুধুমাত্র জায়ান্টকিউ জাতের আনারসই উৎপন্ন হয়। এ জাতের আনারস আকারে বড় হয়, পাকলে লালচে সোনালী রঙের হয়ে থাকে। আর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রচুর রস ও খেতে মিষ্টি। তবে কতিপয় অসাধু কৃষক বিগত মৌসুমগুলোতে জমিতে রাইপেনিং ব্যবহার করত। এতে ফলের স্বাদ ও মান নষ্ট হয়ে যেত। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা চলতি মৌসুমে কৃষকদের জমিতে রাইপেনিং ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে অবহিত করায় কৃষকরা এবার রাইপেনিং ব্যবহার করেননি। একারণে এ মৌসুমে ফলের স্বাদ আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে।
মধুপুরের আনারস বর্তমানে দেশের আনারসের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করলেও ৩ দশক আগেও মধুপুরের পাহাড়ী অঞ্চলের জমি অনাবাদী হয়ে পতিত থাকত। ৮০ দশকের শুরম্নতে মধুপুরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আনারস চাষ শুরম্ন হয়। অল্প পরিশ্রমে অধিক এবং অল্প খরচে দীর্ঘ সময় ধরে ফল পাওয়া যায় বলে মধুপুরে দ্রম্নত জনপ্রিয় হয়ে উঠে আনারস চাষ। আনারস চাষ করে পাহাড়ী এলাকার দরিদ্র জনসাধারণ সাবলম্বী হচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলার ৭ হাজার ৮শ' ৫ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি ৩০ হাজার পিচ আনারসের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৩ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার পিচ আনারস চলতি মৌসুমে পাওয়া যাবে। আনারস বিক্রি, পরিবহন, শ্রমিক, আড়ৎ ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে চলতি মৌসুমে মধুপুরে অর্ধশত কোটি টাকার বাণিজ্য হবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ।
উত্স: http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=34&dd=2010-08-16&ni=29741

যুব ডিজিটাল প্রাথমিক বিদ্যালয়
অরণখোলায় অন্ধকারে আলো জ্বালালেন ১৭ শ্রমিক

মধুপুর গড়ের পাদদেশে বিলঝিল ঘেরা অবহেলিত একটি গ্রাম উত্তর অরণখোলা। দারিদ্র্যপীড়িত শিক্ষাবঞ্চিত এই গ্রামে স্কুল তো দূরের কথা, নেই এসএসসি পাস একজন মানুষও। সর্বোচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি নবম শ্রেণী পাস রাবার বাগান শ্রমিক ফারুক হোসেন আর আবদুল বারেক। অন্যদের বিদ্যার দৌড় প্রাথমিক থেকে সপ্তম শ্রেণী। সেই গ্রামেরই শ্রমিক, দিনমজুর, মাছ ব্যবসায়ী, ভ্যানচালকসহ ১৭ ব্যক্তি কেবল অদম্য ইচ্ছাশক্তির ওপর ভর করে গড়ে তুলেছেন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নাম যুব ডিজিটাল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর স্বপ্নদ্রষ্টা
রাবার বাগান শ্রমিক ফারুক হোসেন। ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে বন্ধু সোহেল রানার সঙ্গে এলাকার বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি গ্রামে কোনো স্কুল না থাকায় শিশুদের দূরের গ্রামে গিয়ে বর্ষার কাদাপ্যাঁক ভেঙে লেখাপড়া শিখতে না পারার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সোহেল সঙ্গী হয়ে যান গ্রামে শিক্ষার আলো জ্বালানোর স্বপ্নের।
গ্রামে শিক্ষার আলো জ্বালাতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে এরপর দু'বন্ধু যোগাযোগ শুরু করেন বিভিন্নজনের সঙ্গে। এক এক করে ১৭ সদস্যের একটি গ্রুপ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠা করে অরণখোলা গ্রামের শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এই স্কুল। সদস্যরা হলেন_ রাবার বাগান শ্রমিক ফারুক হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, আবদুল বারেক, শাহিনুর ইসলাম, আমজাদ হোসেন, সোহেল রানা, দিনমজুর আনোয়ার হোসেন, লিটন মিয়া, মজনু মিয়া, আবদুল মোতালেব, ভ্যানচালক সাইফুল ইসলাম, মাছব্যবসায়ী জুরান আলী, আব্বাস আলী, আন্নাস আলী, আমীর হোসেন। ।
বিদ্যালয়ের যাত্রা
ওই ১৭ শিক্ষাপ্রেমী পাড়া-প্রতিবেশীর বাড়ি বাড়ি ঘুরে শুরু করেন ছাত্র-ছাত্রী সংগ্রহ। কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাও হয়ে যায় অর্ধশতাধিক। কোথায় ওদের ক্লাস নেওয়া হবে এই চিন্তায় যখন তারা উদ্বিগ্ন, ঠিক সেই মুহূর্তে রাবার বাগান শ্রমিক আমজাদ হোসেন রান্নাঘরে আশ্রয় নিয়ে ছেড়ে দেন তার থাকার ঘর। ক্লাস শুরু হয় সেখানেই। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা তো কেউ উচ্চশিক্ষিত নন। কে ওদের ক্লাস নেবেন? শিক্ষক নিয়োগ দিলে তাদের বেতন দেবে কে? সমস্যার সমাধানও বের করেন নিজেরাই। নবম শ্রেণী পাস রাবার বাগান শ্রমিক ফারুক হোসেনকে নির্বাচিত করা হয় প্রধান শিক্ষক। শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন নবম শ্রেণী পাস আবদুল বারেক, সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রাসেল, ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র আমজাদ হোসেন। বাকি সদস্যরা সর্বক্ষণ তদারকি, বিভিন্ন জনের সঙ্গে যোগাযোগ, অর্থ সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর আনোয়ার হোসেনের কাজ ছিল বিভিন্ন হাটবাজারে খেলা দেখিয়ে বিদ্যালয়ের অর্থ জোগান দেওয়া। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ছাত্র-ছাত্রীদের বই, কাগজ, কলম, খাতা, বিদ্যালয়ের জন্য চক, ডাস্টার, বল্গ্যাকবোর্ড কিনে যাত্রা শুরু করে যুব আইডিয়াল স্কুল নামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এই একুশ শতকেও ঢাকা-টাঙ্গাইলের মধ্যবর্তী মধুপুর উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডজুড়ে উত্তর অরণখোলা গ্রামে কেন যে শিক্ষার আলো পেঁৗছেনি আলোকিত একুশ শতকেও, সে এক বিস্ময়। সারাদেশে শিক্ষার আলো ছড়াতে সরকার ও এনজিওসহ কত প্রতিষ্ঠান সক্রিয়! অথচ সাত সহস্রাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই গ্রামটি এখনো অন্ধকারে। গ্রামটির তিন দিকে বিল আর নদী। অপরদিকে মধুপুর বন। গ্রামের চার কিলোমিটার দূরে অরণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিন কিলোমিটার দূরে ভুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চার কিলোমিটার দূরে আমলিতলা রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১০ কিলোমিটার দূরে জাগিরাচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তার ওপর আবার এই গ্রামবাসী অত্যন্ত দরিদ্র। নেই সচেতন হওয়ার সুযোগও।
এ রকম প্রেক্ষাপটে একটি স্কুল ছিল অনিবার্য। সেই অন্ধকার তাড়ানোর কাজে প্রেরণা কোত্থেকে পেয়েছেন এই ১৭ শ্রমজীবী, তার জবাবও পেয়েছেন এ প্রতিবেদক। মাছ ব্যবসায়ী আব্বাস আলীর কাছে ২৫ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বললেন, 'আমি লেখাপড়া করতে পারি নাই। তার জন্য পদে পদে ঠকতাছি। আমরা নিজেরা অশিক্ষিত। তাই বইলা আমাগোর পোলাপান অশিক্ষিত থাকব এইটা হইতে পারে না। এ অঞ্চলের শিক্ষাবঞ্চিত ছেলে-মেয়েগোর কথা ভাইব্যা রাবার বাগানের শ্রমিক ফারুক হোসেন আর সোহেল রানা স্কুল করার ইচ্ছা করে। তখনই আমরা অশিক্ষিত শ্রমজীবী সমবয়সীরা মিইল্যা স্কুল করতে আগায়া আসি।'
বিদ্যালয়ের পাঠদানের সময় নির্ধারণ ও বর্তমান অবস্থা
বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যই শ্রমজীবী। তাই তাদের বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয় বিকেল চারটায়। শেষ হয় সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে। নিয়মিত পাঠদান ও ছাত্রদের কলরবের খবর ছড়িয়ে পড়ে উত্তর অরণখোলা ছাড়িয়ে বিভিন্ন এলাকায়। কেউ সাধুবাদ জানালেও অধিকাংশই বিরোধিতা করতে শুরু করেন। কিন্তু বাড়তে থাকে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা। আমজাদ হোসেনের দেওয়া ঘরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিতে বাধ্য হন তারা। এভাবেই চলতে থাকে তাদের স্বপ্নের বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা। প্রথম সাময়িক, দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শেষ। বার্ষিক পরীক্ষার পরপরই ভাবনা বিদ্যালয়ের স্বীকৃতির জন্য। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেন তারা। বিদ্যালয়ের জন্য জমি সংগ্রহের কঠিনতম কাজটি সহজ করে দেন ওই গ্রামের আবদুস সামাদ ও আলাউদ্দিন মিয়াসহ তার পাঁচ ভাই জমিদান করে। কিন্তু ওই জমি দলিল ও ঘর নির্মাণ করতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। ফলে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ঋণ করেন তারা। প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলীকে স্কুলের সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে।
ইয়াকুব আলী সরকারি বিধান অনুসারে প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। তারা শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীকে পাঠদান করাচ্ছেন। চলতি বছরের শুরুতে স্কুলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় 'উত্তর অরণখোলা ডিজিটাল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়'। ওই বিদ্যালয়ে বছরের শুরুতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল প্রায় আড়াইশ'। বই সংকটের কারণে অনেকেই চলে গেছে। আবার অনেককে ওই শ্রমজীবীরাই বই কিনে দিয়েছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা শতাধিক হলেও সরকারিভাবে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত মাত্র ৪৫ সেট বই পাওয়া গেছে। বাকি বই তারা নিজেরাই কিনে দিয়েছেন। এভাবে এগিয়ে যাওয়া এই বিদ্যালয়টি সরকারিভাবে নিবন্ধন করে উত্তর অরণখোলায় শিক্ষার আলো জ্বালানোর কাজ ত্বরান্বিত করার জোর দাবি জানান শ্রমজীবী উদ্যোক্তারা। এ দাবি এখন ৬২ বছর বয়স্ক মোহাম্মদ আলীর মতো অনেকেরই। তারা সবাই চান বিদ্যালয়টি নিবন্ধিত হোক। এলাকায় শিক্ষার আলো জ্বলুক। নিয়োগপ্রাপ্তদের কর্মসংস্থান হোক।
উত্স: http://www.samakal.com.bd/print_news.php?news_id=55171&pub_no=289


মধুপুর-ভুয়াপুর সড়কে যানবাহন চলে ঝুঁকি নিয়ে

লেখক: গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা | মঙ্গল, ২৬ এপ্রিল ২০১১, ১৩ বৈশাখ ১৪১৮
Details
মধুপুর-ভুয়াপুর ভায়া গোপালপুর সড়কটির এখন করুণদশা। দীর্ঘদিনেও মেরামতের ছোঁয়া না লাগায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর সাথে উত্তর টাঙ্গাইলের মধুপুর, ধনবাড়ি ও গোপালপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সহজ করার জন্য এলজিইডি ১৯৯৪ সালে ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ-সড়ক নির্মাণ করে। পরবর্তীতে এ-সড়কের পাশে কয়েকটি রাইসমিল ও শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠায় ভারি যানবাহন চলাচল শুরু করায় সড়কে চাপ পড়ে। এতে সড়কের মূল অংশ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ২০০৪ সালে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত এবং ভারি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও তা কেউ মানেনি। বর্তমানে সড়কের গোপালপুর- মধুপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে সড়কের কোনো অস্তিত্বই নেই। ইট-খোয়া মাটির সাথে মিশে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। রাhttp://www.blogger.com/img/blank.gifতে ভাঙাচোরা সড়কে চলাচলকারী ধীরগতির যানবাহন থামিয়ে দুর্বৃত্তরা ডাকাতি করে। এলজিইডি জানায়, সড়কটির দেখ-ভালের দায়িত্ব সমপ্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগ গ্রহণ করায় তাদের কিছু করণীয় নেই।
Source http://new.ittefaq.com.bd/news/view/10637/2011-04-27/45